প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মইনুলকে গ্রেফতার নিয়ে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম

আরিফুর রহমান তুহিন: জাতীয় ঐক্যের অন্যতম নেতা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিষ্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারের পরপরই সরব হয়ে ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। গ্রেফতারের ১ ঘণ্টার মধ্যে এই প্রতিবেদক ফেসবুকের প্রায় ৩’শ স্ট্যাটাস পর্যবেক্ষণ করে। সেখানে শতকরা প্রায় ৯৫ শতাংশ লেখাই ছিল তাকে গ্রেফতার নিয়ে। ব্যবহারকারীরা এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেছেন। গ্রেফতারের সাথে সাথে ফেসবুক ও টুইটারের টাইমলাইন ছিল মইনুলময়।

সাধারণ নাগরিকের লেখাগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বিষয়টিকে তারা খুব গুরুত্বসহকারেই নিয়েছেন। সেখানে বৃহৎ একটি অংশ তাকে গ্রেফতারের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে পরিবেশ তৈরি হচ্ছিল সেটায় প্রভাব পড়বে বলে মনে করেছেন। সেই সাথে মইনুলকে আরো সংযত হওয়া প্রয়োজন ছিলো বলেও অনেকে মত প্রকাশ করেন। একটি পক্ষ এটাকে রাজনীতির নতুন আকর্ষণ হিসেবে অবহিত করছেন। আরেকটি পক্ষ এটাকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ কেউ এটাকে সরকারের বিরোধী শক্তিকে দমনের অংশ হিসেবে বুঝাতে চেয়েছেন।

‘হাসান সান্তানু নামে একজন লিখছেন, মইনুল হোসেন গ্রেফতার।……. গত ১৬ অক্টোবর মধ্যরাতে একাত্তর টেলিভিশনের টকশোতে সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার মইনুলের অভব্য এক মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা হয়। জয়তু নারী সাংবাদিকতা।’
সোহল নামের আরেকজন প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়ে লিখেছেন, শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে মইনুলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলো। এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো আইনের ঊর্ধে কেই না।

মোরশেদ আলম নামের একজন আজকের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের রেফারেন্স টেনে লিখেছেন, ‘ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গ্রেফতার। ঠিক তার কয়েক ঘণ্টা আগেই ‘সরকার’ বললেন, ‘আপনারা মামলা করেন, বাকিটা আমি দেখবো।’ সত্যি সত্যিই উনি দেখিয়ে দিলেন।’
এটাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা উল্লেখ করে এসকে আল আমিন নামের আরেকজন লিখেছেন, ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হলো। এটা আরো একটি নগ্ন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ইতিহাস হয়ে থাকলো।

জুম্মন খান নামের একজন লিখেছেন, চলিতেছে সার্কাস। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন গ্রেফতার।
আনাস ভূঁইয়া নামে একজন লিখেছেন, অবশেষে সকল নাটকের অবসান ঘটিয়ে গ্রেফতার হলেন ব্যারিস্টার মইনুল।
হাসেম মোল্লা লিখেছেন, বাঘে ধরলে ছাড়ে, উনি ধরলে ছাড়ে না।
ওয়ালি উল্লাহ নামের একজন লিখেছেন, আমি ভাই জি বাংলার দর্শক। দেশের খোঁজ খবর রাখি না। তাই মইনুলের গ্রেফতারের বিষয়েও কিছু জানি না।

আজিজুল নামের আরেকজন লিখেছেন, মইনুলকে গ্রেফতারের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হলো এ দেশে বিরোধীদের কোনো স্থান নেই। যেই বিরোধীতা করবে সেই জেলে যাবে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর একাত্তর টেলিভিশনের টক শো ‘একাত্তরের জার্নাল’ এ ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাসুদা ভাট্টি প্রশ্ন করেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে আপনি যে হিসেবে উপস্থিত থাকেন- আপনি বলেছেন আপনি নাগরিক হিসেবে উপস্থিত থাকেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই বলছেন, আপনি জামায়াতের প্রতিনিধি হয়ে সেখানে উপস্থিত থাকেন।’

মাসুদা ভাট্টির এই প্রশ্নে রেগে গিয়ে মইনুল হোসেন বলেছিলেন, ‘আপনার দুঃসাহসের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি। আপনি চরিত্রহীন বলে আমি মনে করতে চাই। আমার সঙ্গে জামায়াতের কানেকশনের কোনো প্রশ্নই নেই। আপনি যে প্রশ্ন করেছেন তা আমার জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।’

এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে দেশব্যপী তোলপার শুরু হয়। মাসুদা ভাট্টি মইনুল হোসেনের নামে মানহানি মামলা করলে মইনুল উচ্চ আদালত থেকে ৬ মাসের আগাম জামিন নেয়।
সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের সময় ‘তার’ নজরে আনলে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা মামলা করেন, বাকিটা আমি দেখছি।’ এর ৬ ঘণ্টার মাথায় রংপুরের একটি মানহানি মামলায় আটক হলেন তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়ার ছেলে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সূত্র জানায়, সোমবার রাতে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন রাজধানীর উত্তরায় জেএসডি নেতা আ স ম রবের বাসায় একটি বৈঠকে মিলিত হলে পুলিশের একটি টিম বাড়িটি ঘিরে ফেলে। সেখান থেকে বের হওয়ার সময় মইনুলকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রংপুরের একটি মামলায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেফতারে আমাদের একটি টিম উত্তরা গেছে।
এদিকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আসম আব্দুর রবের বাসা থেকে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে নিয়ে যাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন সম্প্রতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন হিসেবে পরিচিত। তার নিজস্ব কোনো দল না থাকলেও ঐক্যফ্রন্টের সকল প্রোগ্রামে তার সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ করা গেছে। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সরকরের এমপি ও বর্তমানে ডেইলি নিউ নেশন পত্রিকার প্রকাশক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ