প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লক্ষ্মীপুরে উৎপাদিত সুপারির বাজার মূল্য সাড়ে তিনশত কোটি টাকা

জহিরুল ইসলাম শিবলু,লক্ষ্মীপুর : উপকূলীয় অঞ্চল লক্ষ্মীপুরের ‘লক্ষ্মী’ হিসেবে পরিচিত অর্থকরী ফসল সুপারির এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষি জমির পাশে কিংবা বাড়ীর আঙ্গিনায় সুপারি গাছ রোপন করে এখানে উৎপাদন হচ্ছে শত-শত কোটি টাকার সুপারি। এ জনপদের এমন কোনো বাড়ী নেই যে বাড়ীতে সুপারি গাছ নেই। এছাড়াও বিশাল-বিশাল এলাকাজুড়ে রয়েছে সুপারি বাগান। অর্থকরী এ ফসলকে ঘিরে এ অঞ্চলে দেখা দিয়েছে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। উৎপাদিত এ ফসলের বাজার দর ভালো থাকায় সুপারি চাষে আগ্রহ বাড়ছে এখানকার মানুষের।

লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে বর্তমানে ৬ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে সুপারি বাগান রয়েছে। আর এসব বাগানে এ বছর উৎপাদিত হয়েছে ১২ হাজার ৪২২ টন সুপারি। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে ৩ হাজার ৬৮০ টন, রায়পুর উপজেলায় ৩ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে ৬ হাজার ৭৭২ টন, রামগঞ্জ উপজেলায় ৮৯০ হেক্টর জমিতে ১ হাজার ৩০০ টন, কমলনগরে ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ৬০০ টন ও রামগতি উপজেলায় ৪০ হেক্টর জমিতে ৭০ টন সুপারি উৎপাদিত হয়েছে। ফলে এ মৌসুমে উৎপাদিত সুপারির বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে তিন শত কোটি টাকা হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বছর মৌসুমের শুরুতেই সুপারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন হাট-বাজারে সুপারি ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় বাজারে সুপারির চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় চাষেও আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি গাছে ফুল আসে। পরে এ ফুল থেকে সৃষ্ট সুপারি পুরোপুরি পাকে কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে। মূলত কার্তিক আর অগ্রহায়ণ মাসেই সুপারির ভরা মৌসুম।জেলার প্রতিটি বাজারেই প্রচুর পরিমাণে সুপারি আসতে দেখা গেছে। এখানকার সুপারির প্রায় ৭০ ভাগ নদীনালা, খালডোবা, পুকুর ও পানিভর্তি পাকা হাউজে ভিজিয়ে রাখেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আর ৩০ ভাগ সুপারি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ ছাড়াও রোদে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এ বছর কাঁচা-পাকা সুপারির ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষী, গৃহস্থ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। লক্ষ্মীপুরে সুপারীর প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা সুপারির ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।

স্থানীয় কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা নিজেদের চাহিদামতো সুপারি স্থানীয় পাইকারদের কাছ থেকে সংগ্রহ করছেন।

লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খাঁন বলেন, এখানকার মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সুপারি বাগান করার মধ্য দিয়ে এখানকার কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। সঠিক সময়ে সুপারি চাষীরা সঠিক পরিচর্যার কারনে এবার এ জেলায় সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। এই অঞ্চলের অর্থনীতিক স্বচ্ছলতার পেছনে এর অবদান অনস্বীকার্য। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কাঁচা-পাকা সুপারির দাম কিছুটা বেশি। এতে ভালো দাম পেয়ে খুশি চাষীরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ