প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিএসইতে ২১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন সূচক
আতঙ্কে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা

মাসুদ মিয়া: দেশের শেয়ারবাজারে নিরবে বড় ধরনের দরপতন হচ্ছে।এতে আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। আগের দিনের ধারাবাহিকতায় সোমবারেও বড় ধরনের দরপতনের মধ্যে দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) চলতি বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে। আর ডিএসইতে ২১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে সূচক। ডিএসইতে সূচক ৭৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২৫১ পয়েন্টে এর আগে সর্বনিন্ম সূচক ২০১৭ সালের ৯ জানুয়ারি- ৫ হাজার ২১৪ পয়েন্ট ছিল। ডিএসইর পাশাপাশি বড় দরপতন হয়েছে অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি দুই বাজারেই কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। সেই সঙ্গে দর হারিয়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট।

ডিএসইতে এদিন লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ২৩৬টি। ৪০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের এমন দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৯ পয়েন্ট কমে পাঁচ হাজার ২৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।

এ নির্বাচন নিয়ে সব মহলের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে। মূলত এ কারণেই পুঁজিবাজার দরপতনের বৃত্তে আটকে গেছে। ফলে চীনের দুই প্রতিষ্ঠান ডিএসইর অংশীদার হওয়া এবং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) দেড় হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সূযোগ সৃষ্টি হওয়ার মতো সুসংবাদও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে পারছে না।

এবিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এ বছরই জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে এক ধরনের শঙ্কা রয়েছে। পুজিঁবাজারেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া এ মুহূর্তে পুঁজিবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার কোনো কারণ আমি দেখি না। এদিকে বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, ডিএসইর অপর দুটি মূল্য সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২০৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৩৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন কমেছে চার কোটি ২৭ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে কেপিসিএল’র শেয়ার। কোম্পানিটির ২৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ড্রাগন সোয়েটার ২৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২১ কোটি দুই লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সামিট পাওয়ার।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স ১৪১ পয়েন্ট কমে নয় হাজার ৮০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৬৫টির। দাম অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ