প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কেন আরব বিশ্বের জন্য এখন গণতন্ত্র প্রয়োজন- জামাল খাসোগজি

নূর মাজিদ : ভিন্নমতালম্বি সাংবাদিক জামাল খাসোগজির মৃত্যুর পর এবার আরব বিশ্বে গণতন্ত্র কায়েমের কথা বলছে পশ্চিমা গণমাধ্যম। এই বিষয়ে স্বয়ং জামাল খাসোগজির একটি দেয়া একটি বক্তব্যকে তাদের সম্পাদকীয় পাতায় স্থান করে দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। গত সোমবার পত্রিকাটি জানায়, এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর মিডল ইস্ট স্টাডিজের এক সেমিনারে অংশ নিয়ে জামাল খাসোগজি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয় এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম ও গণতন্ত্র গবেষণা কেন্দ্র যৌথভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে। এই সেমিনারে দেয়া খাসোগজির বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরেছে মার্কিন দৈনিকটি।

সেখানে খাসোগজি বলেছেন, আমি সৌদি আরবের একজন নাগরিক, আমার দেশে ইসলাম এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি পর¯পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, অতীতে একজন সৌদি কর্মকর্তার সঙ্গে আমার এই বিষয়ে দীর্ঘ আলাপ হয়েছে। ওই সৌদি কর্মকর্তা যতবার ইসলাম এবং গণতান্ত্রিক শাসন ও অধিকার পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন দাবি করেছেন ততোবারই আমি তাকে প্রশ্ন করেছি কেন ইসলাম এবং গণতন্ত্র একে অপরের সঙ্গে তুলনীয় নয় স্বাভাবিকভাবেই তিনি আমাকে সন্তোষজনক ও স্বচ্ছ উত্তর প্রদানে ব্যর্থ হয়েছিলেন।

খাসোগজি বলেন, ইসলাম কায়েম এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এই বিতর্কের সূত্র ধরেই জন্ম নেয় আরব বসন্ত। এসময় আরব বিশ্বের তরুণেরা এমনকি ইসলামপন্থী সালাফিদের একাংশ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রণয়নের লক্ষ্যে এই সময় একসঙ্গে রাজপথে আন্দোলন করেন। ইতোপূর্বে এই সালাফিরাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছিলেন। তবে এতদসত্ত্বেও অনেক সালাফি গণতন্ত্রকে কুফরি মতবাদ বলে এই আন্দোলনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের দৃষ্টিতে গণতন্ত্র বরাবরই ছিলো বিজাতীয় বিধর্মী সংস্কৃতির প্রতিফলন।

তবে বিরোধিতা হলেও আরব বসন্ত মিশর এবং তিউনিশিয়ার একনায়কদের উৎখাতে সমর্থিত হয়। ২০১২ সালে একনায়কদের উৎখাত পরবর্তী সময়ে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন আমার পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করে। খাসোগজি বলেন, সেসময় আমার পর্যবেক্ষণ ছিলো আরব বিশ্বের জনগণ এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। তারা স্বতঃস্ফুর্তভাবে নির্বাচন দুটিতে অংশগ্রহণ করে। এমনকি যে সমস্ত ইসলামি দলগুলো ইসলামের সঙ্গে গণতন্ত্রের গঠনতান্ত্রিক পার্থক্য নিয়ে সমালোচনা করেছে তারাও এই নির্বাচনে অংশ নেয়। মিশর এবং তিউনিশিয়ার নির্বাচনে অংশ নেয়া নারী, পুরুষ, তরুণ এবং বৃদ্ধদের দীর্ঘ ভোটার লাইনের চিত্র আমাদের একটি বার্তা দেয়। তা হলো আরব বিশ্ব এখন গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। যারা বলেন আরব বিশ্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা এই নির্বাচনদুটির সামগ্রিক চিত্রকে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হিসেবে তুলে ধরতে পারি।

খাসোগজি বলেন, নারী-পুরুষের মেলামেশা, চলচ্চিত্র, বিনোদন এবং শিল্পের মতো পশ্চিমা ধারণা গ্রহণ করা শুরু করেছে সৌদি আরব। দেশটি ধীরে ধীরে উগ্র চিন্তা থেকে উদার সংস্কারের পথে হাঁটছে। তবে একইসঙ্গে দেশটির শাসকগণ গণতন্ত্রে মোটেও বিশ্বাসী নন। এই ক্ষেত্রে তারা গণতন্ত্র ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন অযৌক্তিক দোহাই দিচ্ছে। এই বিষয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান দ্য আটলান্টিক পত্রিকার সাংবাদিক জেফরি গোল্ডম্যানকে বলেছেন, আমাদের জনগণ গণতন্ত্র নয় বরং সর্বক্ষমতাময় রাজতন্ত্রকেই তাদের প্রিয় শাসন ব্যবস্থা হিসেবে গন্য করে। নিউইয়র্ক টাইমস