প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাবির প্রবেশদ্বারে মরণবায়ুর স্বাদ

আফজাল হোসেন, রাজশাহী: জীবন রক্ষার্থে যেখানে প্রবেশের পর প্রথমেই নাকের ডগাতে স্পর্শ করার কথা জীবনবায়ুর স্বাস্থ্যকর সুবাতাস, সেখানে প্রবেশ দ্বারেই মরণবায়ুর স্বাদ। ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সজোরে ধাক্কা দেয় সিগারেটের ধোঁয়া, তামাক, পানে ব্যবহৃত বিভিন্ন রকমের জর্দার সঙ্গে পাবলিক টয়লেটের দুর্গন্ধ। বছরখানেক আগেও ভাসমান এই আস্বাস্থ্যকর ব্যবসাগুলো ছিলো বাইরের প্রধান সড়কের ফুটপাতে। সেখান থেকে উচ্ছেদের পর ওরা এখন দলবেঁধে জেকে বসেছে ভেতরে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে চিকিৎসা নিতে আসা মরণাপন্ন মানুষগুলোর ওপর। এ অবস্থা উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভরসাস্থল ও এশিয়ার অন্যতম চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটকের রাস্তাজুড়ে।

ভেতরে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে পান-বিড়ির মতো স্বাস্থ্যহানিকর পণ্যের দোকান। যেখানে সকাল থেকে রাত অবধি চলে পান-সিগারেটসহ অন্যান্য হালকা পণ্যের বিকিকিনি। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাসপাতালে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকের ভেতরের উভয় পাশে চেয়ার-টেবিল ও বড় আকৃতির ছাতা স্থাপন করে সারি ধরে বেশ কয়েকজন দোকানী দেদারসে পান-সিগারেটের উন্মুক্ত ব্যবসা চালাচ্ছেন।

আরো দেখা গেলো, দোকানের পাশে সিগারেট পানরত আত্মীয়ের হাত ধরে দাড়িয়ে আছে আট-নয় বছরের ছোট্ট একটি শিশু। শিশুটির সামনেই এক ক্রেতা দোকান থেকে সিগারেট কিনে সুখ টান দিয়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে দিচ্ছে চারিদিকে। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, প্রভাব ও পেশি শক্তির জোরে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও ঐ স্থানে দায়িত্বরত পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চলে এই ব্যবসা।

এ বিষয়ে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, ডাক্তার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ সকল দোকানীকে উন্মুক্তভাবে ও সবার কাছে সিগারেট বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। ওই কর্মচারিরা জানান, তাতে লাভ হয়নি। রোগীদের স্বজনরা চিকিৎসাধীন রোগীর প্রয়োজনীয় ও জরুরি ওষুধপত্র, স্যালাইন, ইনজেকশনসহ অন্যান্য চিকিৎসা সহায়ক জিনিসপত্র ফার্মেসী থেকে কিনে নিয়ে আসার পর সেনসিটিভ জিনিসগুলো হাতে নিয়ে দোকান থেকে সিগারেট কিনে সেখানেই খাওয়া শুরু করেন।

ঠিক এমন সময় কয়েকজন কর্তব্যরত আনসার এসে দোকানিদের সতর্ক করে বললেন, এখন স্যার আসবে তোমরা দোকান গুছিয়ে ফেলো। বলা শেষ হতে না হতে সবাই দোকান গুটিয়ে বস্তা, পলিথিন দিয়ে পাশের ফাঁকা স্থানে সরিয়ে ফেললো। ওদের জিজ্ঞাসা করা হলো কোন স্যার আসবেন? দোকানিরা বললেন, পরিচালক স্যার। ইতোমধ্যে পরিচালকের গাড়ি প্রবেশ করে অফিসে ঢুকার পর আবার ওরা পূর্বের জায়গায়।

জানা গেলো, রামেক হাসপাতালে সার্বক্ষণিক অন্তত ৩ হাজার রোগী ভর্তি থাকে। এছাড়া প্রতিদিন অনিয়মিত আরো ১ হাজার রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়। এসব রোগীর স্বজন বা দর্শনার্থী হিসাবে প্রধান ফটক দিয়ে দিবারাত্রি ১০ হাজার মানুষের আসা-যাওয়া চলে। আর ইমারজেন্সি গেটের দূষিত গন্ধ থেকে বাদ পড়েন না কেউ।

এই হাসপাতে কর্তব্যরত শিশু বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারে এই দোকানপাটগুলো তিনি আগে কখনো দেখেননি। এখন যা দেখছেন এটা প্রশাসনিক দুর্বলতা। তার মতে, সিগারেটের ধোঁয়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে শিশু-কিশোর ও নারীদের। অতিদ্রুত তা শিশু কিশোরদের মানবদেহের শ্বাস-প্রশ্বাসে প্রবেশ করে ক্ষতি ঘটাতে সক্ষম।

রামেক হাসপাতালের প্রশাসিনক কর্মকর্তা মারুফ হোসেন জানালেন, তার এখতিয়ারের মধ্যে অনেক কিছু থাকে না। তিনি পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। দপ্তরে গিয়ে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিলুর রহমানকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ