প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নাটকীয় যাত্রা

বিভুরঞ্জন সরকার : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী জোট নয় এবং তিনি কোনো রাষ্ট্রীয় পদে যেতে চান না। এমনকি তিনি এমপি পদেও দাঁড়াতে চান না। ঐক্যফ্রন্টের লক্ষ্য ‘অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়’। কামাল হোসেনের এই বক্তব্যের পর বিএনপির বুক থেকে নিশ্চয়ই একটা বড় পাথর নেমে গেছে। যদি ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনী জোট হতো, তাহলে শরিক দলগুলোর জন্য আসন ছাড়তে হতো। আসন ছাড়া নিয়ে বিবাদ দেখা দিতো এবং আবার হয়তো ভাঙনের মুখে পড়তো এই ফ্রন্ট। এখন যেহেতু জানা গেলো, এটা ভোটের জোট নয়, দাবি আদায়ের জোট; তখন সিট ভাগাভাগির প্রশ্ন আর আসবে না।

বিষয়টি এক সাংবাদিক বন্ধুকে বলতেই তিনি বললেন, আরে বলেন কী! এটা তো কামাল হোসেনের কথা। কিন্ত ফ্রন্টে শরিক অন্যরা তার সঙ্গে একমত কিনা সে খবর আগে নেন। ড. কামাল নির্বাচন না করতে পারেন কিন্তু আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুরÑ এরা তো নির্বাচন করবেন। তারা তো এমপি হতে চান। যদি এমপিই না হতে পারেন তাহলে আর এতো চেষ্টা-তৎপরতা কেন?

সাংবাদিক বন্ধু বললেন, দেখেন কামাল হোসেনের এই বক্তব্য নিয়ে ফ্রন্টে আবার সংকট দেখা দেয় কিনা।

যে যাই বলুক, ঐক্যফ্রন্ট গঠনকে ব্যক্তিগতভাবে আমি স্বাগত জানাই। এই ফ্রন্ট গঠনের কারণে দেশের মানুষ কতো নতুন তথ্য জানতে পারছে। ফ্রন্টে যাওয়া না-যাওয়ার বিরোধে বিকল্প ধারা ভেঙে গেলো। দেশের মানুষ জানতে পারলো, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান এবং মাহী বি চৌধুরী ছাড়াও এই দলে আরও নেতা আছেন। তারা ওই তিনজনকে বহিষ্কার করে একটি নতুন কমিটিও করেছেন। ওই ভগ্নাংশের সভাপতির দায়িত্ব যিনি পেয়েছেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক।

ঐক্যফ্রন্ট যেহেতু দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়েছে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে কর্মসূচি দিচ্ছে; সেজন্য ফ্রন্টের নেতাদের কাছে একটি দাবি পেশ করতে চাই। এখন অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগ, কোনো কিছু গোপন করা চলবে না। বিএনপি ছাড়া ঐক্যফ্রন্টে শরিক অন্য দলগুলোর পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি আছে কিনা, থাকলে তাদের নাম-পরিচয় দেশের মানুষকে জানানো হোক। এদের মধ্যে কয়জন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো, তাও সবাইকে জানানো হোক। তাহলে তাদের ব্যাপারে দেশবাসী সবকিছু জানতে পারবেন। নেতাদের সম্পর্কে সব তথ্য জানা থাকলে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়। এই তথ্য কি দলগুলো সরবরাহ করবে?

ঐক্যফ্রন্ট না হলে আমাদের জানা হতো না যে, আমাদের ‘সুশীল’ সমাজের উজ্জ ল দুই প্রতিনিধি মানুষ হিসেবে আসলে কেমন! গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র খ্যাত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী যে মিথ্যা ভাষণে অভ্যস্ত, তা কি কেউ জানতে পারতো? সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিতে দ্বিধা করেন না, অন্য ব্যাপারে তিনি কী করতে পারেন তা সহজেই অনুমেয়। বেচারা এবার ফেঁসে গেছেন।

ফেঁসেছেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনও। সাংবাদিকতা জগতের প্রবাদপুরুষ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার পুত্র হিরু মিয়া বিলাত থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে এলেও সভ্যতা-ভব্যতা যে শিখে আসেননি সেটাও আমাদের অজানা ছিলো। নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে যে ভাষায় তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন, সেটাও ছিলো অভাবিত। ব্যারিস্টার মইনুল ভেবেছিলেন তিনি যেহেতু মানিক মিয়ার ছেলে তাই তিনি যা করবেন, যা বলবেন তা-ই সবাই বিনাবাক্য ব্যয়ে মেনে নেবে।

না, এবার তার ঔদ্ধত্য বিনা চ্যালেঞ্জে গেলো না। এখন তিনি জেলে।

ঐক্যফ্রন্ট না হলে এতো অল্প সময়ে এতো নাটকীয়তা কি আমরা দেখতে পেতাম? সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ