প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাল্যবিয়ে

বাংলা ট্রিবিউন : কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা ছেলে-মেয়েদের। মিয়ানমারের রাখাইনে বিয়ে করতে রোহিঙ্গাদের ওপর বিধি-নিষেধ ছিল। এখানে কোনও ধরনের বাধা নেই। নেই কোন কাবিননামা ও নিবন্ধনও। অবশ্য, স্থানীয় প্রশাসন বলছে সম্প্রতি ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বিয়ের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে ঠেকাতে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের বয়সের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংস ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয়ের জন্য পালিয়ে আসেন ৭ লাখ রোহিঙ্গা। নতুন-পুরনো মিলিয়ে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে এখন ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। শুরু থেকে এসব রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিভিন্ন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সরকার। একারণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসেছে আমূল পরিবর্তন। ক্যাম্পে কোনও ধরনের অভাব-অনটন না থাকায় সংসারের উপযুক্ত সন্তানদের বিয়ে দিতে ভুল করছেন না রোহিঙ্গারা। ক্যাম্পের অভ্যন্তরেই সন্তানদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন তারা।

উখিয়ার কুতুপালং লম্বাশিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জাফর আলম (৫৫) নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে সন্তানদের বিয়ে দিতে নানা আইনি জটিলতা পড়তে হতো। বিয়ের এক মাস আগে থেকেই বিয়ের অনুমতির জন্য মিয়ানমার সরকারের কাছে আবেদন করতে হতো। এতে গুনতে হয় বিশাল অংকের টাকা। পরে আবেদনে অনুমতি পেলে নীরবে সম্পন্ন করতে হতো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। আর বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এসে কোনও ধরনের বাধ্যবাধকতা না থাকায় সহজেই বিয়ে দেওয়া হচ্ছে সন্তানদের।’

রোহিঙ্গা নারী রহিমা খাতুন (৩২) বলেন, ‘মিয়ানমারের রাখাইনে খুব কষ্টে আমাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয়। ১৮ বছরের নিচে তো দূরের কথা উপযুক্ত কোন সন্তানদের বিয়ে দিতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো সরকারের অনুমতির জন্য।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সদ্য বিয়ে হয় আবুল কালাম ও সুফিয়া বেগমের। ক্যাম্পে তাদের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। নববধূ সুফিয়া কোনও কথা না বললেও স্বামী আবুল কালাম বলেন, ‘রাখাইনের চেয়ে তারা ক্যাম্পেই আনন্দ উপভোগ করছেন। কারণ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেই সেনাবাহিনীর ভয়। নেই কোনও উগ্রপন্থী মগদের ভয়। স্বল্প খরচেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করছেন তারা। একটু অভাব হলেও খুব ভালোই দিন যাচ্ছে তাদের।’

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নিকারুজ্জামান বলেন, ‘প্রথমে এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের সামাল দেওয়া সরকারের পক্ষে অনেকটা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এতে করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন আনতে সবাইকে হিমশিম খেতে হয়। এখন সব কিছু পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। সম্প্রতি ক্যাম্পে বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের বিয়ের ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বাল্যবিয়ে ঠেকাতে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের বয়সের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষদের বিয়ে না দিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যেহেতু রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়, সেহেতু তাদের কাবিননামা ও নিবন্ধন করার প্রশ্নই আসে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তারা তাদের সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী সন্তানদের বিয়ে দিচ্ছে। এরপরও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়োজিত ক্যাম্প ইনচার্জরা ১৮ বছরের নিচে যাতে বিয়ে না দেয় সে বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করছেন।’

তবে, শুধু বিয়েই নয়; জন্মনিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরও  নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করেন সুশীল সমাজ ও রোহিঙ্গা বিশ্লেষকরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ