প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিক্ষাবৃত্তির ব্যাপারে ইসলামের নির্দেশনা

আমিন মুনশি : ভিক্ষাবৃত্তিকে ইসলাম পছন্দ করেনা। ইসলাম পছন্দ করে স্বনির্ভর মানুষ। স্বাবলম্বী মানুষ। নিজের হালাল উপার্জনে যারা চলে, নিজের পরিশ্রমে যারা জীবনযাপন করে ইসলাম তাদেরকে উৎসাহিত করে। আর যারা অকর্মণ্য, অলস তাদেরকে ইসলাম সতর্ক করে। এ প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অভাব ব্যতীত ভিক্ষা করলো; সে যেন জাহান্নামের আগুন ভক্ষণ করলো।’ (মুসনাদে আহমদ: ৫১)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তায়ালার কাছে বৈধ কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিচুমানের ও রাগ সৃষ্টিকারী কর্ম হলো স্ত্রীকে তালাক দেওয়া ও ভিক্ষাবৃত্তি করা। (ইবনে মাজাহ: ৪৩৬)

নবীজি (সা.) আরো বলেন, ‘ভিক্ষাবৃত্তি ক্ষত স্বরূপ। এর দ্বারা ভিক্ষুক মুখমণ্ডলকে ক্ষত-বিক্ষত করে।’ (সুনানে নাসায়ি: ৯৮) অন্যত্র নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অপ্রয়োজনে ভিক্ষা করে, সে হাতে অঙ্গার রাখার মতো ভয়াবহ কাজ করে।’ (বায়হাকি: ৬৩৪)

অপর এক হাদিসে নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বৃদ্ধির জন্য কারো কাছে ভিক্ষা চায়; সে তো জাহান্নামের আগুন ভিক্ষা চায়। তার ইচ্ছা, সে চাইলে জাহান্নামের আগুন কম ভিক্ষা করতে পারে বেশিও ভিক্ষা করতে পারে।’ (সুনানে ইবনে মাজা: ৫৮৯)

ইসলাম একে অপরকে সাহয্য করার এবং বিপদে ধন-সম্পদ দান করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে সে দান-খায়রাত ভিক্ষাবৃত্তির আদলে নয়; বরং দানকারীর স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টিক্রমে হতে হবে। মহানবী (সা.) ভিক্ষাবৃত্তিকে তুচ্ছ জ্ঞান করে ইরশাদ করেন, ‘উপরের হাত নিচের হাত থেকে উত্তম।’ (মুসলিম: ৩৩২)

মুগিরা ইবনে শুবা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা সম্পদ অপচয় ও ভিক্ষাবৃত্তি পছন্দ করেন না।’ (সহিহ বোখারি: ১৪৫৫)

হজরত সাওবান (রা.) সূত্রে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এইমর্মে প্রতিশ্রুতি দিবে যে, সে অন্যের কাছে হাত পাতবে না। আমি তার জান্নাতের জিম্মাদারী গ্রহণ করবো।’ (সুনানে ইবনে মাজা: ৫৮৮)

সর্বাধিক পঠিত