Skip to main content

ইসলামে বন্ধুত্বের নীতিমালা

সাইদুর রহমান: বন্ধুত্ব গড়ার বিষয়েও ইসলাম সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বলে দিয়েছে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সীমারেখা টেনে দিয়েছে। বন্ধুত্বে নিয়মনীতি না মানলে অনেক সময় বন্ধুত্বই শত্রুতায় রুপান্তরিত হয়। এজন্য বন্ধুত্ব গড়ার ক্ষেত্রে ইসলামের এই অনিন্দ সুন্দর নীতিমালা সামনে রাখলে কখনই বন্ধুত্ব ক্ষতিকর হবে না। ইসলামে অন্য সবকিছুর মতো এখানেও রয়েছে সুন্দর নির্দেশনা। এক হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘সবচেয়ে উত্তম হলো- প্রতি বিষয়ে মধ্যপন্থা।’ –বায়হাকি, শোয়াবুল ঈমান: ৬৬৫১ এ হাদিসে মূলনীতি বলে দেওয়া হয়েছে। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই মধ্যপন্থা উত্তম। অতি বাড়াবাড়ি বা অতি ছাড়াছাড়ি- কোনোটাই ইসলামের আদর্শিক পথ নয়। ঠিক তেমনি বন্ধুত্বও মধ্যপন্থার সীমারেখায় আবদ্ধ একটি সম্পর্ক। এটা হলো মূলনীতি। কিন্তু বন্ধুত্ব বা ভালোবাসার ক্ষেত্রে কেমন হওয়া উচিত, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনাও রয়েছে হাদিসে নববীতে। ইরশাদ হয়েছে, ‘বন্ধুর সঙ্গে মধ্যপন্থী ভালোবাসা রাখো, হতে পারে সে একদিন তোমার শত্রুতে পরিণত হবে। তেমনি শত্রুর সঙ্গেও মধ্যপন্থী শত্রুতা রাখো, হতে পারে সে একদিন তোমার বন্ধুতে পরিণত হবে।’ –সুনানে তিরমিজি: ২০৬৫ যদি কখনও বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায়, তখনও ওই সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও পূর্ণ আমানতদার থাকার শিক্ষা দেয় ইসলাম। বন্ধুত্ব ভেঙে গেলে কোনো অযাচিত বিষয় প্রকাশ ও বিদ্বেষ পোষণ ইসলামে নিষিদ্ধ। আমানতের খেয়ানত যেমন মুনাফিকের লক্ষণ, তেমনি বিদ্বেষভাব মন্দ চরিত্রের লক্ষণ। উপরন্তু কোনোভাবে যদি বন্ধুর কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে জানা থাকা উচিত হজরত রাসূলুল¬াহ সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন, ‘যে কারও ক্ষতি করবে, আল¬াহ তার ক্ষতি করবেন। আর যে কারও প্রতি কষ্ট পৌঁছাবে আল¬াহ তার প্রতি কষ্ট পৌঁছাবেন।’ –সুনানে তিরমিজি: ২০০৫