প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে কারণে ইরাক ভাঙতে মরিয়া ইসরায়েল

সাইদুর রহমান: সম্প্রতি ইরাকের শায়ত্ত্বশাসিত কুর্দি অধ্যূষিত অঞ্চলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ইসরায়েল সমর্থিত মাসুদ বারজানিই নির্বাচিত হয়েছেন। মাসুদ বারজানির নেতৃত্বেই গত বছর স্বাধীনতার জন্য গণভোটের আয়োজন করা হয়েছিল। স্বাধীন কুর্দিস্তানে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় পৃথিবীর একমাত্র সমর্থনকারী দেশ ইসরাইল।

মাসুদ বারজানির বিজয়ের পর ইসরাইলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কুর্দিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়া হয়েছে। ইসরাইলের এই অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।
মধ্যপ্রাচ্যে কুর্দিস্তানের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্চলটির চার দিকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ- ইরাক, সিরিয়া, তুরস্ক ও ইরান।এখানে আধিপত্য বিস্তার করতে পারলে এই দেশগুলোর মোকাবেলায় অনেকটা এগিয়ে যাবে ইসরাইল। কাজেই আরববিশ্বে জাতিগত বিভক্তি ও নিজেদের মিত্র পাওয়ার এমন সুযোগ তারা ছাড়তে চাইছে না।

এছাড়া অঞ্চলটির ব্যাপক অর্থনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কুর্দিস্তানের রয়েছে অঢেল তেলসম্পদ। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল না পেলেও ইসরাইলের আমদানিকৃত তেলসম্পদের ৭৭ শতাংশই কুর্দি অঞ্চল থেকে আসে। দেশটি স্বাধীন হলে ইসরাইলের জন্য তা নিরাপদ বাণিজ্যকেন্দ্রে হবে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে মাসুদ বারজানিকে নেতানিয়াহুর পুতুল হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। তুরস্ক বলেছে, ইসরাইলি গোয়েন্দারা কুর্দিদের স্বাধীনতার বিষয়ে সহযোগিতা করছে।কামাল আতাতুর্কের সময় থেকে তুরস্কের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও এই ইস্যুতে এরদোগানের সরকার ছেড়ে কথা বলবে না তা স্পষ্ট সর্ম্পকের গোড়াপত্তন : চল্লিশ ও পঞ্চাশের দশকে ইসরাইল রাষ্ট্রের গোড়াপত্তনের সময় অনেক কুর্দি ইহুদি সেখানে গিয়ে বসতি গড়লেও তারা কুর্দিস্তানের আত্মীয় স্বজনদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সেই থেকেই কুর্দিদের সাথে তেল আবিবের সম্পর্কের সূত্রপাত। পরে যা আনুষ্ঠানিকতার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আরব রাষ্ট্রগুলোর সাথে শত্রুতার কারণে ইসরাইল সব সময়ই চাইতো ওই অঞ্চলে কোনো অ-আরব মিত্র। এ জন্য তারা বেছে নেয় বিভিন্ন দেশে বিভক্ত হয়ে পড়া কুর্দি জাতিগোষ্ঠীকে। এ অঞ্চলে জাতিগত বিভক্তি উসকে দিতে শুরু করে ইসরাইল। বন্ধু খুঁজতে এ কৌশল নিয়েছিলেন ইসরাইলের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন গুরিয়ান।

সেই সূত্রেই কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকারের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানির পিতা মুস্তফা বারজানির সাথে সম্পর্ক ছিল তেল আবিবের। ১৯৬৮ ও ৭৩ সালে দুই দফায় ইসরাইল সফরও করেছেন মুস্তফা। বর্তমান সময়েও ইসরাইলি লিকুদ পার্টির সরকার সেই একই নীতিতে চলছে। সূত্র: আল-জাজিরা , এরাবিয়ান জার্নাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত