প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোটের ভাঙা-গড়ায় রাজনীতি সরগরম

সাজিয়া আক্তার : রাজনীতি এখন সরগরম জোটের গড়া আর ভাঙার খেলায়। বিশেষ করে নানা নাটকিয়তা দেখেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। ভাঙা-গড়ার এ খেলায় দল বা ব্যক্তিরা বলছেন, আদর্শের মিল-অমিলের কথা। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শ নয় এর পেছনে রয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রীক স্বার্থ ও দর-কষাকষিতে বনি-বনার অভাব। সূত্র: এটিএন নিউজ

গল্পের শুরু গত বছরের শেষ দিকে, গতি আসে চলতি বছরের মাঝামাঝি। বড় দলগুলোর উপর মানুষ আস্থা হারিয়েছে এমন দাবি নিয়ে দৃশ্যপটে তখন যুক্তফ্রন্ট। তৃতীয় শক্তি শুরু হয় জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায়। নানা দলের একসময়ের বড় নেতাদের জাতীয় ঐক্যের ডাকে সামিল হয় বিএনপিও।

কিন্তু ঐক্যের দেয়াল হয় জামায়াত ছাড়ার শর্ত। তবে যার এমন শর্ত বিএনপিকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে, যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়ক সেই ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে বাদ দিয়েই শুরু জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। যা ১৩ অক্টোবর সবচেয়ে বড় চমক হয়ে আসে।

এখানেই শেষ নয়, নতুন জোট যখন বৈঠক আর কর্মসূচি পরিকল্পনায় ব্যস্ত, তখন ভাঙনের সুর বাজে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে। বিএনপির প্রতি পুঞ্জিভূত ক্ষোভ, জানিয়ে জোট ছাড়ে ন্যাপ বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি এনডিপি। জোট ছেড়ে দুই দলের প্রধানরা দেখা করেন বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সাথে। এদিকে তাদেরকে বাদ দিয়ে দুই দলে আসে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা। এরপর ভাঙনের খবর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ঘরে। বিকল্পধারা থেকে ডা. বি চৌধুরীসহ প্রধান ৩ জনকে বহিস্কারের ঘোষণা দিয়ে বসে আগেই দল থেকে বহিস্কৃত নেতারা।

এমনই যোগ-বিয়োগের নাটকের মাঝে নতুন করে কদর ও প্রচার পেতে থাকে ছোট দলগুলো। নিজ দল থেকে বাদ পড়া ও বাদ দেওয়া নেতারা এ সব ঘটনার কারণ দেখাচ্ছেন আদর্শের সংঘাতকে।

বিকল্পধারা বাংলাদেশের (একাংশ) মহাসচিব শাহ আহম্মেদ বাদল বলেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার একটি আহ্বান এসেছে। বি চৌধুরী সাহেব সেখানে টানাপোড়েন শুরু করেছেন। তাও তার ছেলের ইশারা ইঙ্গিতে। জনগণের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে কোনো রাজনীতি করা আমাদের দ্বারা সম্ভব হবে না। আমাদের কোনো চাওয়া-পাওয়া এখানে নেই।

বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি বলেন, বিশ দলীয় জোটকে বলা হয়েছে স্বাগত আরেকটি মঞ্চকে জানানোর জন্য। সেটার নেতৃত্বে যারা আছেন তাদের সাথে আদর্শীকভাবে আমাদের কোনো মিল নেই। নির্বাচনী আসনে আমাদের কিছু লোক আছে, তাদের প্রস্তুতিরও বিষয় আছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ থেকেও যদি ডাক পাই তাহলে আমরা সেটাও বিবেচনা করবো।

এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা বলেন, আমরা দলে থাকতে কিছু পাইনি, তারপরেও আমরা বিএনপির সাথে ছিলাম। আমাদের একটা আদর্শ আছে।

কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের স্বার্থটুকু বুঝে নিতে চলছে দর-কষাকষি। আর তাতে না পোষালেই চলছে ভাঙন আর দল বদলের ঘটনা।

এটিকে পুরোপুরি অস্বীকারও করছেন না সংশ্লিষ্টরা। কেউ কেউ এতো দিনে বিরোধীদলেরই ডাকের অপেক্ষায়। তবে এসব ঘটনা ভাঙা গড়াকে রাজনীতির মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকগণ। তারা বলছেন ভোটের রাজনীতিতে এ সবই ইতিবাচক।