প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়ছে না বিদেশি বিনিয়োগ

ডেস্ক রিপোর্ট: টানা তিন অর্থবছর প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের উপরে থাকলেও দেশে বাড়ছে না বিদেশি বিনিয়োগ। যাও আসছে তার বেশিরভাগ-ই পুনর্বিনিয়োগ কিংবা প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ। উদ্যোক্তারা বলছেন, দক্ষ জনশক্তির অভাব, খরচ বাড়াসহ নানা কারণে বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না বিদেশিদের। পরিস্থিতি পরিবর্তনে বড় প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ অর্থনীতিবিদদের।

অপেক্ষাকৃত কম উন্নত দেশগুলোতে টেকসই প্রবৃদ্ধি আর অর্থনীতির স্বাভাবিক গতি ঠিক রাখতে প্রয়োজন পড়ে বিদেশি বিনিয়োগের। লাভের অংশ কম হলেও ঝুঁকি এড়ানোর সঙ্গে অর্থের সুরক্ষায় এসব দেশে নতুন বিনিয়োগের চেয়ে প্রতিষ্ঠিত খাতে লগ্নিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বিদেশিরা।

যে কোন দেশেই মূলত চারটি ধাপে বিনিয়োগ করেন বিদেশি উদ্যোক্তারা। একেবারে নতুন বিনিয়োগে সম্পূর্ণ অর্থায়নই করেন বিনিয়োগকারীরা, এক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হওয়ায় লাভের পরিমাণও থাকে বেশি। ঠিক এই জায়গাটিতেই বারবার হোঁচট খাচ্ছে বাংলাদেশ, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ব্রান্ড আলিবাবা নেমেছে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়, আকিজ বিড়ির স্বত্ত্ব কিনেছে জাপান টোব্যাকো, এমনকি অ্যাপসভিত্তিক সেবা প্রতিষ্ঠান সহজে যুক্ত হয়েছে সিঙ্গাপুরের নাম। এসবই, অনেকটা তেলা মাথায় তেল ঢালার মতো, নতুন কোন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমেই পরিণত হচ্ছে হতাশায়।

সহজ ডট কম এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মালিকা এম কাদের বলেন, ‘ফান্ডিংয়ে হয় কি একেকটা স্টেজ থাকে, একেক স্টেজে একেক টাইপের ইনভেস্টর থাকে। আমাদের দেশে টেকনোলজি স্কিল পাওয়ার খুব কঠিন। আউটসোর্সিং অনেক ভাল একটি বিষয় আমাদের জন্য, কিন্তু আউটসোর্সিংয়ে প্রডাক্ট ডেভলোপিং শেখা হয় না।’

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রবৃদ্ধির স্বার্থে সরকারি বিনিয়োগ বাড়লেও, দেশে বাড়ছেনা বেসরকারি বিনিয়োগ, ফলে অর্থলগ্নিতে আস্থা রাখতে পারছে না বিদেশিরাও। এ ধারা চলতে থাকলে টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।

ফ্রান্স বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স নির্বাহী পরিচালক রাশিদা ইসলাম বলেন, ‘কম্পিটিটর হিসেবে নয়, আমার দেশের উন্নতির জন্যে একসঙ্গে মিলে ব্যবসা করার মানুষিকতা রাখতে হবে। জিডিপি তো আমাদের বেড়েই যাচ্ছে। কিন্তু সেটা কিন্তু বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারেনি বিদেশি বিনিয়োগদের। আকর্ষণ করার জন্য আস্থা অর্জন করতে হবে।

বিবিএস এর শ্রমশক্তি জরিপ বলছে, শেষ দুই অর্থবছরে দেশে প্রথমবার কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র সাড়ে ৫ লাখ মানুষের, যার পেছনে বড় কারণ নতুন কোন খাতে দেশি বিদেশি বিনিয়োগ সংকট। অথচ এর আগের এক দশকে প্রতিবছর গড়ে ১২ লাখ মানুষ প্রবেশ করেছে নতুন চাকুরীতে।