প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জমি ইজারা না দেয়ায় জর্ডানকে পানি বন্ধের হুমকি ইসরায়েলের

সাইদুর রহমান: ইসরায়েলকে জমি ইজারা না দেয়ায় জর্ডানের রাজধানী আম্মানের পানি সংযোগ কেটে দেয়ার হুমকি দিয়েছে ইসরায়েলের কৃষিমন্ত্রী ওরি আরিয়েল। এ ঘোষণায় দুই দেশের মাঝে দ্বিপাক্ষিক সর্ম্পকে টানাপড়েন শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম।

 

সোমবার নতুন এক আদেশে জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ জানান, ইসরাইলকে আর জমি ইজারা দেয়া হবে না। ইজারা দেয়া দুটো কৃষি এলাকা আল-বাকুরা এবং আল-গমর ফিরিয়ে নেয়া হবে।

 

১৯৯৪ সালে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির আওতায় ওই কৃষি এলাকা দুটি ইসরাইলের কৃষকদের মালিকানায় রয়েছে। আগামী বছর এ ইজারার মেয়াদ শেষ হবে। এরপর নতুন করে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে না বলে জানিয়েছে বাদশাহ। বরাবরই এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছিলেন জর্ডানের বেসামরিক সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা। বাদশাহ এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

 

খবরে বলা হয়, রোববার এক আদেশে বাদশাহ আবদুল¬াহ বলেছেন, জমি ইজারার ব্যাপারে ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করবেন না তিনি। বাদশাহর এ ঘোষণার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইজারার মেয়াদ বাড়াতে জর্ডানের সঙ্গে আলোচনা করবে ইসরাইল। তিনি বলেন, চলমান ইজারা চুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আমরা জর্ডানের সঙ্গে আলোচনা করব।

 

চুক্তি অনুসারে নিজেদের দক্ষিণ সীমান্তবর্তী ‘আল-গমরে’র ৪০৫ হেক্টর আবাদি জমি ইজারা নেয় ইসরাইল। সেই সঙ্গে জর্ডান ও ইয়ারমুক নদীর মিলনস্থল সংলগ্ন সীমান্তবর্তী ‘আল-বাকুরা’ অঞ্চলও ইজারা নেয়। ওই জমি দুটো ২৫ বছরের জন্য ইজারা দেয়া হয়। চুক্তিতে বলা হয়, কোনো পক্ষ এক বছর আগে নোটিশ না দিলে ওই চুক্তির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়তে থাকবে। এই চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হবে বৃহস্পতিবার।

 

বাদশা আবদুল্লাহ বলেন, আল-বাকুরা ও আল-গমর নিয়ে শান্তি চুক্তির ইতি টানতে আমরা ইসরাইলকে অবহিত করেছি। তিনি বলেন, আল-বাকুরা ও আল-গমর সবসময়ই আমাদের অগ্রাধিকারের দিকে উচ্চপর্যায়ে ছিল।

 

জর্ডান ও জর্ডানের জনগণের জন্য যা প্রয়োজন তার সবকিছু করতে এই শান্তি চুক্তির মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। এই দুটি ভূখন্ড জর্ডানের এবং তা জর্ডানের জনগণেরই থাকবে। তবে ঠিক কবে ওই ভূখন্ড দুটি জর্ডানের কাছে ইসরাইল হস্তান্তর করবে তা স্পষ্ট নয়। ১৯৯৪ সালে চুক্তি হলেও ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে এলাকা দুটো দখলে রেখেছে তেলআবিব। সূত্র: আল-আরাবিয়া

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ