প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জীবনানন্দ দাশ : আধুনিক বাংলা কবিতার এক কিংবদন্তি

অসীম সাহা : ২২ অক্টোবচর রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশের ৬৪তম প্রয়াণ দিবস। ১৮৯৯ সালের ১৭ ফ্রেব্রুয়ারি বরিশালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৫৪ সালের ২২ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর মত্যু হয়! তাঁর পিতা সর্বানন্দ দাশ এবং মাতা কবি কসুমকুমারী দাশী। আধুনিক বাংলা কবিতার কিংবদন্তি এক মহানায়কের নাম জীবননানন্দ। সবচেয়ে পেছনে থেকেও শুধু কাব্যিক শক্তিতে বাংলার কবিতায় যিনি নিজের আসনকে প্রধান করে নিয়েছেন এবং বাংলা কবিতাকে আন্তর্জাতিকতা দান করেছেন তাঁদের মধ্যে তিনি প্রধানতম। প্রকৃতি, নিঃসঙ্গতা, একাকিত্ব, সমাজ-সমকাল তাঁর কবিতায় যে ব্যঞ্জনা ও নতুন কাব্যশক্তির আধার হয়ে বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছে, তার তুলনা পৃথিবীতেই বিরল।

জীবনানন্দ দাশ পৃথিবীর কবি হয়েও মূলত বাংলার কবি। বাংলার মাটি-কাদা-জল তাঁর কবিতার সর্বাঙ্গকে এমনভবে জড়িয়ে রয়েছে, যা থেকে পরস্পরকে বিচ্ছিন্ন করা অসম্ভব। তা ছাড়াও বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, মিথ ও পুরাণ যেমন, তেমনি পৃথিবীর বিভিন্ন বিষয়কে আত্তীকরণের মাধ্যমে তিনি তাঁর কবিতায় যে নতুন মাত্রা সংযোজন করেছেন, তা পৃথিবীর কবিতাতেই একটি ভিন্নতর দ্যোতনা তৈরি করেছে। প্রতিটি বিষয় যে অসামান্য ব্যঞ্জনায় তাঁর কবিতায় উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে, এর আগে বাংলা কবিতায় তার আভাস তেমন পাওয়া যায় না। শুধু বিষয়বৈচিত্র্যের দিক থেকে নয়, আঙ্গিক ও প্রকরণেও তিনি ভিন্নমাত্রিকতার জন্ম দিয়েছেন। বিশ্বকবিতার পটভূমিতেও তা সমান্তরালভাবে গৃহীত হবার যোগ্য। বাংলাদেশের বরিশাল শহরে তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা। নদীমেখলা বরিশালের প্রকৃতি তাঁকে যে স্বাভাবিক প্রাকৃতিক আবহের মধ্যে জড়িয়ে থাকার সুযোগ দিয়েছে, রূপসী বাংলার কবির কবিতার পরতে পরতে তা দ্যুতিময় হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। যে প্রকৃতির মধ্যে তাঁর জন্মগ্রহণ, বেড়ে ওঠা, জীবনযাপন, তাই তাঁর বোধের জায়গাটিকে করে তুলেছে অন্তর্লীন মহিমায় ভাস্বর!

বঙ্গবাণী, প্রবাসী, প্রগতি, কল্লোল প্রভৃতি পত্রিকায় কবিতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে জীবনানন্দ দাশ বাংলা কবিমহলে যেমন, তেমনি সাধারণ পাঠকের কাছেও ভিন্নমাত্রিক কবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠতে থাকেন।

‘ঝরা পালক’ কাব্যগ্রন্থের মধ্য দিয়ে কবি হিশেবে যে জীবনানন্দ দাশের আবির্ভাব, ক্রমাগত তাকেই অতিক্রম করে তিনি হয়ে উঠেছেন বাংলা কবিতার একক বা অদ্বিতীয় প্রতিভু। প্রতিনিয়ত বাকপরিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকেই তিনি বারবার অতিক্রম করতে চেয়েছেন এবং তাতে সাফল্য লাভ করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে জীবনানন্দ দাশ এমন একজন কবি, মধুসূদন রবীন্দ্রনাথের কথা মনে রেখেও শুধু কবিতার ক্ষেত্রে জীবনানন্দকে অদ্বিতীয় স্থানে রাখা ছাড়া উপায় নেই। বাংলা কবিতায় তিনি একমেবাদ্বিতীয়ম্। ‘তাহার মতন আর কেহ নাই’ তাঁরই পঙ্ক্তি দিয়ে তাঁকে মূল্যায়ন করতে গেলে একথা বলতেই হবে। আসলে জীবনানন্দ দাশ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অভিজ্ঞতায়, অনুভবে, প্রেম-বিরহ-অভিমানে, নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্বে এক একক সত্তা হয়ে আছেন। জীবনানন্দ দাশের জন্মদিনে আমরা তাঁকে বরণ করতে চাই আমাদের অন্তর্লীন ভালোবাসা দিয়ে, হৃদয়ের গভীরতর তলদেশ থেকে অর্ঘ্যরে ডালি সাজিয়ে।

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত