প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হিটিং বিলো দ্যা বেল্ট

যায়নুদ্দিন সানী : দেশের রাজনীতি গরম হবো হবো করেও হচ্ছে না। ঐক্যজোট এখনও ভূমিকা পর্ব শেষ করে উঠতে পারছে না। ‘না জানি কি করে ফেলবে?’ এমন একটা প্রত্যাশা দিয়ে শুরু করতে চাইছিলো, কিন্তু শুরুটা অন্যরকম হয়ে গেলো। বি. চৌধুরী নাটক অ্যান্ড এরপরের ফোনালাপ ফাঁস। হেডলাইন হলো ঠিকই, তবে অন্য কারণে। এরপরে যা হয়, শুরু হলো বক্তব্য যুদ্ধ।

বিরোধী শিবিরের বক্তব্য আগে থেকেই ছিলো, এবার শুরু হলো প্রাক্তন ভার্সেস বর্তমান ঐক্যজোট সদস্যের মধ্যে। শুরু হলো চুলচেরা বিশ্লেষণ। ঐক্য সফল হবে কিনা, ঐক্যের গঠন ব্যাকরণ মেনে তৈরি হয়েছে কিনা। এসব নিয়ে যেমন হাউ-কাউ শুরু হলো, তেমনি ঐক্যের পেছনের উদ্দেশ্য থেকে শুরু করে ঐক্যের নেতাদের চরিত্র বিশ্লেষণ, এসবও আসল আলোচনায়। অ্যান্ড দেন কেম দ্যা ব্লকবাস্টার স্টেটমেন্ট, ‘চরিত্রহীন’। আওয়ামীরা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়ে গেলো। থ্যাঙ্ক ইউ ভেরি মাচ বলে সবাই কোমর বেঁধে নেমে পড়লো।

দাবি উঠলো ক্ষমা চাওয়ার। ব্যারিস্টার সাহেব চাইলেন। প্রথমে ফোনে, পরে লিখিত। বাট ততক্ষণে দ্যা ড্যামেজ ইজ ডান। ঐক্যকে নিয়ে নেগেটিভ প্রচারণা করার মোক্ষম একটা সুযোগ পেয়ে গেলো আওয়ামী ক্যাম্প। যতটা সম্ভব ইউজ করার জন্য এলো ‘প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে’। এলো বিশিষ্টজনদের বিবৃতি। প্রথমে নারীবাদী গ্রুপ, তারপর বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী গ্রুপ, এই লেখা ছাপা হতে হতে আরও কেউ হয়তো বিবৃতি দিয়ে ফেলবেন।

এমন খবর ফেসবুকের জন্য সবচেয়ে উপাদেয়। যথারীতি শুরু হয়ে গেলো স্ট্যাটাস এবং পাল্টা স্ট্যাটাসের খেলা। অ্যান্টি ভাট্টি গ্রুপ দুই লাইনে অ্যাটাক করছে। একদল করছে, ভাট্টির প্রশ্ন করা নিয়ে। প্রশ্নটা ব্যাকরণসম্মত হয়েছে কিনা, একজন সাংবাদিক এমন প্রশ্ন করতে পারেন কিনা। আরেক দলের ফেভারিট টপিক হচ্ছে, ‘তখন আপনি কোথায় ছিলেন?’ আসতে লাগলো ছাত্রলীগের হাতে নির্যাতিত নারীদের ছবি, আসলো ওসমান সাহেব এবং আইভির বিতর্কের ভিডিও।

টকশোর ঝগড়া-ঝাটি এখন আর বিনোদন দেয় না। তাই ওসব দেখা বন্ধ করেছি। ‘চোখ উপড়ানো’ টাইপ কোনো খবর না হলে সাধারণত ইউটিউব ঘেঁটে অনুষ্ঠানটার রেকর্ডিং দেখি না। এবারের ঘটনা খুব একটা টানছিল না। তাই ঘটনাটার ডিটেলস জানতে প্রথম দিকে ইউটিউব ঘাঁটিনি। যখন দেখলাম ফেসবুক ব্যাপারটা নিয়ে বেশ সিরিয়াসলি ডিল করছে, তখন ইউটিউব খুললাম। আসলে ‘চরিত্রহীন’ যত না আমাকে টানছিল, তার চেয়ে বেশি ইন্টেরেস্টেড ছিলাম, ‘কেন বললো’ এটা জানতে।

দেখলাম। ‘ফেসবুকে সবাই বলাবলি করছে’ বলে মিসেস ভাট্টি যে প্রশ্নটি করলেন, দ্যাট ওয়াজ অসাম। শি ডিড অ্যা ব্রিলিয়ান্ট জব। উদ্দেশ্য ছিলো ব্যারিস্টার সাহেবকে রাগিয়ে দেওয়া। অ্যান্ড শি সাকসিডেড। এরপরে ব্যারিস্টার সাহেব শুরু করলেন ফাউল খেলা। উনি ভুলে গেলেন, উনি এই মুহূর্তে এক এগারোর উপদেষ্টা না। উনার হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেই। ফাউল খেলেলেও রেফারি ওভারলুক করবে না।

ভুলে গেলেন নতুন এই খেলায় তার জন্য নিয়ম কঠোর হলেও প্রতিপক্ষের জন্য নিয়ম বেশ শিথিল। প্রতিপক্ষ বিলো দ্যা বেল্ট হিট করলেও, তিনি তা করতে পারবেন না। তাকে ব্যাকরণ মেনেই খেলতে হবে। মাথা ঠা-া রাখতে না পারলে, উনি যে শুধু নিজে নক আউট হবেন তা না, ঐক্য প্রক্রিয়াকে ডিসকোয়ালিফাই করে দেবেন। আই থিঙ্ক, ঐক্যজোটও ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছে। তাই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে পড়েছে। ‘সরি’ এপিসোডও তাই বেশ দ্রুতই ঘটেছে। কিন্তু ভাট্টি ক্যাম্প ব্যাপারটাকে এতো সহজে ছেড়ে দেওয়ার মুডে নেই।

কাহিনী এখানে থামবে, না লম্বা চলবে তা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করবে। তবে ঐক্য গ্রুপকে ভেবে দেখতে হবে, উনাকে আর কোনো টিভি ডিবেটে পাঠাবে কিনা। বুঝতে হবে, ব্যারিস্টার মশাই ইজ নট অ্যা প্রেস কনফারেন্স ম্যাটিরিয়াল। সাংবাদিক হ্যান্ডল করার হ্যাডম উনার নাই। বেটার কিপ হিম আউট অফ দিস মেস।

যাই হোক, ঘটনাটা খুব বেশি মানুষের জন্য আর ইন্টেরেস্টিং নেই। তারপরও এটা টেনে হিঁচড়ে হেডলাইন করার চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন শব্দ চয়নে ব্যারিস্টার সাহেবকে আক্রমণ চলছে। এমন সময় ফিল্ডে নামলেন তসলিমা নাসরিন। স্ট্যাটাস ছেড়েছেন। প্রথমে ভাট্টির চরিত্র হনন করেছেন। এরপরে জানিয়েছেন কীভাবে তিনি ভাট্টিকে হেল্প করেছেন আর ভাট্টি তাকে পেছন থেকে ছুরি মেরেছেন। দেন, উনি আসল কথায় আসেন, ‘আমাকে যখন গালি দেওয়া হয় তখন তো কেউ বিবৃতি দেননি, এখন তাহলে কেন?’ বিবৃতি দাতাদের কাছে এই ব্যাখ্যা অবশ্য অনেকেই চাইছেন।

যাই হোক, কাহিনী কতদূর গড়াবে, এখনও বোঝা যাচ্ছে না। ব্যাপারটা ঐক্য গ্রুপের কতোটা ক্ষতি করতে পারবে, সেটাও দেখার ব্যাপার। আপাতত যা পরিস্থিতি, তাতে বলা যায়, ‘চরিত্রহীন’ ডিড ইটস জব। আওয়ামী ক্যাম্প ব্যাপারটা থেকে আরও ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। মানহানির কেস করেছে। অ্যারেস্ট কিংবা জেল হবে কিনা, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে ঐক্যের জন্য একটা লাভ হয়েছে। এবার থেকে উনারা হয় বুঝে-শুনে কথা বলবে আর নয়তো প্রফেশনাল স্পোকসম্যান রাখবে। দুটোর যেটাই করুক, ঐক্যের জন্যই মঙ্গল। আরেকটা সুবিধাও সম্ভবত হয়েছে। ঐক্য বুঝে গেছে, আওয়ামী সাংবাদিকরা যে স্ট্রাটেজি নিয়ে মাঠে নামবে তা হচ্ছে, ‘হিটিং বিলো দ্যা বেল্ট’। ফলে এবার তারা প্রস্তুত হয়েই আসবে। লেটস হোপ ফর দ্যা বেস্ট ফর বোথ।

লেখক : কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত