প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যারিস্টার মইনুল গ্রেপ্তার- ‘বিশ্বাস’ করা যায়

দীপক চৌধুরী : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি গ্রেপ্তার হতে পারেন বা তিনি গ্রেপ্তার হবেন, এটা অনেকে বিশ্বাসও করেননি। কারণ, কে না জানে, তিনি সাংঘাতিক ক্ষমতাবান ব্যক্তি। একদিন আগেও তা ছিল অবিশ্বাস্য ব্যাপার। সম্ভবত এজন্য বলা হয়ে থাকে, বাংলাদেশে যে কখন কী হয় কিছুই অগ্রিম বলা সম্ভব হয় না। আমরা জানি, নিজের ক্যাম্পাসেই হামলাকারীর আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক এবং লেখক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

চোখ বন্ধ করে বলা যায়, আক্রমণকারীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাফর ইকবালকে হত্যা করা। অবশ্য এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি যে, তাঁর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় সঙ্গে থাকা পুলিশ উপস্থিত থাকার পরও রেহাই পেলেন না জাফর ইকবাল। দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হওয়ার কথা ছিল সবার জন্য নিরাপদ; এর উল্টো চরিত্রই দেখছি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। সুতরাং হিসেবে ভুল করা যাবে না। সতর্ক থাকতেই হবে এসময়। যা বলছিলাম, মইনুলকে গ্রেপ্তার নিয়ে এখন নানা কথা শোনা যাচ্ছে কারো কারো মুখে। কেউ কেউ বলেছেন, নারীর প্রতি অসম্মান উক্তি করে শামীম ওসমানকে তো গ্রেপ্তার করা হয়নি কিংবা কামাল আহমেদ মজুমদারকে। তারা কেউ কী প্রকাশ্যে ব্যারিস্টার মইনুলের মতো কোনো নারীকে চরিত্রহীন বলেছিলেন? না, তা বলেননি। তারপরও নানাকাহিনী টেনে আনা হচ্ছে।

১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের টক শোতে আলোচকদের একজন ছিলেন সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টি। একপর্যায়ে লাইভে যুক্ত হন আইনজীবী মইনুল হোসেন। এ সময় মইনুলের কাছে মাসুদা ভাট্টির প্রশ্ন ছিল, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আলোচনা চলছে, আপনি সদ্য গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে এসে জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না?’ মইনুল হোসেন এ প্রশ্নের জবাব দেওয়ার একপর্যায়ে মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে মন্তব্য করেন। আবার অন্যদিকে অনেকে খুশি হয়ে এমন ব্যাখ্যাও করেন যে, মইনুলকে গ্রেপ্তার করাকে আইনের শাসন বলা যায়। অবশ্য অনেকে প্রকাশ্যে চরিত্রহীন বলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোভাবও জানতে আগ্রহী ছিলেন। কারণ, নারীর ক্ষমতায়নে সারা বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও সৎ প্রধানমন্ত্রী তিনি। সাংবাদিকেরা সুযোগ পান বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করার। গত সোমবার বিকেল ৪টায় গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মইনুল হোসেনের বক্তব্যের সমালোচনা করেন, তাঁর সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। মইনুল যখন মামলায় গ্রেপ্তার হলেন এরপরই বাজারে ভেসে বেড়ায় সেই কথা, ‘ওয়ান ইলেভেনের সময় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন কী ক্ষমতাই না দেখিয়েছেন!’ তখন দেশের দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু তাই নয়, ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে আগে নয়, আগে গ্রেপ্তার করা হয় বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনাকে, এরপর জেলেও পাঠানো হয়। তাঁকে দেশে ঢুকতে না দেওয়ার কৌশলেও মইনুল ছিলেন সর্বাগ্রে। এ জন্যই মনে হয় বলা হয়ে থাকে, ‘গণেশ’ কখনো কখনো ওল্টে যায়।’

শানা যায়, একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিবেশ-প্রতিবেশ উত্তপ্ত করার জন্য নানারকম পদক্ষেপ নিচ্ছে অশুভ শক্তি। বিএনপির কোন্ ‘রগ’ কোথায় তা জানে এদেশের মানুষ। সুতরাং মস্তিষ্ক ঠা-া করে এগেুনোর সময় এখন। গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই মুহূর্তে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত চক্রের একমাত্র একমাত্র কর্ম ষড়যন্ত্র করা। কীভাবে একাদশ নির্বাচনে একটা ‘গড়বড়’ লাগানো যায়। দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দলের সিংহভাগ নেতা এখন চিন্তিত নয়, তারা ভবিষ্যত সময়ের হাতেই ছেড়ে দিয়েছেন। কারণ, বিএনপির অনেক নেতা জানেন, একাদশ নির্বাচনে তারা সুবিধা করতে পারবেন না। কিছু নেতা অবশ্য লন্ডনের নিদের্শে দল চালাতে এখনো বদ্ধ পরিকর। মইনুল হোসেন ‘ইস্যু’ বানাতে কলকাঠি নাড়া হচ্ছে ল-নে বসে, এটিও মাথায় রাখা দরকার।

লেখক : উপ-সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি , কলামিস্ট ও ঔপন্যাসিক/সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ