প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোমালিয়ার মুসলমান নারী বক্সার যিনি অলিম্পিকে যাচ্ছেন

স্মৃতি খানম : রামলা আলী একজন সোমালিয়ান নারী বক্সার যিনি ২০২০ সালে অলিম্পিকে অংশ নেবেন। কিন্তু তাঁর বক্সার হয়ে ওঠাটা সহজ ছিল না। রক্ষণশীল দরিদ্র মুসলিম দেশ সোমালিয়ায় নারী বক্সার হয়ে ওঠা বলতে গেলে সমাজ এবং পরিবারের বিরুদ্ধাচারণ। যেটি জয় করেছেন রামলা আলী। তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন গোপনে। এমনকী বাবা মাকেও জানাননি ভয়ে।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার বাবা মাকে বলতাম না, আমি কেবল জানতাম উনারা বুঝতে পারবেন না। তাঁরা হয়তো বলবেন এটা ছেলেদের খেলা। কোনো মুসলমান মেয়ে এরকম কিছু করে না। আমি জানতাম তারা আমাকে থামানোর চেষ্টা করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি চাই আরো বেশি মুসলমান মেয়ে খেলাধুলা করুক। কারণ তাদের তো তেমন একটা দেখাই যায় না এ ক্ষেত্রে। আমাকে দেখাতে পারবেন কোনো মুসলমান মেয়ে বক্সিং করছে?’

রামলার বক্সিং খেলা সম্পর্কে তাঁর স্বামী বলেন, ‘বছরের পর বছরের পর বছর ধরে সে তার বক্সিং খেলার কথা পরিবারে গোপন রেখেছে। বিয়ের আগে আমি ওর বোনেদের একজনের ফোন পেলাম, তিনি বললেন, রামলা বক্সিং করছে এরকম একটা ভিডিও পেয়েছি। আমরা তোমাদের বিয়ে মেনে নেবো না, কারণ হবু স্বামী হিসেবে তুমি তাকে বক্সিং চালিয়ে যেতে নিষেধ করছো না। কিন্তু আমি তাঁকেই বিয়ে করি কারণ, আমি দেখতে চেয়েছিলাম রামলা সারাটা জীবন যেখানে শ্রম দিয়েছে সেখানে সে সাফল্য পায় কিনা।’[

কিন্ত এর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রামলা ইংলিশ ও ব্রিটিশ দুইটি বক্সিং সিরিজেই শিরোপা জিতলেন। এ সময়ে পরিবারে কোনো সদস্য তার খেলা দেখতে যাননি। তবে সোমালিয়ার লোকজন রামলাকে সমর্থন করেছিল।

এ বিষয়ে রামালা বলেন, ‘রোজ আমি মেসেজ পাই, মানুষ লেখে তুমি অবিশ্বাস্য কাজ করছো। আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে যে দেশটি কেবল যুদ্ধ আর দুর্ভিক্ষের জন্যই পরিচিত ছিল। তুমি দেশের জন্য ইতিবাচক কাজ করছো। তোমাকে ধন্যবাদ। আর আমার মা আমাকে বাধা দিয়েছিলেন কেবলমাত্র বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যকার বিরোধের জন্য। কিন্ত তিনি যখন দেখলেন তারা বিষেয়টি মেনে নিয়েছে যা একটা দারুণ ব্যপার!’

বক্সিং খেলা সম্পর্কে রামলার মা জানান, ‘ও (রামলা) যদি এটা পছন্দ করে আমি কি করতে পারি। তাই ওর ভালো লাগলে আমারও ভালো লাগে। আমি আল্লাহর কাছে চাই ও যেন অলিম্পিকে সোনা জিততে পারে। তাহলে আমি খুব খুশি হব।’ সূত্র- বিবিসি বাংলা

সর্বাধিক পঠিত