প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারকে মান্নার চ্যালেঞ্জ
‘২৭ তারিখেই চট্টগ্রামে সমাবেশ করবো, পারলে ঠেকান’

শিহাবুল ইসলাম : নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, আমরা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২৭ তারিখেই চট্টগ্রামে সমাবেশ করবো, সরকার যদি পারে তাহলে যেন ঠেকায়।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে `নির্বাচন ও মানবাধিকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল ডায়ালগ এইড ফাউন্ডেশন (ইডাফ)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মান্না বলেন, সমাবেশ নিয়ে আমরা কোন নাটক করিনি। নাটক করার কোন ব্যাপার নেই। ২৩ তারিখের সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম কিন্তু উনারা অনুমতি দেননি, বললেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের ওখানে অনুষ্ঠান আছে। আমরা বললাম ঠিক আছে ওরা করুক, আমরা ২৪ তারিখে করবো। গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে চাইনি। বললাম তাহলে ২৪ তারিখে, কিন্তু ২৪ তারিখে করবোই। সমাবেশ করবো ছেড়ে যাবো না, ফিরে যাব না। লাখো মানুষ সেখানে জড়ো হবে ভেবে ওরা সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ভয় পেয়ে। এখন ওরা ভাল মানুষ সাজার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, ২৭ তারিখে আমরা চট্টগ্রামে সমাবেশ করবো। ২৭ তারিখের কাছে এবার ২৮ বলবো না। ২৭ বলেছি ২৭ তারিখেই সমাবেশ করবো, সরকার যদি পারে তাহলে যেন ঠেকায়। তারাও জানে সিলেটে যেহেতু অনুমতি দিতে হয়েছে চট্টগ্রামে দিতে হবে।

সরকার চট্টগ্রামের সমাবেশেরও অনুমতি দিবেন আশাবাদ ব্যাক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের চামচারা বলছেন শেখ হাসিনা কি না পারেন, উনার ক্ষমতা অপরিসীম। আজ আমি বলি কই শেখ হাসিনা, আমাদের জনসভা তো আটকাতে পারলেন না। শেখ হাসিনার যদি শুভ বুদ্ধির উদয় হয়ে থাকে তাহলে তাকে ধন্যবাদ দিচ্ছি, আর শুভ বুদ্ধির উদয় হয়ে থাকলে চট্টগ্রামের জনসভারও অনুমতি দিবেন।

সরকারের সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের এই শীর্ষ নেতা বলেন, সরকারের ভোট নাই কিন্তু সরকার তো আছে, এই কথা বলে তারা বলছেন (আওয়ামীলীগের নেতারা) আমরা বৈধ সরকার। আমাদেরকে মানতে হবে। পাঁচ বছর মানুষ শুধু দেখেছে আর ভেবেছে এও কি সম্ভব? এরকম জুলুম ও কেউ করতে পারে? এত বড় মিথ্যে কথা কেউ বলতে পারে? এত বড় অন্যায় কেউ করতে পারে? হতভম্ব দেশের মানুষ ভেবেছে এত বড় যুদ্ধ করলাম, লড়াই করলাম, মুক্তিযুদ্ধ হল, লাখো মানুষের রক্তের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হল গণতন্ত্রের জন্য, সেই দেশে গণতন্ত্র কি এই ভাবে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করতে কেউ চেষ্টা করতে পারে! মানুষ প্রথম বিশ্বাস করতে পারে নাই, পরে করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা বলছি নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার দিতে হবে, এই সরকারের কোন সদস্য কোন মন্ত্রী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। নির্বাচনে ক্যাম্পেইন করতে পারবেন না। আপনাদের অপছন্দ হবে না, সাধারণ মানুষের পছন্দ হবে, এরকম সরকারের লিস্ট আমাদের বলুন দিচ্ছি। এরকম সরকার যদি দিতে না চান তাহলে তো আন্দোলন করব। এখন আমার প্রশ্ন তুলছেন যদি সাত দফা না মানেন? আমি বলি মানবেন না কেন? মানতে হবেই, মানাবো এবং মানার জন্য লড়াই করব।

কিরকম লড়াই, এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এই লড়াই হচ্ছে, এখন যেমন সিলেটে মিটিং করছি, এরপর আমরা চট্টগ্রামে যাবো, তারপর যাব রাজশাহীতে, সমস্ত বিভাগীয় শহর, জেলায় জেলায় যাবো আমরা, দেশের গোটা মানুষদের বলবো গত নির্বাচনের যে ভণ্ডামিটা হয়েছে, তখন ঘরের মধ্যে মনের দুঃখে বসেছিলেন, এবার যে নির্বাচনটা হবে সবাই ঘরে মধ্য থেকে বেরিয়ে আসুন। ভোট কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পরে চিড়া, মুড়ি, ডাল যা আছে সবকিছু নিয়ে কেন্দ্রে বসে থাকবেন যতক্ষন পর্যন্ত ভোটের ফলাফল ওরা ঠিকমত ঘোষণা না করে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি ছানোয়ার হোসেন, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মো:আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন ও যুবদল নেতা কাদের সিদ্দিকী প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ