প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মইনুলকে গ্রেফতার করাটা জরুরি ছিল : কাদের

আনিসুর রহমান তপন : বেসরকারি টেলিভিশনের লাইভ টক শোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে চরিত্রহীন বলে অপবাদ দেয়ার কারণেই ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ঐক্য ফ্রন্টের নব্য নেতা সেই বিবেচনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে এ কথা বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো জোটের বিষয় নয়, ব্যক্তির অপরাধের বিষয়। এটি একটি অপরাধ, মইনুল হোসেন একজন নারী সাংবাদিককে যেভাবে অ্যাবিউজ করেছেন, কোনো মার্জিত সুশীল ব্যক্তির পক্ষে কি সম্ভব এ ধরনের আচরণ করা? মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় তো সাংবাদিকরাই তো কনডেম করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেখানে গ্রেফতার করাটাই জরুরি ছিল এবং পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। মন্ত্রী বলেন, অপরাধ করে পার পেয়ে গেলে এ ধরনের আরও অপরাধ করতে পারে। যাকে তাকে অশোভন অমার্জিত একটি ভালগার অবসিনিটি পর্যায়ে এমন গালি দিতে পারে, সেটার পুনরাবৃত্তি রোধে এটি করা হয়েছে। আর এ ধরনের অপরাধে পার পেয়ে যাওয়া, তাহলে তো অনেকেই এ ধরনের অপরাধ করতে পারে।

মতবিনিময় সভায় মইনুলের গ্রেফতার ছাড়াও ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে, নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে ভিন্নমত তা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন, ওবায়দুল কাদের।

নির্বাচনকালীন সরকার প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ২৬ অক্টোবর নির্বাচনকালীন সরকারের আকার নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এদিকে গত সোমবার গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলণে নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট নাও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বর্তমান মন্ত্রিসভায় সব দলের প্রতিনিধিই আছেন।আর নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটি, উপদেষ্টা কাউন্সিল ও পার্লামেন্টারি কমিটির যৌথ সভা হবে। সেখানেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, মনে হচ্ছে মন্ত্রিসভার সাইজ ঠিকই থাকছে। মন্ত্রিসভার আকার ছোট হলে নতুন করে দু’একজন যুক্ত হবেন, আর আকার বর্তমানের মতো থাকলেও দু’একজন যুক্ত হতে পারেন।

এই দু’একজন কারা হবেন, জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, এটা রুলিং পার্টি থেকেও হতে পারে আবার প্রধান বিরোধী দল থেকেও হতে পারে। সম্ভবত প্রধান বিরোধী দল থেকে হবে। তিনি বলেন, তবে সরকারের আকার ছোট না হওয়ার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ যে ভাবনা তার যৌক্তিকতা আছে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশেও নির্বাচনের সময়ে আগের মন্ত্রিসভা বহাল থাকে। তবে গতবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকালীন সরকার রুটিন ওয়ার্ক করবেন। মন্ত্রিসভা বৈঠক বা একনেক বৈঠক এসময় হবে না। এসময় মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্ব-কর্তব্য সংকুচিত হয়ে যাবে। এমপি হিসেবে কেউ পাওয়ার এক্সারসাইজ করতে পারবেন না। সোজা কথঅ সবাইকে আচরণ বিধি মেনে চলতে হবে বলেন, কাদের।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন বিষয়ে সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিকদের দাবি প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে এই সরকারের এই সময়ে এই ধরনের সংশোধনীর আর কোনো সুযোগ নেই। তবে আইনের প্রায়োগিক যে বাস্তবতা, যাতে এই আইনের অপপ্রয়োগ না হয় সেটা আমরা সিরিয়াসলি দেখব। যাতে এখানে দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন যথাযথভাবে হয়। সাংবাদিকদের জন্য এই আইন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনি যদি কোনো অপরাধ না করেন তবে আপানার ভয় কিসের?

নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে ভিন্ন মতকে বিউটি অব ডেমোক্রেসি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইসিতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে পাঁচ কমিশনারের মধ্যে ভিন্ন মত হতেই পারে। তাই একজন ভিন্ন মত পোষণ করলেই… আমি তো মনে করি এটা বিউটি অব ডেমোক্রেসি। নির্বাচন কমিশন তো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নয়, যে পাঁচজনকেই সম্মত হতে হবে। পাঁচজনের একজন একটা পয়েন্টে ডিফারেন্স অব অপিনিয়ন হতেই পারে। সেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো বিভক্তি আসবে না।

এদিকে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ঘোষণা দিয়েছে, সড়ক পরিবহন আইনের কতগুলো ধারা যদি ২৭ অক্টোবরের মধ্যে পরিবর্তন করা না হয় তবে ২৮ ও ২৯ অক্টোবর তারা কর্মবিরতি পালন করবেন। তাই আইনটি সংশোধন করা হবে কিনা? জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, না, এই সরকারের আমলে এই আইন সংশোধনের প্রশ্নই উঠে না। আমাদের হাতে দিন আছে দুটি। দু’দিন পরই সংসদ অধিবেশন শেষ হবে। কাজেই এ সময়ে এটা সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই কিন্তু এই আইনটি করা হয়েছিল। তাদের আন্দোলন থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। যদি কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন হয় তবে পরবর্তী সরকার সেটা দেখবে।

এই মুহূর্তে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমরা কোনো ধরনের কিছু করতে যাব না। সংশোধনের সময়ও নেই, সুযোগও নেই। তাদের দাবি তারা করতে পারে। সেটা করুক।

নির্বাচনী ইশতেহারের কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২৬ অক্টোবর যৌথসভায় এটি নিয়ে আলোচনা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ