প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাস্তার পাশে ময়লার ‘পাহাড়’

কালের কন্ঠ : ‘নোংরা ময়লার এমন ভাগাড় একবার দেখলে আজীবন মনে থাকবে। আর দুর্গন্ধ অন্তত কয়েক ঘণ্টা নাকে ছুঁয়ে থাকবে।’ ‘এই জায়গাটা আমরা নাক ধরে পার হই। আমরা এখন অভ্যস্তই হয়ে গেছি।’

প্রথম কথাটি তারাকান্দা উপজেলার স্কুলশিক্ষক এনামুল হকের। আর দ্বিতীয় কথাটি বললেন গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা সাংবাদিক আরিফ আহমেদ।

আলোচিত জায়গাটি ময়মনসিংহ শহরের ব্রহ্মপুত্র সেতুর পূর্ব পাশে ময়মনসিংহ-শম্ভুগঞ্জ সড়ক ঘেঁষে। পৌরসভার (বর্তমানে সিটি করপোরেশন) ময়লা ফেলার নির্ধারিত এ জায়গা ময়মনসিংহের জন্য বদনামের কারণ হয়ে উঠেছে। এ পথে যাতায়াতের সময় প্রায় সবাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর শম্ভুগঞ্জ সেতু হয়ে ময়লা ফেলার জায়গাটির পাশ দিয়ে শেরপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ জেলা এবং ময়মনসিংহ জেলার উত্তর অংশের ছয়টি উপজেলার অন্তত এক লাখ মানুষ বিভিন্ন যানবাহনে (বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, টেম্পো) যাতায়াত করে প্রতিদিন। হেঁটেও যাতায়াত করে অনেকে। বর্তমানে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত শম্ভুগঞ্জ বাজারের হাজারো ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর যাতায়াত ময়মনসিংহ-শম্ভুগঞ্জ সড়ক দিয়ে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে জায়গাটিতে এসে সবাই নাক চাপা দেয়, মুখ ঘোরায় অন্যদিকে। হা-হুতাশ করে, ক্ষুব্ধ হয়। ময়মনসিংহবাসীর স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। গরমের দিনেও বাসগুলোর জানালা বন্ধ রাখে দুর্গন্ধ এড়ানোর জন্য।

১০-১২ বছর ধরে শম্ভুগঞ্জ সেতুর কাছে হাতের ডান দিকে সড়কের ধারে নিচু ওই জায়গায় ময়লা ফেলছে পৌরসভার ট্রাক ও ভ্যানগুলো। ময়লার স্তূপ জমতে জমতে তা এখন ‘পাহাড়’ সমান। ময়লা উপচে এসে পড়ছে সড়কের ওপরে। সড়কের অন্য পাশেও এখন ময়লা জমছে। সেখানকার বাতাসে প্রতিনিয়ত মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে ময়লা।

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত শওকত আলী বলেন, ‘এ জায়গায় এসে নাক বন্ধ করে ফেলি। চোখও বন্ধ করে ফেলি।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘অন্য জেলার মানুষজন এ জায়গায় এসে ময়মনসিংহের প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিকদের রুচিবোধ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’ তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বছরের পর বছর একটি ব্যস্ত সড়কের পাশ ঘেেঁষ এভাবে স্তূপাকারে ময়লা ফেলা হয় কিভাবে!’

জায়গাটির জন্য সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী শম্ভুগঞ্জ এলাকাবাসী। বছর দুয়েক আগে শম্ভুগঞ্জবাসী মানববন্ধনও করেছিল সেখান থেকে ময়লার স্তূপ সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে। শম্ভুগঞ্জের বাসিন্দা বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ ময়মনসিংহ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক আল মামুন খোকন বলেন, ‘যখন ওই স্থানে যানজট হয়, তখন যাত্রীরা যে কষ্ট সহ্য করে তা বলার মতো নয়।’

ময়মনসিংহ জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন পরীক্ষিত কুমার বলেন, ‘এ স্থানটি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এমন উৎকট দুর্গন্ধের জন্য এ পথ দিয়ে যাতায়াত করা লোকজন বিভিন্ন সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে। বিশেষ করে শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগের ঝুঁকি এখানে খুব বেশি।’

নবগঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (সাবেক পৌর মেয়র) ইকরামুল হক টিটু বলেন, একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য তাঁরা কাজ করছেন। জমি অধিগ্রহণ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এসব বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জৈবসার তৈরির প্রকল্পও বিবেচনায় আছে। এসব বিষয় বাস্তবায়ন হলে ময়লা সমস্যাটির সমাধান হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ