প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বুকের পাটা শক্ত চাই

এস.আই.তানভী : নানান বিষয়ে পরিবর্তন আজ ঘরে ঘরে লক্ষণীয় হলেও একটা দিক থেকে আমাদের সমাজ বা পরিবার কোনভাবেই বদলাচ্ছে নাÑএই দিকটা হলো মেয়েদের ছোট করে রাখা। আমাদের দেশে দিনদিন ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছেই। প্রত্যেক এলাকায় কিছু নোংরা মনের মানুষ রয়েছে। যারা নানান ভাবে, নানান কৌশলে ধর্ষণ করে যাচ্ছে। যাদের হাত থেকে দুধের বাচ্চারাও রেহাই পায় না।  প্রতিদিন খবরের কাগজে কোন না কোন জায়গার ধর্ষণের খবর থাকবেই। তাছাড়া মোবাইল ফোন ধর্ষণের দৃশ্য ধারণ করে একই জনকে একাধিক বার একাধিক জন করে থাকে। ধর্ষণের যত খবর ছাপানো হয় তার থেকে অনেক বেশি খবর গোপন থেকে যায়।

এই গোপন রাখার একমাত্র কারণÑধর্ষিতাকে পুরো সমাজ নীচু চোখে দেখে। ধিক্। অনেক পরিবার তাদের মান সম্মান, ইজ্জত বা খ্যাতি বাঁচিয়ে রাখতে ধর্ষকদের বুক ফুলিয়ে চলতে সহায়তা করে তাদের সন্তানদের ধর্ষণ হবার কথাটা গোপন রেখে বা প্রতিবাদ না করে।

আবার অনেক ক্ষেত্রে ধর্ষিতা বা তার পরিবার ন্যায় বিচার না পেয়ে লজ্জায়, ঘৃণায় আত্মহত্যার পথ ধরে চলে যায় মৃত্যুপুরীতে। কেউ কোন রকমের কীটের মতো বেঁচে থাকে। ধর্ষকেরা সুযোগ বুঝে রাতের আঁধারে বা দিনে, পোড়া বাড়িতে বা রাজমহল কিংবা সংরক্ষিত এলাকায়, নির্জন বন জঙ্গলে নিয়ে বা চলন্ত বাসে ধর্ষণ করেই যাচ্ছে। নারীরা বিশেষ করে তরুণীরা মারাত্মক ভাবে ইভটিজিং এর শিকার। তারা বাড়ির বাইরে বের হলে বা স্কুল-কলজে যাওয়া আসার পথে নানান বয়সী পুরুষদের কাছ থেকে যৌন হেনস্তার শিকার। কোন মেয়ে পথে ঘাটে বা এলাকার ছেলেদের কাছ থেকে এমন পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাড়ির লোকজনকে জানিয়েও ফল পায় না।  বরং বাড়ির লোক জন উল্টো তাকেই বুঝায়, মাথা নিচু করে যাবি, মাথা নিচু করেই বাড়ি ফিরবি। কে কি বললো না বললো সেদিকে খেয়াল রাখার দরকার নেই।

যদিও কোন পরিবার প্রতিবাদ করে তাহলে তাদের নষ্টা খেতাব পেতে হয় এবং কোন কোন অঞ্চলের মোড়লরা বলে থাকে, মেয়েরা নিজেরাই দায়ী। তাদের পোষাক আশাক, রূপসজ্জার জন্য তারা লোভনীয় হয়ে উঠে।

ছোট্ট শিশুটির পোষাকও কি যৌন আবেদনময়ী? ষাটোর্ধ্ব মহিলার পোষাকও কি তাই! আবার বোরকা পরা মেয়েরা যে ধর্ষণের শিকার হয় না? পরিবারের অভিভাবকদের প্রতিবাদী হতে হবে এবং নারীদের হতে হবে ফাতেমা আক্তার অ্যানির মতো সাহসী।

কয়েকদিন আগে মৌলভীবাজার দি ফ্লাওয়ার্স কেজি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার অ্যানি মৌলভীবাজার পৌর বাজারে আব্দুর রহমান জিসান নামের একজন ইভটিজারকে জনসম্মুখে শায়েস্তা করে নজির স্থাপন করে গেলো। কেউ ভিডিও করে যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছিলো। মেয়েদেরও বুকের পাটা শক্ত থাকলে ধর্ষণ বা ইভটিজিং সমস্যা দ্রুত কমে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ