প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিরোধীদলও বিরোধীদল ভাঙতে পারে!

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : এতদিন শুনতাম সরকারিদল বিরোধীদল ভাঙার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকে, অনেক ক্ষেত্রে সরকার সফলও হয়। ১৯৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর দেশে দীর্ঘদিন রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিলো। সান্ধ্যআইন দেশব্যাপী বলবৎ ছিলো। অবেশেষে সামরিক শাসকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশে রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আইন, বিধিপ্রণয়ন ও প্রয়োগ করে যেভাবে রাজনীতির অনুমতি মিলে তাতে আওয়ামী লীগের মতো বিশাল দলও আর বাকশাল বা বাকশাল পূর্ববর্তী জায়গায় যেতে পারে না। মূলধারা থেকে দুই-তিনটি ধারাকে বাইরে রাখার ব্যবস্থা হয়। মিজান চৌধুরী ‘ব্র্যাকেটবন্দী’ আওয়ামী লীগ গঠন করলেন, সামরিক সরকারের ইচ্ছা পূরণ করলেন, দ্বিতীয় সামরিক সরকারের সময় জাতীয় পার্টির নেতা হলেন, পরে আওয়ামী লীগে ফিরলেন! কিন্তু আর সেই ভাবমূর্তির নেতা হতে পারলেন না। জাসদও ভেঙে খণ্ড খণ্ড হলো, এ দল-ও দল, নেতা সর্বস্ব দল, জোটে এতিমের পরিচয়ে বিরাজ করছেন অনেকে।

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসের দিকে তাকালে ভাঙনের দৃষ্টান্ত এত বেশি যে এগুলোর কোনটা সরকারের নীলনকশা অনুযায়ী হয়েছে, কোনটা ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব থেকে, কোনটা আদর্শের বিরোধ থেকে, কোনটা স্বার্থোদ্ধারের চিন্তা থেকে হয়েছে তা মস্তবড় বিচার্য বিষয়। এটি দেশের সবার জানা কথা। তবে এবার আমরা নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলাম। তাতে দেখা যাচ্ছে, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে’ নিয়ে প্রকাশ্য এবং অপ্রকাশ্য খেলায় মেতেছে বিএনপি। সম্ভবত বিএনপি ডা. বি. চৌধুরীকে ‘সমুচিত শিক্ষা’ দিতে কোনো সুযোগই হাতছাড়া করতে রাজি নয়। এখন বিএনপি নেতৃত্বের সংকটে থাকার সময়ও বিকল্প ধারাকে বাদ দিয়ে প্রথমে ঐক্যফ্রন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ব্যবস্থা করেছে। অথচ ঐক্যফ্রন্ট গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর অন্যতম উদ্যোক্তা দল বিকল্প ধারা। ডা. বি. চৌধুরী এবং মাহী বি. চৌধুরী সেই সময় ড. কামাল হোসেনকে ঐক্য প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছিলেন। অথচ যাত্রার দিনই বিকল্প ধারার নেতৃবৃন্দকে যেভাবে অপমাণিত করতে হয়–তাই করা হলো।

বিকল্প ধারার পক্ষ থেকে এই খেলার নেপথ্যে বিএনপির ভূমিকার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছিলো। কিন্তু খেলা এখানেই শেষ নয়। বিকল্প ধারার নিষ্ক্রিয় কিছুসংখ্যক নেতাকে দিয়ে মূলধারার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ নেতাদের বহিষ্কার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নূরুল আমিন বেপারীকে সভাপতি করে বিকল্প ধারার আরেকটি কমিটি গঠন করা হলো। মাহী বি. চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। সবাই বিষয়টি বুঝতেও পারছেন যে, ঐক্যফ্রন্টে দলের সংখ্যা বেশি দেখাতে এবং ডা. বি. চৌধুরীরা ভুল পথে হাঁটছেন তা বোঝাতেই এমন নাটিকাটি মঞ্চস্থ হয়েছে। তবে এমন নাটিকা দেখার দর্শক নেই এটি নিশ্চিত করেই বলা যায়। ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে মিডিয়ায় বেশি বেশি আলোচনা হলেও গ্রাম-গঞ্জে এর প্রভাব পড়েনি। আসলেই মানুষ এসব জোট-মহাজোটের ভাঙা-গড়ার মধ্যে আছে বলে মনে হয় না।

লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, বাউবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ