প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কঠোর অবস্থানে যাবে ডিআইএফই
অনিরাপদ পোশাক কারখানা বন্ধে বিভক্ত মালিক সংগঠনের নেতারা

আরিফুর রহমান তুহিন: অনিরাপদ পোশাক কারখানা বন্ধে সরকারের থেকে নির্দেশনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে দ্বিমত মালিক সংগঠনগুলো। একটি পক্ষ অনিরাপদ কারখানা বন্ধে কিছু দিন সময় দিতে চাইলেও কোনো কারখানা বন্ধের পক্ষপাতি নয় আরেকটি অংশ। বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মতে, মুখে বলা আর বাস্তবে বন্ধ করা এক কথা না। বর্তমানে দেশে সেরকম ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কারখানা নেই।

দেশের চলমান পোশাক কারখাগুলোর মধ্যে এখনো ২১৫টি কারখানা অনিরাপদ রয়েছে এমন তথ্য উঠে আসে শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীন কল-কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) জরিপে। তারা কারখানগুলোর বন্ড ট্রান্সফার সুবিধা বাতিল করাতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে চিঠি দেয়। সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পরপরই বিকেএমইএ উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বিজিএমইএর একটি পক্ষ এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এর প্রভাব পরে বিকেএমইএতে। তবে বিকেএমইএ প্রাথমিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারলেও বিজিএমইএ মালিকদের পক্ষে অবস্থানের সিদ্ধান্ত নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিএমইএ’র এক নেতা বলেন, এত সমস্যা মোকাবিলা করার পরেও এখনো যারা কারখানার মানোন্নয়ন করতে পারেনি তাদেরকে আর ব্যবসা করতে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত না। এরা কখনোই এর উন্নয়ন করবে না। বিজিএমইএর বৃহৎ একটি অংশ এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে থাকলেও বর্তমান কমিটির কিছু প্রভাবশালি সদস্য তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে অনেকদিন নির্বাচন না হওয়ায় কিছুটা নৈতিক অবস্থানে দূর্বল থাকা বর্তমান কমিটি কারো শত্রু হতে চাইছে না। কিন্তু দেশের স্বার্থে এটা করা উচিত। নইলে শিল্পের স্বার্থ আরো হুমকিতে পড়বে।

এ বিষয়ে গত ১৬ অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চিঠি দেওয়া, মুখে বলা আর জরিপ করা খুব সহজ। কিন্তু অনেক কারখানার সন্তোষজনক উত্তর আছে। এখন আর কোনো অনিরাপদ কারখানা চলছে না। এই অবস্থায় (যতটুকু খারাপ অবস্থায় রয়েছে) কারখানা বন্ধ করে দিতে হবে – তা তো না। চলমান কোনো কারখানা বন্ধ হতে দেব না। আর দুইশ’ কারখানা একদিনে বন্ধ করে দেওয়া সহজ নয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্ততকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সহ-সভাপতি ফজলে শামিম এহসান বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য এখনো অনেক কারখানার বিষয়ে অভিযোগ আসছে। বিকেএমইএর সদস্যভূক্ত এমন প্রায় ৮৬টি কারখানা রয়েছে। তাদের একটি অংশ এখনই এগুলো বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেও বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে তাদেরকে কিছুদিন সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যারা উন্নয়ন করতে পারবে না তাদের ব্যবসা করার প্রয়োজন নেই। দেশের স্বার্থ সবার আগে।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সূত্র জানায়, রানা প্লাজা ধসের ৫ বছর পার হলেও বিদেশে এ দেশের পোশাক কারখানা নিয়ে খারাপ ধারণা রয়ে গেছে। এখনো ইউরোপিয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনেক অঞ্চলের নাগরিকরা বাংলাদেশি পণ্যের উপর থেকে নেতিবাচক দৃষ্টি দৃষ্টিভঙ্গি দূর করতে পারেনি। এ কারণে অনেক ক্রেতা বাংলাদেশে তৈরি (গধফব রহ ইধহমষধফবংয) লেভেল লাগায় না। অন্যদিকে ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্স এখনো দাবি করে আসছে এদেশের কারখানাগুলো এখনো সম্পূর্ণরূপে পরিবেশবান্ধব হতে পারেনি। যদিও মালিকপক্ষ তাদের এই দাবি অস্বীকার করে আসছিলো। এর মধ্যেই এমন সঙ্কটে পরলো দেশের প্রধান রপ্তানি আয় ও সর্ববৃহৎ এই শিল্প।

এ বিষয়ে ডিআইএফই’র মহাপরিদর্শক সামছুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, আমরা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র সঙ্গে বৈঠক করবো। এরপর ইস্যুটি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসব। এর মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে চূড়ান্তভাবে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেব।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ