প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নওগাঁয় নকল বীজ উদ্ধার, গ্রেফতার ৩

জাগো নিউজ : নওগাঁর মান্দা উপজেলায় বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে বাজারজাতকৃত নকল বীজ জব্দ করেছে থানা পুলিশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার (২১ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার হাজীগোবিন্দপুর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, হাজীগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪০), মৃত ভুট্টু ওরফে লোকার ছেলে রুবেল হোসেন (৩৫) এবং চকগোপাল গ্রামের মৃত জামাতু্ল্লার ছেলে আবদুস সামাদ (৬৫)।

এ নিয়ে মোট তিন দিনে উপজেলার পৃথক তিন স্থান থেকে নকল সার, কীটনাশক ও বীজ কারখানার সন্ধান ও সেগুলো জব্দ করেছে পুলিশ। তারা দীর্ঘদিন থেকে বাড়ি ভাড়া নিয়ে কারখানাগুলোতে নকল সার ও বীজ উৎপাদন করছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজীগোবিন্দপুর গ্রামের আলমগীর ও রুবেলের বাড়িতে রুম ভাড়া নিয়ে গুদাম বানিয়ে মালামাল রাখে আটককৃতরা। ওই বাড়ির আশপাশে কোনো বাড়িঘর না থাকার সুযোগে তারা দীর্ঘদিন যাবত সেখানে একাধিক প্রসিদ্ধ কোম্পানির নকল মোড়কে বীজ প্রস্তুত করে দোকানে দোকানে সরবরাহ করতেন। বিক্রেতারা বিষয়টি বুঝতে না পেরে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করতেন। বাদির মালিক এবং এলাকাবাসীও জানতেন না সেখানে কী করা হয়।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেলে কারখানাটিতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে তিন ব্যক্তিকে আটক এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার নকল বীজ ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

তিনি জানান, আটককৃতরা ১৭/১৮ টি কোম্পানির মোড়ক নকল করে সেই মোড়কে বিভিন্ন ফসলের বীজ প্যাকেটজাত করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন। আর এসব নকল বীজে কৃষকরা প্রতারিত হতেন। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানায় মামলা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়রাই এসবের সঙ্গে জড়িত। তা না হলে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নকল কারখানা এভাবে চালানো সম্ভব নয়।

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের ৪২ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আছেন। তাদেরকে ইতোমধ্যে বলে দেয়া হয়েছে তাদের এলাকার মধ্যে যেসব বীজ ও সারের দোকান আছে সেগুলো নিয়মিত তদারকি করতে।

তিনি আরও বলেন, বীজ আইনে মন্ত্রণালয়ের অনুমোতি সাপেক্ষে কেউ বীজ উৎপাদন এবং বাজারজাত করতে পারবেন। তবে বীজের মধ্যে তার মান লেখা থাকতে হবে। অন্য কোন কোম্পানির মোড়ক কেউ নিজের বলে ব্যবহার করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, গত ১৫ সেপ্টেম্বর উপজেলার বৈদ্যপুর বাজার থেকে জিংক সার তৈরির উপকরণ, মিক্সার মেশিন, বালু ভর্তি বস্তা, বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক, খ্যাতনামা বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে নকল কীটনাশক এবং ৩ অক্টোবর পরানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরানপুর বড় মসজিদের পাশ থেকে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার ভেজাল সার ও নকল কীটনাশক উদ্ধার করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ