প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপির তৃণমূলে আন্দোলন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির বার্তা

আমাদের সময় : চাপ সামলে এগিয়ে যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে যতই মামলা, হামলা হোক কৌশলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে রাজপথে কর্মসূচি পালনই হচ্ছে দলটির লক্ষ্য। বিএনপির একাধিক শীর্ষনেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগে সব চাপ বিএনপিকে ২০ দলীয় জোটকে সঙ্গে নিয়ে সামলাতে হতো। কিন্তু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের পর স্নায়ুচাপ থেকে বিএনপি কিছুটা মুক্ত হয়েছে। বর্তমানে দলটির মূল লক্ষ্য নির্বাচনকেন্দ্রিক আন্দোলন। সরকার যতই নির্যাতন করুক এর বাইরে কোনো অবস্থাতেই অন্য কোনো ইস্যুতে আন্দোলন করবে না। অর্থাৎ বর্তমানে একটাই লক্ষ্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি আদায়।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার নানাভাবে উসকানি দিয়ে আমাদের মাঠে নামাতে চাইছে। এ জন্য খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ার সময় এবং ২১ আগস্ট মামলার রায়কে কেন্দ্র করে নানা গুজব ছড়ানো হয়। কিন্তু বিএনপি ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। কারণ আমাদের উদ্দেশ্য নিরপেক্ষ সরকারের অধীন একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আদায় করা। বিএনপি সেই পথেই আছে।

দলীয় সূত্রে জানা
যায়, ইতোমধ্যে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে মাঠ পর্যায়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত দাবি আদায় হলে নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বেগ পেতে না হয় সেই প্রস্তুতিও নিচ্ছে দলটি। বিএনপির ভিশন-২০৩০ আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি করতে দলের হাইকমান্ড থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের নির্দেশও দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আন্দোলনে যাওয়ার আগে প্রতিটি আসনে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের বিকল্প প্রার্থীও রাখা হবে। এ ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনী জোট হিসেবে মেনে তাদের মধ্যেও সবুজ সংকেত দেওয়া হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের ঢাকা থেকে মনোনয়ন দেওয়ার চিন্তা আছে বিএনপির হাইকমান্ডের।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হতে না পারে সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি সে কাজটি করতে সক্ষম হয়েছে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে তারেক রহমানের ফাঁসির রায় হবেÑ এমন শঙ্কা তাদের মধ্যে ছিল। নেতাদের ভাষ্য, তারেক রহমান ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও সরকার ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় আসামি করা হয়েছে। সে থেকে তাদের উল্লিখিত ধারণা তৈরি হয়েছিল। তারেক রহমানকে এই মামলায় যাবজ্জীবন রায় দেন আদালত। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের এসব মামলা নিয়ে অনেকে ফায়দাও নিয়েছে। এখন সেই অবস্থার অবসান হয়েছে। এখন কোনো পিছুটান নেই দলটির।

১৩ অক্টোবর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আত্মপ্রকাশের পর বাংলাদেশ ন্যাপ ও এনডিপি ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায়। ছয় বছর আগের জোটসঙ্গী বেরিয়ে গেলেও ওই দল দুটি ভেঙে গেছে। কয়েক ঘণ্টার মাথায় দল দুটির একাংশ ২০ দলীয় জোটে থেকে যায়। এতে ২০ দলীয় জোট অটুট রাখতে সক্ষম হয় বিএনপি। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট থেকে ছিটকে পড়া সাবেক রাষ্টপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশেও ভাঙন ধরেছে। নুরুল আমিন বেপারির নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেয়। ২০ দলীয় জোটের বাইরে আরও বেশ কিছু দলকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আমরা আগে নিরপেক্ষ সরকার দাবিতে জোটসঙ্গীদের নিয়ে আন্দোলন করেছি। এখন এটা জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তি এখন দেশের সব বিরোধী দল চায়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবিও একই। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতাদের কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। এখন আমাদের সামনে এগুবার পালা।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। যেখানে যার জয়ের সম্ভাবনা আছে; সেখানে তাকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আসলে এসব নিয়ে আমাদের আপাতত কোনো ভাবনা নেই। আমাদের সবার লক্ষ্য দেশে একটা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করা। যেমনটা আমাদের দেশনেত্রী খালেদা জিয়া চেয়েছিলেন।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, আগে নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে বিএনপি অথবা ২০ দলীয় জোটের শরিকরা কথা বলত। কিন্তু এখন বাম ও ইসলামী দলগুলোও নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করছে। ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীও এই দাবির বাইরে নন। শুধু রাজনৈতিক দলগুলোই নয়; সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও একই সুরে কথা বলছেন। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলছেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিরূপ মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে। ইইউ ইসিকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে তারা আগামী সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। অন্য দাতা ও সাহায্য সংস্থা, বিদেশি মিশন থেকেও নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ বাংলাদেশে বর্তমানে নির্বাচনের কোনো পরিবেশ নেই। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির জন্য অবশ্যই আন্দোলন করবে। এ অবস্থায় আগামী নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই হবে।

বরিশাল উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আ ক ন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, আন্দোলনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে আমরা নিয়ে ফেলেছি। বিএনপি নেতারা বলেন, আন্দোলনের প্রস্তুতি থাকলেও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করার কৌশল নিয়েছেন। তাদের লক্ষ্য একটাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া। সে কারণে অন্য কোনো ইস্যুতে হঠকারী আন্দোলনে না যাওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত তাদের আছে। আগামী ২৪ অক্টোবর সিলেট, ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রামে এবং ২ নভেম্বর রাজশাহীতে সমাবেশ করতে চায়। সরকার অনুমতি না দিলেও সংঘাত এড়িয়ে চলবে তারা। বিএনপি নেতারা বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে কর্মসূচি হলেও মূল কাজ তো করবে বিএনপি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, আমরা সারা দুনিয়াকে দেখাব কীভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকার দাবি পূরণ করতে হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত