প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে নোবেল দেবার আহ্বান
স্বাধীনতা বিরোধী খুনীদের সঙ্গে জোট করায় ড. কামালকে নিন্দা

তরিকুল ইসলাম সুমন : রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক ও উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, বলিষ্ট নেতৃত্ব, দর্শন-চিন্তা দেশে বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও সমাদৃত হওয়ায় তিনি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার ইন্টার প্রেস সার্ভিস নিউজ এজেন্সি কতৃক দেয়া ‘হিউম্যানটারিয়ান এওয়ার্ড’ এবং গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন কতৃক দেয়া ‘স্পেশাল ডিসটিংশান এওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’ পুরষ্কারে ভূষিত হওয়ায় জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ (১) বিধি অনুযায়ী আনীত প্রস্তাব এর নোটিশ আনা হয় এবং সংসদ কতৃক প্রস্তাব পাশ হয়েছে।

মঙ্গলবার সংসদের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার প্রস্তাবটি উত্থাপণ করলে তার সমর্থনে প্রায় ৩৪ জন এমপি-মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও প্রশংসা করে বক্তব্য প্রদান করেন। এসময় কয়েকজন বক্তা প্রায় ১০-১২ লাখ অসহায়, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বে এক অনন্য দৃষ্ঠান্ত স্থাপণ করায় এবং শান্তি ও মানবিকতায় উজ্বল দৃষ্ঠান্ত স্থাপনের জন্য শেখ হাসিনাকে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করার আহ্বান জানান। সেই সাথে ড. কামাল হোসেন বিএনপিসহ স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে নীতিহীন জোট করার নিন্দা জানান বক্তারা।

দীপু মনি বলেন, ড. কামাল হোসেন খুনীদের সঙ্গে জোট করেছেন। যারা রবঙ্গবন্ধুকে খুন করেছে, যারা ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা করেছে, যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পায়তারা করছে। এজোটের তীব্র সমালেঅচনা করে দীপু মনি বলেন, তারা কোর রবার্টের অপেক্ষায় আছেন, যারা তাদেরকে ক্ষমতায় নিয়ে যাবে? এমপি বাহাউদ্দীন নাসিমও বিএনপি ও স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের জোটকে এক অশুভ ইঙ্গিত বলে অভিহিত করেন।

রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের  ‍ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আসার আগে ২৮ বছর অবহেলিত ছিল। দেশের কোন উন্নয়ন ঘটে নি। ইতিহাসের মহাকালে পর্যবসিত হয়। যদি এ ২৮ বছর মেখ হাসিনা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেতেন তাহলে দেশ আজ বউন্নত রাষ্ট্রে পরিনত হতো। আজ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ২৯ টি পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন। যা অবশ্য অনন্য। আপর পক্ষে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া জীবনে একটি খেতাব তো দূরের কথা বরং এতিমের টাকা আত্মস্বাদ করে বর্তমানে জেলে। তার আমলে দেশ সন্ত্রাসী ও দরিদ্র রাষ্ট্র হিসেবে চ্যাম্পিয়ান হয়েছিল। এত উন্নয়নের পরেও গোলাম আজমের গোষ্ঠি, স্বাধীনতা বিরোধীরা এখন বলে তারা খুশী নেই।

জাসদের মঈন উদ্দীন খান বাদল বলেন, তিনি বলেন, বর্তমানে সারা পৃথিবী রক্তাক্ত, সৌদী আরব, ইসরাইলসহ সব দেশে অস্থিরতা। কিন্তু শেখ হাসিনা এ অঞ্চলকে শান্ত রাখতে সমর্থ হয়েছেন। এ নাফ নদী বারে বারে রক্তাক্ত হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিজেদের কত সমস্যা, তার পরেও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে শেখ হাসিনা ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারীকে যে মহিয়সী বলা হয় তা তিনি পরিপূর্ণ নারী হিসেবে অভিহিত হয়েছেন।

মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া এক উজ্বল দৃষ্ঠাস্বরুপ ও উদারতার এক বিরল দৃষ্ঠান্ত। তিনি তলিয়ে যাওয়া দেশকে নিম্ম মধ্যম আয়ের দেশে রুপান্তরিত করেছেন। বারে বারে স্বাধীনতা বিরোধী জোট দেশের উন্নয়নকে বাধা গ্রস্থ করেছে। নতুন করে ঐক্যফ্রন্ট তৈরি করা হয়েছে, যারা গণতন্ত্র ও আদর্শকে বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে। যারা জাতীর পিতাকে হত্যা করেছিল তাদের সঙ্গে জোট করার তিনি কামাল হোসেনকে নিন্দা জানান। এ জোটের একজন নারী অবমাননার দায়ে কারাগারে গিয়েছেন। তার সঙ্গে ড. কামালের কিভাবে জোট হয়। এটা আদর্শ ও নীতি বিহীন জোট.. এটা ভন্ডামী ছাড়া কিছুই নয়। ড. কামাল হোসেনের মেয়ে ও জামাতা যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নেওয়ায় তারও নিন্দা জানান তিনি ।

বক্তারা রোহিঙ্গা সমস্যাকে বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্চ বলে মন্তব্য করে মিয়ানমার কতৃক বিতাড়িত, নির্যাতিত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়ায় বিশ্বে এক মানবিকতার নজির সৃষ্ঠি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। বক্তরা মিয়ানমার সরকারের সেনা বাহিনীর নির্যাতন , হত্যা অগ্নি সংযোগ ইত্যাতির বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমতকে একত্রিত করার জন্য বিশেষ ভঅবে সচেষ্ট হয়েছেন। এবং মিয়ানমারকে এসব বিতাড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্টিকে ফিরিয়ে নেবার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্ঠিতে সফল হয়েছেন।

এ প্রস্তাবের উপর বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহম্মুদ আলী, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি, এমপি জয়া সেনগুপ্ত, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, সমাজ কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, এমপি মনিরুজ্জামান ইসলাম, বিরোধী দলের এমপি ফখরুল ইমাম।