প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘চূড়ান্ত আন্দোলনের’ ঘোষণা সিলেটে!

কালের কন্ঠ : জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আজ বুধবার সিলেটে। ঐক্যপ্রক্রিয়া শুরুর পর এটিই তাদের প্রথম কর্মসূচি। সিলেট থেকে ‘চূড়ান্ত আন্দোলন’-এর ঘোষণা আসতে পারে বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের একাধিক নেতা। তবে তার আগেই সিলেটে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা, একাধিকবার আবেদন করেও সমাবেশের অনুমতি না পাওয়া, হাইকোর্টে রিট, অবস্থান পরিবর্তন করে পুলিশের অনুমতি প্রদানসহ নানা কারণে সিলেটে আলাদা মনোযোগ কেড়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা গতকাল সিলেটে পৌঁছেছেন।

এদিকে আজ সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশস্থলের পাশে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে নগরজুড়ে। অন্যদিকে সমাবেশ সফল করতে গতকাল নগরে লিফলেট বিতরণ করেছে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি। তারা অভিযোগ করেছে, বাসাবাড়িতে তল্লাশি অভিযানের নামে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে পুলিশ।

সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা করতে আজ সিলেটে সমাবেশ করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী রেজিস্ট্রারি মাঠে আজ দুপুর ২টায় সমাবেশ হওয়ার কথা। সমাবেশ সফল করতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। মামলা ও গ্রেপ্তার আতঙ্ক মাথায় নিয়ে সিলেটের সমাবেশ সফল করতে তারা তৎপরতা চালাচ্ছে। নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের সামর্থ্য জানান দিতে শোডাউনের প্রস্তুতিও নিয়েছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। গতকাল দুপুরে নগরের বন্দরবাজার এলাকায় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ সফল করতে লিফলেট বিতরণ করেন জেলা ও মহানগর বিএনপি নেতারা। বিকেল ৩টার দিকে নগরের মিরবক্সটুলা এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী ও বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরী। সমাবেশ সফল করতে দিনব্যাপী লিফলেট বিতরণ করা ছাড়াও নগরে মাইকিং করা হয়। গতকাল সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী। সমাবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলাদা চিঠিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার এবং মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি ওসমানীর কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু করবেন দলের শীর্ষ নেতারা। এরপর দুপুর ২টায় রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ করবেন।

সিলেটের সমাবেশ সফল করতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতা এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঐক্যফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেবেন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ ছাড়া গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির পক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) পক্ষ থেকে দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরামের পক্ষে দলটির নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, নাগরিক ঐক্যের পক্ষে দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার পক্ষে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ উপস্থিত থাকবেন।

সিলেটের সমাবেশ সমন্বয় করার জন্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য মো. শাজাহান ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তুতি সম্পর্কে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘আগামীকালের (আজ বুধবার) সমাবেশ সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভাগের জেলা-উপজেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমাবেশে আসবে।’

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ বলেন, ‘গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় দল-মত-নির্বিশেষে আমরা সর্বস্তরের সিলেটবাসীর সহযোগিতা চাই।’

আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচি

সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশস্থলের পাশে সরকারের উন্নয়ন প্রচারণার লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি দিয়েছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ গতকাল দুপুর ২টায় হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে এই ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি লিফলেট বিতরণ করে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রচারণা শুরু করেন। মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, ‘সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের আজকের এ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আগামীকাল (আজ বুধবার) সকাল ১১টায় কোর্ট পয়েন্টে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হবে।’

আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচিস্থলের ৩০০ গজ দূরে রেজিস্ট্রারি মাঠে দুপুর ২টায় সমাবেশ কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মিসবাহ সিরাজ বলেন, ‘এতে কোনো সংঘাতের আশঙ্কা করছি না আমি।’

এ বিষয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ ও আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত স্থানগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।’

বহু নাটকীয়তার পর সিলেট মহানগর পুলিশ গত রবিবার ১৪ শর্তে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশের অনুমতি দেয়। যদিও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে প্রথমে ২৩ অক্টোবর সিলেটে সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসনের কাছে অনুমতিও চাওয়া হয়। কিন্তু অনুমতি না মেলায় সমাবেশের কর্মসূচি এক দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ