প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

`ড্রাকুলা’ দম্পতি!

দেবদুলাল মুন্না: শিরোনাম দেখে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক। ড্রাকুলা রক্ত চোষা এক ফিকশন চরিত্র। রাত গভীর হলেই ভ্যাম্পায়ার বেশে কিংবা মানুষের বেশে রক্তের সন্ধানে বের হয়। রক্ত লাগবেই।

ঢাকা শহরে এমন দম্পতি রয়েছেন যাদের রাত নেই দিন নেই রক্ত চাই। রক্তের সন্ধ্যানে কখনও ফেসবুক, কখনও কারও বাড়িতে, কখনও হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে হাজির হয়ে যান।

অবাক হচ্ছেন পাঠক? এত রক্ত দিয়ে উনারা কী করেন? তারা রক্ত লাগবে এমন অসুস্থ মানুষের জন্য রক্তের সন্ধান করেন। দেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজনে মানুষকে বিনামূল্যে সেবার হাত বাড়িয়ে দেন নজরুল ও প্রিয়া। এই দম্পতির জীবনের লক্ষ্যই হচ্ছে রক্তের জন্য যেন একটি প্রাণও না হারায়।

নজরুল ইসলাম পেশায় একজন চাকুরীজীবী এবং নাজনীণ প্রিয়া গৃহিণী। দু’জনের পরিচয় এই রক্তের সন্ধানেই। ২০০০ সাল থেকেই নজরুল নিজ গ্রাম ভৈরবে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করে আসছেন। অল্প বয়স থেকেই তিনি দেখে আসছেন নিম্ন আয়ের মানুষের রক্তের প্রয়োজন পড়লে পেতে খুবই সমস্যা হয়। ২০০৬ সালের দিকে শুরু করেন রক্ত সৈনিক নামক সংগঠন। লক্ষ্য ছিল ব্লাড গ্রুপিং করা তাও আবার বিনামূল্যে।

নজরুল নিজে বাইসাইকেলে করে তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ গেছেন। পথে পথে করেছেন ব্লাড গ্রুপিং এবং দাতা সন্ধান। ধীরে ধীরে তার সাথে পরিচয় হয় আরেক রক্ত সন্ধানী সুব্রত দেবের সাথে। তারই উদ্যোগে মুলত অফলাইন প্রচারণা থেকে অনলাইনে চলে আসেন। কাজ শুরু করেন ‘রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ এর ব্যানারে। ফেসবুক ভিত্তিক এই গ্রুপে সেচ্ছায় রক্তদানের জন্য সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। রক্তের প্রয়োজনে দাতা খোঁজাই গ্রুপের মুল উদ্দেশ্য। শুধু গ্রুপের কর্তা নন রক্তদাতার সন্ধানে লেগে পড়ে গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরাও।

শুধু দাতা সন্ধান নয় এর পাশাপাশি কাজ করছে প্রচারনার। কারা রক্ত দান করতে পারবেন, কেন করবেন এবং রক্তদান নিয়ে কিছু ভুল ধারনার প্রচারনার কাজও তারা করে থাকেন। এছাড়া অনলাইনে ওয়েবসাইট www.donatebloodbd.com এ রক্তদাতা নিবন্ধনের মত কাজও করা হচ্ছে। যেখানে যে কেউ চাইলে রক্তদাতা সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারবে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার রক্তদাতা নিবন্ধিত রয়েছে তাদের কাছে।

এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হওয়ার জন্য প্রায় এক বছর আগেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে রক্তদানের কল সেন্টার। সকাল ৮ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত চলে কলসেন্টারের সেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। দিনের বেলা প্রিয়াই কল সেন্টার পরিচালনা করেন। আর নজরুল তার অফিস ছুটির পরপরই।

দু’জনেরই মনের মিল বেশ ভালো বলে এ কাজে আরও অনুপ্রেরণা পান বলে জানান প্রিয়া। অন্যদিকে নজরুল বলেন, মানুষের জন্য ভালো কাজ করলে ভালোবাসা পাওয়া যায়। তাদের লক্ষ্য এতটাই দৃঢ় যে ছুটির দিনেও তাদের নিজেদের সময় কাটান কোনও না কোনও হাসপাতাল পরিদর্শনে।

আর কার কবে রক্ত দেওয়ার দিন চলে এসেছে সেটিও মনে করিয়ে দেন কল সেন্টার থেকে। নজরুল নিয়মিত প্লাটিলেট দেন। দু’জন মিলে আয়োজন করেন রক্তদানের অসংখ্য ক্যাম্পেইন।

আমৃত্যু এমন কাজের সঙ্গেই থাকতে চান এই দম্পতি। দেশের মানুষের মধ্যে রক্তদান ও গ্রহণ বিষয়ক সচেতনতা জাগিয়ে তোলাটাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য। রক্তের অভাবে যেনও কেউ মারা না যায় এটিই তাদের চাওয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ