প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইচআরপিবি অ্যাওয়ার্ড পেলেন অধ্যাপক আবু সায়ীদ ও ডা. সামন্ত লাল

সমকাল : মানবাধিকার রক্ষায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও ডা. সামন্ত লাল সেন।

পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে রোববার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাধ্যমে শিক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ পেয়েছেন এইচআরপিবি অ্যাওয়ার্ড ২০১৭। অন্যদিকে ডা. সামন্ত লাল সেন চিকিৎসাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য এইচআরপিবি অ্যাওয়ার্ড ২০১৬ পেয়েছেন।

পুরস্কার গ্রহণ করে শুভেচ্ছা বক্তৃতায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠতা অধ্যাপক আবু সায়ীদ বলেন, ‘এত ছাত্র মানুষ কোথায়? এখন পরিস্থিতি এমন হয়েছে মানুষের পরিচিতি ঠিক থাকে, কিন্ত মানুষই বদলে যাচ্ছে। ছোট থেকে যাদেরকে সৎ-আস্থাভাজন নির্লোভ মনে করে শ্রদ্ধা করেছি, এখন দেখছি তাদের প্রত্যেকের চেহারা থেকে চোরের মুখ বের হচ্ছে। আলোকিত মানুষ তৈরি না হলে এ অবস্থার পরিত্রান হবে না।’

মানুষের অধিকার রক্ষায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ভেতর থেকে প্রচণ্ড এক তাড়না থেকে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি আসে, যারা এটা অনুভব করেন তারা ছুটে যান। এর পেছনে একটা বেদনা রয়েছে। কারণ মানুষের বেদনার শক্তি নতুন কিছু করতে পথ দেখায়।’

আলোকিত মানুষ গড়তে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ বলেন, ‘আমরা কথায় কথায় বলি ঘাতক ট্রাক, কিন্তু এ বলে কিছু নাই। আছে ঘাতক চালক। এখন তার কাছে কি নেই? সেটা হলো শিক্ষা। সে জন্য সরকারকে চিঠিও দিয়েছিলাম। তাতে কিছু কাজ হয়েছে। বলেছিলাম যদি চালক এসএসসি পাস হয় তাহলে তার মধ্যে সচেতনতা আসবে। কারণ তার শিক্ষা তাকে বদলে দেবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আলোকিত মানুষ গড়তে চেষ্টা করছি। দেশে অনেক বড়লোক। কিন্ত বড়লোক দিয়ে দেশ গড়া যায় না। এ জন্য প্রয়োজন শিক্ষা, সচেতনতা, মানবিকতা। স্বপ্ন থাকতে হবে বড় হওয়ার। একটা মানুষের মধ্যে নিজের জীবনের মূল্য আসে তখনই যখন সে অপরের জন্য কিছু করতে পারে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট এবং বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি প্রকল্পের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, পুরস্কৃত হলে কাজের উৎসাহ বাড়ে। এই পুরস্কার সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করে যেতে হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেন, ‘যাদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তারা দেশি-বিদেশি অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। এই পুরস্কার তাদেরকে আরও সমৃদ্ধ করবে। প্রবীণ, নবীন ও তরুণদেরকে কাজের মধ্যে সমন্বয় করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।’

সংগঠনের সভাপতি মনজিল মোরসেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চলচ্চিত্রের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী সারহ বেগম কবরী, একুশেপদকপ্রাপ্ত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন। অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই গুণীজনের ওপর পৃথক প্রামান্যচিত্র এবং সংগঠনের কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়।

সারাহ বেগম কবরী বলেন, তারা দুজনই আলোকিত মানুষ, দেশের জন্য, মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

জুয়েল আইচ বলেন, ‘আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আমাদের সবার স্যার। তার কাছ থেকেই আমরা প্রতিনিয়ত শিখছি।’

সামন্ত লাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে চিকিৎসা সেবার চাইতে ব্যবসা বড়। সেখানে তিনি ব্যাতিক্রম। তিনি আছেন জানলেই বলা যায় রোগী সঠিক চিকিৎসাটা পাচ্ছেন।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, নাগরিকদের মানবাধিকার রক্ষা করা যাদের দরকার তারা সেগুলো ঠিক মতো করছেন না, কিছু মানুষ এ কাজগুলো নীরবে করছেন; যাদের দুজন পুরস্কৃত হয়েছেন। এ সময় বিচার বিভাগ মানুষকে যথাযথ বিচার দিতে পারছে না বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, কোথাও একটা বাধা রয়েছে, তা দূর করতে হবে।

সভাপতির বক্তৃতায় মনজিল মোরসেদ বলেন, এইচআরপিবি অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে কাজ করছে। সব বাধা উপেক্ষা করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে আরও কিছু দেওয়ার লক্ষ্যে সকলের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ