প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদে ঐক্যফ্রন্ট ও ড. কামালের সমালোচনা

বাংলা ট্রিবিউন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে নব-গঠিত রাজনৈতিক জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামালের কঠোর সমালোচনায় করেছে ক্ষমতাসীন দলের সদস্যরা। দলটির সিনিয়র সদস্যরা বলেছেন, এই জোটের কোনও আদর্শ বা লক্ষ্য নেই। এটা কোনও নির্বাচনি জোটও নয়। এটি অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্রের জোট। এতে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি, সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও অর্থপাচারকারী হিসেবে দণ্ডিতরা অংশ নিয়েছেন। আলোচনা শেষে প্রস্তাবটি সংসদের বৈঠকে সর্বসম্মতক্রমে গৃহীত হয়। প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা ধরে চলে আলোচনা। ৪০ জনেরও বেশি আলোচনায় অংশ নেন।

এর আগে মঙ্গলবার বিকাল সোয়া চারটায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ বিধির আওতায় প্রস্তাবটি (সাধারণ) উত্থাপন করেন সরকারি দলের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার। প্রস্তাবে বলা হয়, ‘সংসদের অভিমত এই যে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক ও উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, বলিষ্ট নেতৃত্ব, দর্শন-চিন্তা দেশে-বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত হচ্ছে। এরই ফলে ইন্টার প্রেস সার্ভিস নিউজ এজেন্সি, ইউএন কর্তৃক ‘হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন কর্তৃক ‘স্পেশাল ডিস্টিংকশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’ সম্মাননায় তাকে ভূষিত করা হয়েছে। এ সব সম্মাননা অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর করায় প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় সংসদে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানানো হোক।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ‘পৃথিবীতে শেখ হাসিনার মানের তিন থেকে চার জন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন। তার সব ধ্যান-ধারণা জনকল্যাণে নিয়জিত।’

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘শেখ হাসিনা আলোচনায় বিশ্বাসী, শান্তিতে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনার প্রতি জাতিসংঘসহ সারাবিশ্ব এগিয়ে আসছে। মিয়ানমারের ওপর বিশ্ববাসী চাপ সৃষ্টি করছে। শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মসূচি বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে বিশ্ব বিস্মিত।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তারেক জিয়া ও জামায়াতের সঙ্গে তিনি ঐক্য করেননি। যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া, সেই দলের সঙ্গে ঐক্য করে তিনি কিভাবে একথা বলেন?’ ড. কামালের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের জন্য তিনি সংবিধান প্রণয়ন করে আবার স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে ঐক্য করে তিনি কী করতে চান, জানি না।’

আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে দলের সিনিয়র এই নেতা বলেন, ‘যারা ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নিচ্ছেন, তাদের স্বপ্ন পূরণ হবে না। নির্ধারিত সময়েই দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা দাবির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কেন সংসদ ভাঙতে হবে? ভারতে নির্বাচনের সময় তো সরকার পদত্যাগ করে না, সংসদও বিলুপ্ত হয় না। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তারিখেই নির্বাচন হবে। সংসদ থাকবে, সরকার থাকবে।’

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে নানা উসকানির পরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধৈর্য ধারণ করেছেন। মিয়ানমার সরকার আজ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জবাবদিহী করতে বাধ্য হচ্ছে। একদিন তারা রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতেও বাধ্য হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ড. কামাল হোসেন বুদ্ধি দিয়ে মামলায় জিততে পারেন কিন্তু মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবেন না।’

সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘মিয়ানমার বারবার উসকানি দেওয়ার পরেও বাংলাদেশ ধৈর্য ধরেছে। সেই সফল কূটনীতির ফল এখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। মিয়ানমারের রাষ্ট্রপ্রধান অং সান সু চির আন্তর্জাতিক সম্মান কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একের পর এক সম্মানে ভূষিত করতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা।’

আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘দেশকে পিছনে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চান।’ তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন শেখ হাসিনা। পাশাপাশি এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা অত্যন্ত দক্ষ কূটনীতির মাধ্যমে শেখ হাসিনা দেশকে যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন।’

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সমালোচনা করে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘আদর্শ বিবর্জিত কিছু দল মিলে একটি জোট হয়েছে। এটা আদর্শিক জোটও নয়, নির্বাচনি জোটও নয়। এটা ভণ্ডামি ও জাতির সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।’ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়ে ওই ব্যক্তি দুই নেত্রীকে গ্রেফতারের পর তিনি বলেছিলেন, চুনোপুটি নয়, তারা রাঘব বোয়ালদের কারাগারে নেবেন। যে ব্যক্তিটি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছিলেন, তার সঙ্গে জোট করে আবার বিএনপি নেতারা মামলা প্রত্যাহার দাবি করছেন, এটা জাতির সঙ্গে কোন ধরনের প্রতরণা?’

ড. কামালের সমালোচনা করে মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘ড. কামাল দুর্নীতিবাজ দলের সঙ্গে জোট করে দুর্নীতির সঙ্গে জিহাদ ঘোষণা করছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলেন। আর তার আর মেয়ে ও জামাতা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেয়।’

জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সমালোচনা করে দীপু মনি বলেন, ‘কিছু নীতিহীন আদর্শহীনদের নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছে।’ ড. কামাল হোসেনের সমালোচনা করে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টে নেতা বঙ্গবন্ধুর ছেড়ে দেওয়া আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর তিনি কখনও ভোটে জিততে পারেননি। আর আওয়ামী লীগকে ছেড়ে যাওয়ার পর নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জামানত হারিয়েছেন।’

আ হ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, ‘ফ্রন্ট না জগাখিচুড়ির দল করেছে, তা দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট নয়। তারা উন্নতি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করছে। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে হবে। নারীর প্রতি অসম্মানের জন্য তিনি ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের বিচার চেয়েছেন।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা এক জায়গায় হয়েছে অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য। একাদশ নির্বাচনে শেখ হাসিনার পক্ষে থেকে ষড়যন্ত্রকারীদের উচিত জবাব দেবে।’

এ বি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ত্রাসী দল বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।’

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, নারীদের ছোট করে কেউ কথা বললে কেউ পার পাবে ন।’ তিনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে ষড়যন্ত্রের ফ্রন্ট বলে আখ্যায়িত করেন।

ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সমালোচনা করে ফজিলুতুন্নেসা বাপ্পী বলেন, ‘এটা হচ্ছে ফ্রডদের ঐক্য। তাদের স্থান হবে ডাস্টবিনে।’

মীর মোস্তাক আহমেদ রবি তার বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শান্তিতে নোবেল দেওয়ার দাবি জানান।

ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় আরও অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম, অধ্যাপক আলী আশরাফ, আব্দুল মতিন খসরু, আব্দুল মান্নান, জাহাঙ্গীর কবির নানক, তাজুল ইসলাম, মনিরুল ইসলাম, পঙ্কজনাথ, আশেকউল্লাহ রফিক, জয়া সেনগুপ্ত, সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য উম্মে রাজিয়া কাজল, সাবিনা আক্তার তুহিন, কাজী রোজি, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, পীর ফজলুর রহমান, মো. সেলিম উদ্দিন, ব্যরিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাসদ একাংশের সদস্য মইনউদ্দীন খান বাদল, জাসদ একাংশের সদস্য শিরিন আখতার, স্বতন্ত্র সদস্য রুস্তুম আলী ফরাজী, আব্দুল মতিন প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ