প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অতিউৎসাহ কিংবা মোসাহেবি

মাসুদ কামাল : জাতীয় সংসদে এই সরকারের শেষ অধিবেশনটি শুরু হলো গত ২১ অক্টোবর রবিবার। অধিবেশনের একেবারে প্রথম দিনেই গুলশান-বনানী এলাকার সংসদ সদস্য একটা দারুণ কথা বলেছেন। কী বলেছেন? তিনি বলেছেন, আমাদের সংবিধান প্রণয়নের সময় তাতে বঙ্গন্ধুর নাম অন্তর্ভুক্ত না করার অপরাধে ড. কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত! এই এমপি সাহেবের নাম এস এম আবুল কালাম আজাদ। আমি নিশ্চিত রাজধানীর সবচেয়ে অভিজাত এলাকার অধিকাংশ মানুষ তাদের এই জনপ্রতিনিধির নাম জানেন না। জানেন না ভদ্রলোকের রাজনৈতিক দল কোনটি। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে বর্তমান সময়ে সরকার কিছুটা বিব্রত। উনি একসময় আওয়ামী লীগেই ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর খুব কাছের মানুষও ছিলেন তিনি। এমনকি বাহাত্তর সালে যখন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়, তখন তার নেতৃত্বও দিয়েছেন। এমন একজন মানুষ যখন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ঐক্যের সঙ্গে থাকেন, তখন সেটা নিয়ে চিন্তিত হওয়ার মতো ঘটনাও বটে। রাজনীতিতে এমনটা হতেই পারে। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়া যেভাবে দেখা যাচ্ছে, সেটা কিছুটা উদ্বেগজনক। অনেকেই এখন উঠেপড়ে লেগেছেন ড. কামাল হোসেন কত মন্দ, কত সাধারণ তা প্রমাণে।

কদিন আগে সরকারি দলের এক নেতা ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেন। সংসদে সেদিন তোফায়েল আহমেদ জানালেন, ড. কামালের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেগুলো সংসদে পেশ করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএনপি নেতা হুঙ্কার দিলেন মামলার। আচ্ছা, বাহাত্তরের সেই সংবিধানে বঙ্গবন্ধুর নাম কী সংযোজন আদৌ সম্ভব ছিলো? যে সংসদে তখন সংবিধানটি অনুমোদিত হয়, সেখানে তো বঙ্গবন্ধু স্বয়ং ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নামটি সংবিধানে সংযোজন করলে বঙ্গবন্ধু নিজেই কী তা অনুমোদন করতেন? আমাদের সংবিধানের যে চেহারাটি বর্তমানে আমরা দেখতে পাই, সেখানে তো রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামও রয়েছে। বাহাত্তরের সংবিধানে ইসলামের এই সংযোজন না থাকার অপরাধেও কী এখন কেউ মামলা করার হুমকি দিতে পারে? ড. কামালের সমালোচনা করতে চাইলে অনেকভাবেই করা যায়। কিন্তু বেছে নেওয়া এই পদ্ধতিগুলো কী আসলেই তেমন কার্যকর হবে? মানুষ বিশ্বাস করবে?

আসলে, মোসাহেবি বা তৈল প্রদান একটা রোগ। আর এই রোগটি যে কতটা সংক্রামক হতে পারে, সেটিও এখন প্রতিনিয়ত প্রকটভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে।

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ