প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘চূড়ান্ত ক্র্যাকডাউন শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী’

ইত্তেফাক : বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চূড়ান্ত ক্র্যাকডাউন শুরু করেছে। এ যেন বাতি নিভে যাওয়ার আগে হঠাৎ জ্বলে উঠা। গুপ্তহত্যা, বিচারবর্হিভুত হত্যা, গুম, খুন, বিরোধী মত দলন-নিপীড়নের সঙ্গে দেশজুড়ে চলা গণগ্রেফতারের গতি এখন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

মঙ্গলবার নয়া পল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুধু অপশাসনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলার কারণেই রাতে কোর্ট বসিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে সরকারের উচ্চ মহলের নির্দেশে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এটা সকলের কাছে পরিষ্কার।

‘দেশে সময় মতো নির্বাচন হবে। বর্তমান মন্ত্রী পরিষদ বহাল থাকবে। যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলার ক্ষমতা আওয়ামী লীগ ও সরকারের আছে’ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে দেয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে- তিনি সুষ্ঠু ও সবদলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চান না, গায়ের জোরে নির্বাচন করতে চান। জোর করে ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চান। এ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবেও না।আমি পরিষ্কার বলে দিতে চাই আরেকটি একতরফা নির্বাচন হবে না, এদেশের মানুষ হতে দিবে না। সিটি নির্বাচনের স্টাইলে নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আগেই বলেছিলাম দেশজুড়ে ফের গুপ্ত হত্যা শুরু করেছে সরকার। এবার নারায়ণগঞ্জে ৪ জনকে হত্যার পর গুলিবিদ্ধ লাশ ফেলে রাখা হয় সড়কের পাশে। আজকে গণমাধ্যমের শিরোণাম হলো, রাতে ফাঁড়িতে, সকালে সড়কে লাশ। ৪ জনকেই ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। ফাঁড়িতে গিয়ে তাদের স্বজনরা তাদের খাবারও দিয়ে এসেছিল। সকালে গুলিবিদ্ধ, থেঁতলানো লাশ মিলল সড়কের পাশে। এটা কতটা মর্মান্তিক ও বিভৎস ঘটনা? এরকম নিষ্ঠুর অমানবিক ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষাও আমাদের নেই।

নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার
রিজবী বলেন, সারাদেশে গায়েবি মামলার পর এখন চলছে গণগ্রেফতার। চট্টগ্রামের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশকে কেন্দ্র্র করে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে সিলেট ও চট্টগ্রামে বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশির নামে ব্যাপক তান্ডব চালিয়েছে পুলিশ। বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারের খবর আমরা পেয়েছি।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার কক্সবাজার জেলা বিএনপির এটিএম নূরুল বশর চৌধুরি, কুতুবদিয়া বিএনপির জামাল আহমেদসহ ২৩জনের বিরুদ্ধে গায়েবি মামলা দিয়ে আটজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কক্সবাজারে ৪১৩ জনকে আসামি করে আরো ৪টি গায়েবি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশি নির্যাতন ও গ্রেফতার থেকে বিএনপির নারী নেত্রীরাও রেহাই পাচ্ছে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ