প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আফগানিস্তানে শান্তি ফেরাতে প্রয়োজন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে মার্কিন সমঝোতা

নূর মাজিদ : গত কয়েকমাস ধরেই আফগান ও মার্কিন কর্মকর্তারা তালেবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছেন। আফগানিস্তানে চলমান যুদ্ধের কোন শেষ দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ছেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি এবং আফগান যুদ্ধের বাড়তি খরচ দিন দিন মার্কিন সংবাদকর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীদের মাঝে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট/ আল জাজিরা/ পার্স টুডে/ ভাইস নিউজ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প ক্ষমতা হাতে নিয়েই দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন যে, তার সরকারের নীতি দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে আফগানিস্তানে সামরিক বিজয় আনতে গেম চেঞ্জার হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু ট্রা¤েপর সকল আশায় পানি ঢেলে তার শাসনামলেই আফগান তালেবান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
আফগানিস্তানে আইএস জঙ্গিদের শক্তিবৃদ্ধিতে পশ্চিমাদের চাইতেও অধিক উদ্বিগ্ন পাকিস্তান, ইরান, রাশিয়া এবং স্বয়ং তালেবান। এই শক্তিগুলো প্রত্যেকেই আইএস-এর বিনাশ চায়। চলতি মাসেই পার্স টুডে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থানকে রোধ করতে ব্যর্থ হয়ে এবার আইএস এর মতো জঙ্গিগোষ্ঠীকে গোপন সমর্থন দেয়ার কৌশল বেছে নিয়েছে পেন্টাগন। এই বিষয়ে তালেবানদের অভিযোগ, লোক দেখানো বিমান হামলার পূর্বে আইএস জঙ্গিদের সতর্ক করে দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফলে তারা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পায়। এছাড়াও, আফগান সরকার নয় বরং আইএস জঙ্গিরা তাদের হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু করেছে তালেবানকেই। আইএস জঙ্গিরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে তালেবানদের সহায়তাকারী স্থানীয় জনগণকে হত্যা করছে বলেই জানিয়েছে আল-জাজিরা। সংগঠনটির হিংসাত্নক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে উদ্বিগ্ন পাকিস্তান, ইরান ও রাশিয়া তাই তালেবানদের গোপনে রাজনৈতিক ও সামরিক সহায়তা দেয়ার নীতি নিয়েছে। ফলে আফগান যুদ্ধে সহসাই বিজয়লাভ করা ট্রা¤প প্রশাসনের পক্ষে অসম্ভব। সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানগুলোতে তালেবানদের অবিশ্বাস্য রকমের সফলতা ও মার্কিন প্রশিক্ষিত আফগান সেনাবাহিনীর চরম ব্যর্থতা তাই আফগানিস্তানে রাজনৈতিক সমাধান খোঁজার দিকে মনোযোগী করে তুলেছে পেন্টাগনের জেনারেলদের।

এই লক্ষ্যেই গত ৫ই সেপ্টেম্বর আফগানিস্তান, ইরাক ও জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত জালমি খলিলজাদকে আফগান শান্তি আলোচনার বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক প¤েপও। আফগান শান্তি আলোচনা সফল করতে বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই তাকে নিয়োগ দেয়া হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন কূটনৈতিক সূত্র। ১২ই সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় তালেবান নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করেন খলিলজাদ। এরপরেই গত সপ্তাহে দোহায় দ্বিতীয় আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, আফগান সরকার এবং তালেবানদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু সেখানে তালেবানদের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সমর্থক রাশিয়া বা ইরানের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র মতে সীমিত আকারে চীন ও তালেবানদের সমর্থন দিয়ে থাকে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবানদের সমর্থন দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করতে প্রস্তুত নয় রাশিয়া, ইরান বা চীন।

অন্যদিকে মার্কিন চাপের কারণেই পাকিস্তান তালেবানদের সঙ্গে তার স¤পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে চলে। এমতাবস্থায়, এই শক্তিগুলোর সাহায্য ব্যতীত যুক্তরাষ্ট্রের গৃহীত শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া ব্যর্থতায় রূপ নেবে। কারণ তালেবানরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে তাদের মূল লক্ষ্য হলো আফগানিস্তান থেকে দখলদার বিদেশী সৈন্যদের অপসারণ আর এই লক্ষ্যেই তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর এই লড়াইয়ের তালেবানদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আঞ্চলিক শক্তিগুলো, যাদের অনেকের কাছে আফগানিস্তানে পশ্চিমা বাহিনীর উপস্থিতি নিজেদের জন্য নিরাপত্তা হুমকির সৃষ্টি করছে। সম্পাদনা : নুসরাত শরমীন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ