প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দিনের কাজ সারতে আধুনিক নারীর প্রয়োজন ২৮ ঘন্টা

রাশিদ রিয়াজ : ১০ জন নারীর ৬ জনই মনে করেন তাদের দিনের সময় আরেকটু দীর্ঘ হলে ভাল হত। কারণ সব কাজ ঠিক মত সম্পন্ন করতে দিনে তাদের অন্তত ৩ ঘন্টা ৩৬ মিনিট সময় বেশি পেলে ভাল হত। ফলে তারা তাদের ঘরের, ঘরের বাইরে সামাজিক ও নিজের পেশাগত জীবনের কাজগুলো সুচারুরুপে সম্পন্ন করতে পারতেন। মার্কিন প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান ওলে’র এক জরিপে উঠে এসেছে এমন তথ্য। মিরর

ওলে’র এ জরিপ পরিচালনাকারী ড. ফ্রাউকি নিউসার বলেন, এতই ব্যস্ত থাকতে হয় আধুনিক নারীদের যে দেখা যায় তারা তাদের ত্বকের যতœ নেওয়ার সময় পান না। কিন্তু এ বিষয়টিও জরুরি। এমনকি কাজ শেষ না হওয়ায় অনেক নারীকে তার রাতের ঘুমের সময় কমিয়ে দিতে হয়। কিংবা দিনে ব্যায়াম করার সময়টুকু তারা আর পান না। অতিরিক্ত কাজের চাপ তাকে সহ্য করতে হয় পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে এবং সঠিক সময় রাতে বিছানায় ঘুমাতে যেতে পারেন না। ফলে তার ঘুমের সময় ৮ ঘন্টার বরাদ্দ হ্রাস পায় সাড়ে ৬ ঘন্টায়। ওলে’ দুই হাজার নারীর সাক্ষাতকার নিয়েছে এ জরিপে।

জরিপে চারজনের একজন বলেছেন, গভীর রাতে না ঘুমিয়ে কোনো উপায় নেই কারণ তাকে তার পেশাগত বাধা ডিঙ্গিয়ে অনবরত চলতে হয়। এক তৃতীয়াংশ নারী বলেছেন, গতানুগতিক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত কাজের যে ধারণা তা নারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং খুব ভোর থেকে সন্ধ্যার পরও অবধি তাদের কাজের মধ্যে ডুবে থাকতে হয়। অনেক নারীর জন্যেই ভারসাম্যপূর্ণ কাজ ও অবসর অসম্ভব এক বিষয়। ১০ জনের মধ্যে ১ জন নারী বলেছেন, সন্ধ্যা ৭টার পরও তাদের কাজ করে যেতে হয়। নারীদের খুব কমই ভোর বেলায় ওঠার সুযোগ পান এবং তাদের মধ্যরাত অবধি কাজ করতে হয় এবং তারপরই বালিশ মাথা গুঁজে দেয়ার সময় পান। ফলে ভোরে ঘুম ভাঙ্গলে অনেক নারীর চোখ লাল হয়ে থাকে, অবসন্নতা কাটে না এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় মনোযোগটুকু তাদের পক্ষে দেওয়া বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। চোখের নিচে কালিমা পড়ে অনেকের। এবং এভাবে তার ত্বকের সৌন্দর্য হানি ঘটে। ডা. ফ্রাউকি নিউসার বলেন, এ জরিপ দেখিয়ে দিচ্ছে নারীরা কিভাবে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যে লড়াই চালিয়ে যায় এবং জীবনকে এভাবেই তারা আরো বেশি উপভোগ করতে চায় এবং ঘন্টার পর ঘন্টা একই সঙ্গে নিজেকে কাজের মধ্যে জড়িয়ে রাখে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী গবেষকরা বলছেন, একটি অবসর নারীর জীবনে খুবই জরুরি যা তাকে কাজের চাপ নিতে শক্তি যোগায়। গবেষণায় এও দেখা গেছে ২৫ থেকে ৩৫ বছরের নারীরা ঘুমের মধ্যেও তাদের শখ, সামাজিক বিষয় ও অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে আচ্ছন্ন থাকেন। যা তাকে নাক ডেকে ঘুমাতে দেয় না। তবে দিনে ২৮ ঘন্টা সময় পেলে নারীরা তাদের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করে বন্ধুদের সঙ্গে বা জীবনসাথীর সঙ্গে আড্ডা দিতে, নতুন নতুন রান্নার উদ্ভাবন বা নিজেকে আরো দক্ষ করে তোলার সুযোগ পেতেন। অন্তত দাঁত মাজতে বা চুল বাঁধতে তারা আরেকটু সময় বেশি পেতেন।