প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৈরাজ্যহীন, নিরাপদ সড়ক কামনা করি

রুহিন হোসেন প্রিন্স : এতো ঘটনা পরেও আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, সড়কে নৈরাজ্য একেবারেই দূর হয়নি। বরং এই নৈরাজ্য নানামুখি, এবং নানানভাবেই বেড়ে চলছে। কারণ আমরা বলেছিলাম, সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা ছাড়া এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়া এটি বন্ধ করা যাবে না। আমরা দেখতে পেলাম, কিছু পরিবর্তন হলেও প্রকৃতপক্ষে অতীতে আমরা যে সকল ব্যবস্থাগুলো নিতে বলেছিলাম এবং বিশেষজ্ঞরা যে সকল পরামর্শ দিয়েছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সে সকল কথাগুলো বা পরামর্শগুলো বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং সেই দায়িত্বগুলো পালন করা হয়নি। নিরাপদ সড়ক ও সাধারনের যাতায়ত ও রাস্তা পারাপারে পর্যাপ্ত ভূমিকা নেওয়া হয়নি ।

রেল-নৌ পথের উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত গণপরিহন চালু, ত্রুটিমুক্ত গাড়ি ও শ্রমিকের জীবনমানের উন্নয়ন হয়নি। সড়কে নৈরাজ্য দূর হয়নি। এটি খুবই দুঃখজনক এবং ক্ষোভের বিষয়।  সড়কের নৈরাজ্য দূর করা যদি সরকারের একান্ত ইচ্ছে থাকে, তাহলে এখনো সময় আছে বিশেষজ্ঞ এবং অন্যদের সাথে আলোচনা করে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  আমরা মনে করি, নতুন আইনে যাত্রিদের সার্বিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। আইনে এমন ফাঁক-ফোকর রাখা হয়েছে যে, কোন দুর্ঘটনা হলে, সেটি আসলে ইচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা কিনা এটি প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যাবে। আমাদের বিবেচনায় এই আইনে জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে। একারণেই এ আইনটি সংশোধন করা দরকার।  আরেকটি বিষয় হচ্ছে, মালিক শ্রমিক ঐক্যের নামে শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না ।

এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সরকারের মন্ত্রীরা। এই ঐক্যে শ্রমিকদের হীন স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। নানা সময় এরা নৈরাজ্যকে সমর্থন করছে। মালিকের মুনাফার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তারা এখন তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই ধর্মঘটসহ নানামুখি কর্মকা-কে সামনে নিয়ে আসছে। সরকার জনস্বার্থ না দেখে মালিকদের স্বার্থ দেখছে।

এটি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।  আমার মনে হয় এ ব্যপারেও সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত। এছাড়া সড়কে চলাফেরার বিষয়ে জনগণকেও সচেতন হতে হবে । সড়কে কান্না থামাতে আমাদের সকলের দায়িত্বশীল আচরণের বিকল্প নেই । জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে আমরা একটি নৈরাজ্যহীন এবং নিরাপদ সড়ক কামনা করি।

পরিচিতি : সম্পাদক, সিপিবি। সম্পাদনা : ফাহিম আহমাদ বিজয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ