প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘পাহাড় কাটা রোধে ৫৮৬ টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে’

তরিকুল ইসলাম সুমন : পরিবেশ, বন জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মহামুদ বলেছেন, পাহাড় ধ্বস বন্ধে সরকার ইতিমধ্যে নানাবিধ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এ পাহাড় কর্তন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা এ আইন ভঙ্গ করছেন তাদের বিরুদ্ধে সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ৫৮৬ টি অভিযান পরিচালনা করে ক্ষতিপুরণ ও জরিমানা বাবদ ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা ১১ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ- এর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ সব কথা সংসদকে জানান।
মন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ সংশোধিত ২০১০ এর সংশ্লিষ্ট ধারা মোবাইল কোর্ট অধ্যাদেশ ২০০৯ এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তর পাহাড় কর্তন রোধে নিয়মিতভাবে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় ও মামলা দাায়েরসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পলিশের সহযোগিতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচলানা করা হচ্ছে। পাহাড় কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ৫৮৬ টি অভিযান পরিচালনা করে ক্ষতিপুরণ ও জরিমানা বাবদ ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা আদায় করেছে।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ধ্বসের কারণ হচ্ছে দুর্বল মাটির গঠন, অতিবৃষ্টিপাত, পাহাড়ে চাষাবাদ, অবৈধ বসতি স্থাপন অপরিকল্পিত অবকাঠামো, বৃক্ষনিধন, উন্নত প্রযুক্তি ও প্রকৌশল ব্যবহার করে পাহাড় শাসন না করা, অবৈধভাবে পাহাড় কর্তন, আইন বাস্তবায়ন সমস্যা, দুর্যোগকালীন সময়ে বিভিন্ন কতৃপক্ষের কাজের সমন্বয়হীনতা, পাহাড়ে উপর নির্ভরশীলতা, অসচেতনতা, সমন্বয়হীনতা, মালিকানা নির্ধারণ না হওয়া, ভুমিকম্প।

মন্ত্রী বলেন, পাহাড় ধ্বস ও প্রাণহাণি রোধে পরিবেশ অধিদপ্তর বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রামকে আহবায়ক করে গঠিত পাহাড়া ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে নিবির ভাবে কাজ করছে। এছাড়া পহাড়ে বসবাসকারীদের পাহাড় ধ্বস ও দূর্ঘটনা রোধে সচেতন করা হচ্ছে, বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচার করে তাদের ঝুকিপূর্ণ স্থান হতে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। অবৈধ জবর দখলকারীদের উচ্ছেদ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, পার্বত্য এলকাকার উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্নয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

মহিলা আসন ৩০ এর সংসদ সদস্য বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদে জানান, দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সংবিধানের ১৮ক নামক একটি পৃথক অনুচ্ছেদ সংযোজনপূর্বক পরিবেশ সংরক্ষণকে রাষ্ট্রপরিচালনার মুলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং উন্নয়নে বিধিমালা, নীতিমালা ইত্যাদি প্রণয়ন ও হালনাগাদ করা হয়েছে। যেমন জীব নিরাপত্তা বিধিমালা ২০১২ জীবনিরাপত্তা গাইডলাইন্স, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৩, ওজনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৪ (সংশোধিত) ২০১৪ প্রতিবশগত সংকটাপন্ন এলাকায় ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬ অন্যতম।