প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চলনবিলে পুকুরে মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারে জনজীবন অতিষ্ঠ

জাকির আকন, চলনবিল : চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার প্রায় ৫ হাজারের বেশি পুকুরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মাছ চাষে মুরগির বিষ্ঠা (লিটার )ব্যবহার করায় দূষিত পানি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ দুর্গন্ধ হওয়ায় কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর থেকে বিষ্ঠা থেকে জৈব সার তৈরি করে জমিতে ব্যবহার করার কথা বলা হলেও তা মানছেন না এক শ্রেণীর মাছ চাষীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, চলনবিলের পুকুরের পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পরিবেশ দূষণ বেড়ে গেলেও প্রশাসনের কোন অভিযান নেই।

সরজমিনে জানা যায়, চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের প্রায় ৫ হাজার পুকুরে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বিভিন্ন খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও তৎসংশ্লিষ্ট বর্জ্য পদার্থ যাহা স্থানীয়রা লিটার বলে অভিহিত করে।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, মুরগির বিষ্ঠা প্রক্রিয়া করে জৈব সার তৈরি করা যায়। যা প্রায় ৪ মাস মাটিতে পুঁতে রেখে ১’শ কেজি বিষ্ঠা থেকে প্রায় ৫০ কেজি টিএসপির গুনাগুন সমৃদ্ধ জৈব সার পাওয়া সম্ভব। যা পুকুরে মাছ চাষে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে চলনবিল অঞ্চলে মুরগির বিষ্ঠা যথাযথ প্রক্রিয়া ব্যবহার না করে সরাসরি খামার থেকে নিয়ে পুকুরে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে রাস্তার ধারে, পুকুরের পাড়ে যত্রতত্র রেখে মাছচাষে ব্যবহারের কারণে পুকুরের পানি দূষিত হচ্ছে ও দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

দূষিত ওই পানি ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও তা মানা হচ্ছে না। জেনে শুনেই গ্রাম এলাকার সাধারণ মানুষ পুকুরের পানি ব্যবহার করে আক্রান্ত হচ্ছে পানিবাহিত নানা রোগে। চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার প্রায় ৫০ ভাগ পুকুরেই মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি মাছের খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মৎস্যজীবীরা জানান।

তারা আরও বলেন, বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও শীত মৌসুমে পুকুরগুলোতে মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার হয় সবচেয়ে বেশী। এ দিকে দিনের পর দিন একই পুকুরে বার বার পোল্ট্রি বিষ্ঠা ও বর্জ্য ব্যবহারে পানি দূর্গন্ধের পাশাপাশি ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার পাশে এসব পোল্ট্রি বিষ্ঠা ও বর্জ্য ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হলেও দেখার কেউ নেই।

উপজেলার সোনাপাতিল গ্রামের স্কুল শিক্ষক আশরাফ আলী জানান, এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানালে তারা লিখিত অভিযোগ কিংবা লিটার ব্যবহার বহনকারী ট্রাক আটকের পরামর্শ দেন কিন্তু লিটার ব্যবসায়ীদের সাথে প্রশাসনের সখ্যতা থাকায় কেউ অভিযোগ করতে সাহস পায় না ।

চলনবিল বার্তা পত্রিকার সম্পাদক , সাংবদিক, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী আব্দুর রাজ্জাক রাজু জানান, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহার করে জনসাধারণের জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে কিন্তু প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে আরও জানান, এই লিটার ব্যবহার বন্ধে সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে কর্মসূচি দিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার ওসি (তদন্ত) ফজলে আশিক জানান, মুরগির বিষ্ঠা ব্যবহারকারীরা পরিবেশ দূষণ করায় তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ