প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইউরোস্টাটের প্রতিবেদন
ইইউতে চাহিদা বাড়লেও দাম কমেছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের

স্বপ্না চক্রবর্তী : ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে পরিমানের দিক থেকে রপ্তানী বাড়লেও দাম কমায় আয় কমেছে ব্যাপক হারে। এতে করে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি ইউরোপিয়ান কমিশনস ইউরোস্টাটের প্রকাশিত এ তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়লেও মূল্য বিবেচনায় সেটা খুব বেশি নয়। ওই তথ্যে বলা হয়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা তৈরি পোশাকের পরিমাণ ৭৪ কোটি ৯২ লাখ কিলোগ্রাম যা গত বছরের একই সময়ের চাইতে ১৫.৭৫ শতাংশ বেশি।

যা গত বছর ছিল ৬৪ কোটি ৭২ লাখ কিলোগ্রাম। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ইইউ বাজারে তৈরি পোশাক আমদানি মূল্যের বিচারে মাত্র ৩.৯২ শতাংশ বেড়েছে। টাকার অংকে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৯৫২ কোটি ইউরো যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯১৬ কোটি ইউরো। এ খাতের বিশেষজ্ঞ এবং রপ্তানিকারকরা বলছেন, পরিমাণের তুলনায় মূল্য না বাড়ার কারণ ইইউ এর ক্রেতারা বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের মূল্য কম দিচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ইউরোপীয় বাজারে ভিয়েতনাম গত বছরের তুলনায় এ বছরের প্রথম সাত মাসে ১৭৭ কোটি ইউরো তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। যা গত বছরের তুলনায় ২.৪২ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে রপ্তানি করেছিল ১৭৩ কোটি ইউরো। যদিও পরিমাণের দিক থেকে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১৯.২৬ শতাংশ।

এ ব্যাপারে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বিশ্বব্যাপী ক্রেতাদের মধ্যে চাহিদার পরিবতর্ন হচ্ছে দিন দিন। একই সঙ্গে প্রকাশিত তথ্য নিদের্শ করে যে ইইউ এর ক্রেতারা কম দামের পোশাক খুঁজছে। ফলে পোশাক রপ্তানি পরিমাণের দিক দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু মূল্যে বিবেচনায় কমছে। যা বৈশ্বিক বাজারের নি¤œমুখী প্রবণতাকে নিদের্শ করে।

ইউরোস্টাটের তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮ সালের প্রথম সাত মাসে চীনের ইউরোপীয় বাজারে দাম এবং পরিমাণ দুই বিবেচনায় পোশাক রপ্তানি কমেছে। পরিমাণের দিক থেকে ইইউ বাজারে আলোচ্য সময়ে চীনের পোশাক রপ্তানি ৫.০৩ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৮৪ কোটি ১১ লাখ কিলোগ্রাম যা গত বছর একই সময়ে ছিল ৮৮ কোটি ৫৬ লাখ কিলোগ্রাম। দামের বিবেচনায় রপ্তানি কমেছে ৬.৭৬ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ইউরো। যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৪৪০ কোটি ইউরো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ