প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবসরের ঘোষণা হেরাথের

বাংলাদেশ জার্নাল : একের পর এক বড় বড় ক্রিকেটারের বিদায়ে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট এখন পুরোপুরি অন্ধকারে। কুমারা সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনেদের বিদায়ের পর যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, সেটা কোনোভাবেই পূরণ করতে পারছে না ক্রিকেট পাগল দেশটি। তবে টেস্ট ক্রিকেটে দেশটির শেষ আশা-ভরসার প্রতীক হয়ে ছিলেন বাম হাতি স্লো অর্থোডক্স স্পিনার রঙ্গনা হেরাথ।

সেই হেরাথই কি না এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি সিরিজে প্রথম টেস্ট খেলেই বিদায় নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন রঙ্গনা হেরাথ। ৬ নভেম্বর থেকে গলে শুরু হবে এই টেস্ট। ১০ তারিখ শেষ হবে ম্যাচটি।

এরপরই অতীত হয়ে যাবেন হেরাথ। আর কোনোদিন দেখা যাবে না তার মায়াবী স্পিনের জাল। তার বলে বিভ্রান্ত হয়ে একের পর এক উইকেট হারাচ্ছে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা- এমন দৃশ্যও আর কখনও দেখা যাবে না ১০ নভেম্বর থেকে।

মুরালির বিদায়ের পর সাঙ্গাকারা-জয়াবর্ধনেরা টেনেছেন লঙ্কান ক্রিকেট। তাদের বিদায়ের পর অন্তত টেস্ট ক্রিকেটে তাদের ভরসার প্রতীক হয়ে ঝিলেন হেরাথ। এবার এই স্পিনার বিদায় নিলে নিশ্চিত, টেস্টেও অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে লঙ্কানদের ক্রিকেট। কারণ, সে মানের ক্রিকেটার এখন আর অবশিষ্ট নেই শ্রীলঙ্কায়।

টেস্ট ক্রিকেটে মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর লঙ্কান ক্রিকেটের পতাকা বহন করে চলছিলেন হেরাথই। টেস্টে মুরালিধরন, শেন ওয়ার্ন কিংবা অনিল কুম্বলেদের পর স্পিনার হিসেবে চার নম্বর সেরা উইকেটশিকারী হলেন হেরাথ। তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৪৩০ উইকেট।

১৯ বছর আগে এই গলেই ক্যারিয়ারের সূচনা করেছিলেন হেরাথ। শ্রীলঙ্কান গ্রেট মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর নিজ দেশের হয়ে সেরা উইকেটশিকারী হেরাথ। আর বর্তমান সময়ে খেলে যাওয়া বোলারদের মধ্যে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী তিনি। তার সামনে রয়েছেন জেমস অ্যান্ডারসন ৫৬৪ এবং স্টুয়ার্ট ব্রড ৪৩৩ উইকেট। তবে বাম-হাতি স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল বোলার হলেন শ্রীলঙ্কান এই স্পিনার।

১৯৯৯ সালে অভিষেক ঘটলেও রঙ্গনা হেরাথ কিন্তু ঢাকা ছিলেন গ্রেট মুত্তিয়া মুরালিধরনের ছায়ায়। অনেক সময় তিনি খেলারই সুযোগ পাননি। ক্যারিয়ারে এখনও পর্যন্ত ৯২টি টেস্ট খেলেছেন তিনি। যার মধ্যে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১০ সাল- অর্থ্যাৎ ১১ বছরে খেলেছেন মাত্র ২২টি টেস্ট। এই ২২ টেস্টে ৩৭.৮৮ গড়ে মাত্র ৭১টি উইকেট নিতে পেরেছিলেন তিনি।

তবে ২০১০ সালে মুরালিধরন অবসরে চলে যাওয়ার পর শ্রীলঙ্কার হয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পান তিনি। মুরালির অবসরের পর গত আট বছরে শ্রীলঙ্কা এখনও পর্যন্ত খেলেছে ৮১টি টেস্ট। এর মধ্যে হেরাথ খেলেছেন ৭০টি। এই ৭০ টেস্টে ২৫.৯৮ গড়ে হেরাথ দখল করেছেন ৩৫৯টি উইকেট। খুব বেশি বৈচিত্র্য নেই। তবুও, একেবারে নিখুঁত লাইন-লেন্থের জন্যেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন হেরাথ।

মুরালি অবসরে যাওয়ার পরপরই হেরাথের সবচেয়ে বীরোচিত পারফরম্যান্স ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। ২০১১ সালে ওই ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে লঙ্কানদের টেস্ট জিতিয়েছিলেন হেরাথ। এই ফর্ম তিনি টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন পরের বছরে। ২০১২ সাল জুড়ে সেরা টেস্ট বোলার ছিলেন রঙ্গনা হেরাথ। এক বছরে তিনি নিয়েছিলেন ৬০ উইকেট।

তবে সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত হলো হেরাথের জন্য ২০১৪ সালে কলম্বো টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ওই টেস্টে প্রথম ইনিংসেই তিনি নিয়েছিলেন ৯ উইকেট। পরের ইনিংসে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। ১৮৪ রান দিয়ে এক টেস্টেই হেরাথ নেন ১৪ উইকেট। ওই টেস্টে পাকিস্তান হেরেছিল ১০৫ রানের বড় ব্যবধানে। আর পাকিস্তানই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় প্রতিপক্ষ। এই একটি দেশের বিপক্ষেই তিনি নিয়েছেন মোট ১০৬টি উইকেট। গত বছরও আরব আমিরাতে পাকিস্তানকে টেস্ট সিরিজ হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। যেখানে ৪ ইনিংসে হেরাথ নিয়েছিলেন ১৬ উইকেট।

১০০ টেস্টের হাতছানি ছিল হেরাথের সামনে। কিন্তু সেদিকে আর তাকাচ্ছেন না এই লিজেন্ডারি বোলার। বয়সতো আর কম হয়নি। ৪১ ছুঁই ছুঁই। বয়স তো আর খেলতে অনুপ্রেরণা যোগায় না। সুতরাং, বিদায় বলে দেয়ার জন্য গল টেস্টকেই বেছে নিলেন তিনি। ক্যারিয়ারটা শেষ হয়ে যাবে তার ৯৩ টেস্টেই। তবে, শেষ টেস্টে গলের একটা রেকর্ড গড়তে পারবেন তিনি।

দ্বিতীয় বোলার হিসেবে এই মাঠে শততম উইকেট শিকারী হবেন হেরাথ। গলে এখনও পর্যন্ত ৯৯ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই মাঠেই ১১১ উইকেট নিয়েছিলেন মুত্তিয়া মুরালিধরন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ