প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচন বানচালের জন্যই ৭ দফা ও সংলাপের দাবি

প্রথম আলো : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন বানচাল করার জন্য সাত দফা দাবি ও সংলাপের কথা বলছে ঐক্যফ্রন্ট। অথচ এ মুহূর্তে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া সংলাপ করার মতো সময় এবং পরিবেশও নেই। গতকাল মঙ্গলবার সমকালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে যা বলবেন, তাই মানবেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। এর কোনো বিকল্প নেই তার সামনে। বিকল্প কিছু করার মতো সামর্থ্য, শক্তি কিংবা জনভিত্তিও নেই তার। ড. কামাল মুখে যাই বলুন না কেন, তার সঙ্গে বাস্তবতার কতটুকু মিল রয়েছে- সেটাই বিবেচ্য বিষয়।

বিএনপি, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও নাগরিক ঐক্যের সমন্বয়ে গড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা মেনে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ওই সাত দফার প্রতিটি দাবি রীতিমতো অলৌকিক এবং সংবিধানবহির্ভূত। সুতরাং একটি দাবিও মেনে নেওয়া হবে না। এসব দাবি মানার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই, সুযোগও নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে গতকালই দুই বছর পূর্ণ করেছেন ওবায়দুল কাদের।

সংলাপ করার মতো সময় এবং পরিবেশ নেই

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে সংলাপের দাবি জানিয়ে চিঠি দেওয়ার কথা বলেছেন ড. কামাল হোসেন। সাক্ষাৎকারে এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট বলেন, সংলাপের দাবি করাটা

একেবারেই অবাস্তব। এ মুহূর্তে সংলাপের কোনো প্রয়োজন নেই। তাছাড়া নির্বাচনের সময় একেবারেই ঘনিয়ে এসেছে। এ অবস্থায় সংলাপ করার মতো সময় এবং পরিবেশও নেই।

সরকারি দলের অন্যতম এই নীতিনির্ধারক বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল কিংবা অশান্ত পরিবেশ বিরাজ করছে না। দেশজুড়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক শান্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় কেন সংলাপ করতে হবে? আসলে সংলাপের নামে অশুভ খেলার ষড়যন্ত্রের চক্রান্ত করা হচ্ছে। এর পেছনে অসৎ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রও হতে পারে। আবার নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার চক্রান্তও থাকতে পারে।

নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে

ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। ওই নির্বাচন অবশ্যই শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হবে না। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনীতিতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে। জাতীয় সংসদ বহাল থাকবে। তবে সরকারের কেউ কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। এমনকি মন্ত্রী-এমপিরা সার্কিট হাউসও ব্যবহারের সুযোগ পাবেন না।

‘সবাইকে অবশ্যই নির্বাচন সংক্রান্ত আচরণবিধি মেনে চলতে হবে’- এই নির্দেশনার কথা জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, কেউই নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করতে পারবেন না। এমনকি নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিতে না থাকলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন কিংবা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার সুযোগ পাবেন না। ওই সময়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা শুধু নিয়মতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা দেবেন।

নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণের জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে কোনো ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। যখনই নির্বাচন হোক না কেন- সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে আওয়ামী লীগ। এ জন্য এরই মধ্যে নির্বাচন-সংক্রান্ত সব ধরনের সাংগঠনিক প্রস্তুতি প্রায় শতভাগ গুছিয়ে আনা হয়েছে। পুরোদমে গণসংযোগ করা হচ্ছে। নির্বাচন পর্যন্ত গণসংযোগের এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

সমুচিত জবাব দেবে সরকার

সাক্ষাৎকারে ওবায়দুল কাদের বলেন, তথাকথিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আন্দোলনের কথা বলতেই পারে। কিন্তু দাবি আদায়ের বেলায় সরকারকে বাধ্য করার ক্ষমতা তাদের নেই। তবে আন্দোলনের নামে সহিংসতা কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড করা হলে জনগণ অতীতের মতো আগামীতেও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের দুর্গ গড়ে তুলবে। সরকারও পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে থাকবে।

পাঁচমিশালি ও জগাখিচুড়ি ঐক্যের উপযোগিতা নেই

ঐক্যফ্রণ্টের পুরোভাগে থাকা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখভাল করেছেন ড. কামাল হোসেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাও ছিলেন। এমনকি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ থেকে বেরোনোর পর তার জনপ্রিয়তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, সংবিধান প্রণয়নের বেলায় ড. কামাল হোসেনের ভূমিকা থাকলেও এখন তিনি সংবিধানবিরোধী কথা বলছেন। সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তির দোসর বিএনপির সঙ্গে মিলেছেন। জোট করেছেন। অথচ এই বিএনপিই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল। ইনডেমনিটি দিয়ে ওই খুনিদের রক্ষা করেছিল। এরাই ২০০৪ সালের একুশ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্তে মেতেছিল। ওই গ্রেনেড হামলায় জড়িত ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই গ্রেনেড হামলাকারী তারেক রহমানের সঙ্গে কীভাবে হাত মেলালেন ড. কামাল হোসেন? ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন ড. কামাল হোসেনের নীতিনৈতিকতা কোথায় গেল?

সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গঠিত ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, গতবারের বিষয়টা ছিল একবারেই ভিন্ন। ওই সময়ে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হয়ে গিয়েছিল, তার ভিন্ন প্রেক্ষাপটও ছিল। বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয় ছিল। সংসদে তাদের প্রতিনিধিত্বও ছিল। এবার সে পরিস্থিতি নেই। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভার আকারে বড় কোনো পরিবর্তন নাও আনা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অপরাধের শাস্তি পেতেই হবে

সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের গ্রেফতার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সুনির্দিষ্ট মামলার কারণে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে তার সংশ্নিষ্টতা এখানে কোনো বিষয় নয়। ব্যারিস্টার মইনুল একজন নারী সাংবাদিককে জড়িয়ে নোংরা মন্তব্য করেছেন। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। সুতরাং অপরাধের শাস্তি পেতেই হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ