প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সড়কে অরাজকতা চলছেই!

প্রিয়.কম : নিরাপদ সড়ক চাই—এটি একটি বাক্য। আবার আন্দোলনের নামও। এ নিয়ে বছরের পর ধরে খণ্ড খণ্ডভাবে আন্দোলন চলে আসছে। এ বছরের ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনার পর তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

স্কুল-কলেজের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সারা দেশের মানুষকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিল, কীভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিরে আনতে হয়। কীভাবে সড়কের বেপরোয়া যানবাহনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তাদের এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়েছিল সরকারসহ দেশের সাধারণ মানুষ। এমনকি শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে পরিবহন আইনেও সংশোধন আনা হয়েছে।

নতুন আইনে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর জন্য পাঁচ বছরের সাজা এবং ইচ্ছাকৃত চালক দ্বারা কোনো দুর্ঘটনা ঘটালে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আলোড়ন সৃষ্টিকারী এমন ঘটনার পরে মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। সাধারণ মানুষ ভেবেছিল হয়তো সড়কের অরাজকতা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মিলবে। কিন্তু সড়কে এখনো সেই পুরনো দৃশ্য। এখনো প্রতিদিনই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হচ্ছেন বহু মানুষ।

রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সাইন ও ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশনা ভঙ্গের চেষ্টায় ব্যস্ত থাকেন চালকরা। দুই বাসের পাল্লাপাল্লি, রেষারেষি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং চালকদের নিত্যদিনকার কাজ। এর পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের নির্ধারণ করে দেওয়া স্টপেজগুলোতে বাস না থামিয়ে মাঝরাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো প্রতিদিনই যত্রতত্র চোখে পড়ে।

শুধু বাসের চালক-হেলাপরদেরই নন, পথচারী ও সাধারণ মানুষও ট্রাফিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন প্রতিদিন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলন্ত বাসে উঠছেন যাত্রীরা। আন্ডার পাস ও ওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও সড়কের মাঝখান দিয়ে পারাপার হচ্ছেন।

অপরদিকে ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়তই অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুধু রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মামলা ও লক্ষাধিক টাকা জরিমানা করছে পুলিশ। তবুও থামছে ন সড়কের অরাজকতা। ফলে কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না সড়কের প্রাণহানির ঘটনা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সচেতনতার অভাব এবং আইন না মানার মানসিকতািই সড়কের অরাজকতার মূল কারণ।

সারা দেশে পালিত হলো নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৮

‘আইন মেনে চলব, নিরাপদ সড়ক গড়ব’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে ২২ অক্টোবর পালিত হলো জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০১৮। ২৫ বছর আগে চট্টগ্রামের চন্দনাইশে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। স্ত্রী হারানোর শোক বুকে নিয়ে ইলিয়াস কাঞ্চন এরপরেই নেমেছিলেন সড়কে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে তিনি ‘নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’ নামের একটি সংগঠনও গড়ে তুলেছেন।

দীর্ঘদিনের এই সামাজিক সংগ্রামের ফলে গত বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে ৫ জুন মন্ত্রিসভায় ২২ অক্টোবরকে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস’ হিসেবে ঘষোণা করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজও দিবসটি পালিত হয়েছে। এই দিবসটি উপলক্ষে রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘নিরাপদ সড়ক দিবসের’ দিনেও বাবা-ছেলেসহ প্রাণ গেল পাঁচ জনের

‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের’ দিনের সূর্যের আলো ফোটার আগেই ভোররাতে কুমিল্লা-চাঁদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। ওই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন। নিহতরা হলেন—শাহরাস্তি উপজেলার ব্যবসায়ী এলেম হোসেন (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে মো. একরাম হোসেন (২৭) এবং একই এলাকার আবু সুফিয়ান (৩৬)।

ঘটনা সম্পর্কে হাজীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয়নাল জানিয়েছেন, কাভার্ড ভ্যান বা ট্রাক একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে চাপা দিলে অটোরিকশায় থাকা তিন ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

অন্যদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুই বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন সেলিম মিয়া (২২) নামে এক যুবক। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত জুয়েল (৩০) নামের অপর এক যুবকও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ঘটনা সম্পর্কে যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী জানান, এ ঘটনায় বাসচালককে আটক করা হয়েছে।

নিহত সেলিমের মা মনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, তার হার্টের চিকিৎসার জন্য তিনি আজ সকালেই গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় ছেলে সেলিমের বাসায় এসেছেন। ছেলের সাথে যাত্রাবাড়ী মোড়ে রাস্তা পারাপারের সময় দুই বাসের রেষারেষিতে সেলিম ও জুয়েল চাপা পড়েন। পরে তাদের ঢাকা মেডিকেল (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বেলা ২টার দিকে সেলিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আর বিকেল ৫টার দিকে মারা যান জুয়েল।

ট্রাকের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ২১ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে ট্রাকের ধাক্কায় রিকশায় থাকা মায়ের কোল থেকে ছিটকে পড়ে এক বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিশুর নাম নাবিলা।

নিহত শিশুর মা সাংবাদিকদের জানান, গত রাতে নিউমার্কেট থেকে একটি রিকশায় তিনি তার ভাইয়ের সাথে আদাবরে যাচ্ছিলেন। সে সময় নাবিলা তার কোলে ছিল। রিকশাটি মোহাম্মদপুর আরমান হাসপাতালের সামনে আসা মাত্রই পেছন থেকে একটি ট্রাক তাদের ধাক্কা দেয়। ওই ধাক্কায় রিকশাচালকসহ সবাই সড়কে পড়ে যান। এতে গুরুতরভাবে আহত হয় শিশু নাবিলা। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কালেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, মোহাম্মদপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু নাবিলার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

নিয়মের তোয়াক্কা নাই, স্টপেজ ছাড়াই থামছে বাস

সরেজমিনে ২২ অক্টোবর, সোমবার রাজধানীর মিরপুর, ধানমণ্ডি, ফার্মগেট, শাহবাগ, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নিয়ম-নীতির কোনো প্রকার তোয়াক্কা না করেই যেখানে-সেখানে থামছে যাত্রীবাহী বাস। স্টপেজ ছাড়া রাস্তার মধ্যখানে হঠাৎ করে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামানো করা হচ্ছে।

মোহনা পরিবহন নামের একটি বাস মিরপুর-১ নম্বর গোল চত্বর থেকে পার হয়ে আনসার ক্যাম্প এলাকা পর্যন্ত তিন জায়গায় থেমে থেমে যাত্রী তুলেছে। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে চলেছে ট্রান্সসিলভা নামের অপর একটি যাত্রীবাহী বাস। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা হাত তুললেই থামানো হচ্ছে বাসগুলো। কোথাও দু-তিন জন আবার কোথাও মাত্র একজন যাত্রী বাসের সামনে এসে হাত তুললেই সেই যাত্রীকে তুলে নিতে থামানো হয় চলন্ত বাস।

স্টপেজ ছাড়া বাস থামিয়ে যাত্রী তোলার কারণ জানতে চাইলে হালিম মিয়া নামের এক বাসচালক বলেন, ‘আমরা তো ইচ্ছা করে যাত্রী তুলি না। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে হাত তুললে তো আমাদের নিতেই হয়। আর আমরা না নিলে তো ঠিকই আমাদের পিছনের অন্য বাস নিয়ে নেবে। আর আমরা তো বাস স্ট্যান্ড ছাড়া তেমন দাঁড়াই না। অন্য জায়গায় দাঁড়ালে এখন তো পুলিশেও মামলা দেয়।’

থেমে নেই দুই বাসের রেষারেষি

দুই বাসের রেষারেষিতে প্রথমে হাত হারিয়ে, পরে প্রাণটাও হারিয়েছিলেন কলেজছাত্র রাজীব। এই ঘটনার পর আরও বেশ কিছু ঘটনা সামনে চলে এসেছিল। সারা দেশের মানুষের মনে নাড়া দিয়েছিল আলোচিত সেই ঘটনাগুলো। কিন্তু এত কিছুর পরও থামেনি বাসের রেষারেষি।

বাস স্টপেজ থেকে বা রাস্তা থেকে কে কার আগে বেশি যাত্রী তুলতে পারবে—সেই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় দুই বাসের চালক মিলে কেড়ে নিচ্ছেন মানুষের প্রাণ। অনেক ক্ষেত্রে তাদের এ ধরনের প্রতিযোগিতায় নিজেদের জীবনও পড়ে যায় চরম ঝুঁকির মুখে।

২২ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান করে রেষারেষির এমন দৃশ্য দেখা গেছে। কোথাও দুই বাস আবার কোথাও তিন বাস মিলে শুরু করে দেয় পাল্লাপাল্লি ও রেষারেষির লড়াই।

প্রেসক্লাব এলাকায় গাবতলী রোডে চলাচলকারী ৭ নম্বর ও ৮ নম্বর বাস একে অপরকে টক্কর দিতে গিয়ে লেগে যায়। এ সময় ৮ নম্বর বাসের চালক তার বাসটি না সরিয়ে উল্টো ৭ নম্বর বাসের চালককে ধমকানো শুরু করেন রাস্তার মধ্যেই। তখন যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে তোপের মুখে পড়ে বাস ছেড়ে দেন দুই চালক।

ট্রাফিক সাইনবোর্ডের নির্দেশ মানতে নারাজ চালকরা

যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় বাস থামানোর জন্য সুনির্দিষ্ট সাইনবোর্ড টানিয়েছে। সেই সব সাইনবোর্ডে দেওয়া আছে ‘বাস স্টপেজ শুরু’, ‘বাস স্টপেজ শেষ’। কিন্তু ওই সব সাইনবোর্ড যেন শুধু পথচারীদের জন্যই। বেশির ভাগ চালকই তার কোনো তোয়াক্কা করছেন না।

‘বাস স্টপেজ শুরু’ লেখা সাইনবোর্ডের আগেই থামানো হচ্ছে বাস। আবার ‘বাস স্টপেজ শেষ’ লেখা সাইনবোর্ডের পরে গিয়ে থামানো হচ্ছে বাস। অর্থাৎ বাসের চালকরা ইচ্ছাকৃতভাবে ওই সব সাইনবোর্ডের আইন মানছেন না।

পুলিশের দেওয়া বাস স্টপেজের সাইনবোর্ডের স্থানে বাস না দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে শিখর পরিবহন নামের বাসের চালক জলিল মিয়া বলেন, ‘পুলিশের সাইনবোর্ড দেইখ্যা কি আর যাত্রী পাওয়া যায়? আমরা নিয়মিত যেখান থেকে যাত্রী নেই, সেখান থেকেই নিচ্ছি—এতে কার কী সমস্যা?’

যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষও

শুধু বাসচালকরাই আইন ভাঙছেন তা নয়, অনেক মানুষও ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে যত্রতত্র রাস্তা পারাপার হচ্ছেন। আন্ডার পাস ও ওভার ব্রিজ থাকার পরেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যদিও সম্প্রতি রাস্তা পারাপারের জন্য মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনকে জরিমানা করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবুও বাড়েনি পর্যাপ্ত সচেতনতা।

২২ অক্টোবর দুপুরে কল্যাণপুর এলাকায় কয়েকজনকে মূল সড়কের মধ্য চলন্ত গাড়ির সামনে হাত উঠিয়ে রাস্তা পারাপার হতে দেখা গেছে।

গাড়িতে উঠতে বাঁচা-মরার যুদ্ধ

চলন্ত গাড়িতে ওঠা যেন অন্য রকমের এক মজা রয়েছে বেশ কিছু যাত্রীর মাঝে। তাই সামান্য গতিতে চলাচলকারী বাসের সামনে গিয়ে সিগন্যাল দিয়ে দৌড়ে উঠে পড়েন গাড়িতে। এতে করে প্রায়ই ঘটে নানা রকমের দুর্ঘটনা।

২২ অক্টোবর ফার্মগেট এলাকায় শিকড় পরিহনের একটি বাস স্টপেজবিহীন সড়কে হালকাভাবে ব্রেক করতেই ছুটে যান এক যুবক। প্রায় ১০ সেকেন্ড যুদ্ধ করার পরে তিনি বাসে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু সে সময় তার অথবা বাসচালকের সামান্য ভুলে চলে যেতে পারত তার জীবনটাও। এ ধরনের অস্থিরতাও সড়ক দুর্ঘটনার একটি বড় কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অরাজকতা প্রতিদিনই হচ্ছে

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল বলেন, ‘সড়কে অরাজকতা প্রতিদিনই আমাদের সইতে হচ্ছে। এটা নতুন কিছু না। এটাকে নিয়ন্ত্রণের জন্য আসলে আমরা কোনো ধরনেরই বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। আমাদের প্রশাসনকে আইনের প্রয়োগটা আরও বাড়ানো দরকার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এটা, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরে আমাদের বাসের ওপরে যে একটা কঠোর আইনি প্রয়োগ দরকার ছিল, সেটা হয়নি। শুধুমাত্র প্রাইভেট পরিবহনগুলোর প্রতি বেশি হয়েছে।’

‘যতটুকু হয়েছিল তাও এখন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বাসচালকরা যারা বেপরোয়া বাস চালাত, তারা আবারও সক্রিয় হয়েছে। অভিযানের সময় তারা একটু দমে যায়, অভিযান শেষে আবারও আগের মতোই আচরণ করে রাস্তায় ফিরে আসে। এ জন্য আমাদের আইনের প্রয়োগটা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু সময়ে নয়, সবসময় থাকা উচিত।’

ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিতই অভিযান চলছে

ট্রাফিক বিভাগের বিভিন্ন অভিযানের বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) ওবায়দুর রহমান জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিতই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ ও ১৯ অক্টোবর রাজধানীতে ট্রাফিক আইন অমান্যকারী গাড়ি ও চালকদের বিরুদ্ধে তিন হাজার ১৮২টি মামলা ও ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এ ছাড়াও ওই অভিযানে আটটি গাড়ি ডাম্পিং ও ৪৮৩টি গাড়ি রেকার করা হয়।

ট্রাফিক সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত মামলা ছাড়াও উল্টোপথে গাড়ি চালানোর কারণে ২৯৬টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা, হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করার দায়ে ৯৩টি, হুটার ও বিকন লাইট ব্যবহার করার জন্য পাঁচটি এবং মাইক্রোবাসে কালো গ্লাস লাগানোর জন্য সাতটি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে পুলিশ।

ট্রাফিক সূত্রে আরও জানা যায়, ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে ৯৫৪টি মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা ও ৫৪টি মোটরসাইকেল আটক করা হয়। সেই সাথে গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করার অপরাধে চালকের বিরুদ্ধে ১৮টি মামলা দেওয়া হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত