প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অন্ধকারেজালে মা ইলিশ, আলোতে ধুম কেনাবেচা (ভিডিও)

পরিবর্তন : থামছেই না মা ইলিশ ধরা, বিক্রিও হচ্ছে প্রকাশ্যে। ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই পদ্মায় ধরা হচ্ছে মা ইলিশ। ক্রেতারাও কিনছেন প্রকাশ্যেই। দিনে ভ্রাম্যমান আদালতে জেল-জরিমানা, আর রাতে ফের মা ইলিশ ধরতে নদীতে নাও বাইছেন জেলেরা। জেল জরিমানার ভয়, প্রচারণা আর প্রণোদনা- কিছুতেই যেন কিছু হচ্ছে না।

নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা নিয়ে সরেজমিন প্রতিবেদন করেছেন মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি ।

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের বকচর, চর আব্দুল্লা ও কালিরচর। মেঘনা তীরবর্তী এসব এলাকায় দিনের বেলায় টহল থাকলেও রাতে একদমই অরক্ষিত হয়ে যায়। রাতভর নদীতে নাও বেয়ে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ। আর ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে জমে উঠছে ক্রেতা-বিক্রেতার ভীড়।

সদর উপজেলা ছাড়াও পদ্মা তীরবর্তী লৌহজং উপজেলার হলদিয়া, কনকসার এলাকা; টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দীঘির পাড়, হাসাইল বানরী এলাকায়ও দেদারসে ধরা ও বেচা হচ্ছে মা ইলিশ। রাতে ধরার পর ইলিশ বহনকারী বিভিন্ন ট্রলার এসব এলাকার তীরে নোঙর করছে। বিভিন্ন ওজনের ছোট-বড় ইলিশের দাম স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম হওয়ায় ক্রেতাদেরও কমতি নেই। আর সুযোগ সন্ধানী ফড়িয়ারা তো আছেনই।

অন্য সময়ের চেয়ে দাম কম হওয়ায় ক্রেতাও অনেক। ইলিশ বেচা কেনায় জেলেদের সাথে যুক্ত হচ্ছেন স্থানীয় অনেক নারীও।

স্থানীয়রা জানান, মাঝে মাঝে অভিযান হলেও বিভিন্ন উপায়ে সবার হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে মা ইলিশ। এছাড়া স্থানীয় বাজার থেকে ইলিশ পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

রাতের আঁধারে ধরা হচ্ছে ইলিশ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয়রা  জানান, নিষিদ্ধ সময়েও মূলত রাতে ধরা হচ্ছে মা ইলিশ। লাভের আশায় পেশাদার জেলেদের সাথে যুক্ত হয়েছেন মৌসুমী জেলেরাও। এসব জেলের নৌকা ও জাল বিভিন্নভাবে লগ্নি করছে স্থানীয় বিত্তবান ও প্রভাবশালীরা। দিনের বেলা অভিযান হলেও রাতে কোনো অভিযান না থাকায় ইলিশ ধরা বন্ধ হচ্ছে না।

জেলা মৎস অফিস সূত্র জানায়, মুন্সীগঞ্জে ৩৬৭১ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে এসব জেলেকে সরকার সাহায্য দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মা ইলিশ ধরা বন্ধ করতে জেলেদেরকে বিভিন্নভাবে সরকার উৎসাহ দিচ্ছে। জেলেদের একটি তালিকা করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই ভিজিএফ এর চাল দেয়া হবে।

কেন থামছে না?

জেলে পরিবারের বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে  জানান, জীবন জীবিকার তাগিদে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে বাধ্য হচ্ছেন।

তাদের দাবি, সরকারি যে সাহায্যের কথা বলা হচ্ছে তা অপর্যাপ্ত। সরকারি কোনো সাহায্য এখন পর্যন্ত পায়নি মুন্সীগঞ্জের জেলেরা। ইলিশ মাছের চাহিদাও প্রচুর এজন্য জেলেরা ইলিশ ধরছেন।

মৎসজীবী এক মহিলা জানান, সরকার শুধু চাল দেয়ার কথা বলে। বাঁচতে হলে কি শুধু চালই লাগে? বছরের বিভিন্ন সময় নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখে সরকার কিন্তু এসময় আমরা কিভাবে বাঁচব। সন্তানদের খাবার ও লেখাপড়ার খরচওতো চালাতে হয় আমাদের। কী করব আর? ঝুঁকি নিয়েই মাছ ধরতে হচ্ছে।

ভয় নেই ভ্রাম্যমান আদালতেও

এই পর্যন্ত ৫৬টি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে প্রশাসন। অভিযান চালানো হয়েছে ২৪১টি। বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেয়া হয়েছে ১২৫ জনকে, মামলা হয়েছে ১৯৩টি, জরিমানা করা হয়েছে ৫ লক্ষ টাকা, জাল জব্দ হয়েছে ৪১ লক্ষ মিটার, ইলিশ ধরা পড়েছে ৬ মেট্রিক টন। জব্দকৃত মাছ বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।

নিষিদ্ধ সময়ে মা ইলিশ ধরা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা পরিবর্ত ডটকমকে জানান, শুধু অভিযান বা জেল জরিমানা করে ইলিশ ধরা বন্ধ হবে না। এজন্য দরকার জনসচেতনতা।

মা ইলিশ রক্ষা করা আমাদের জন্য কেন জরুরী সেটা বুঝাতে আমরা নৌ র্যা লি ও প্রচার অভিযান করেছি। দেশের স্বার্থে এই নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা, বেচা কেনা বন্ধ থাকা দরকার। ইলিশ রক্ষায় মুন্সীগঞ্জ প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।

জেলা মৎস অফিসার নূপেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, জেলে ও জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য আমরা বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। মা ইলিশ রক্ষা করা না গেলে ভবিষ্যতে মাছ সংকটে পড়তে হবে আমাদের।

নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে আগামী রোববার অথবা সোমবার সরকারি ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে। জেলেরা হয়তো বলছে এই সাহায্য যথেষ্ট না। কিন্তু কিছুটা হলেও তাদের উপকারে আসবে।

তিনি আরো জানান, পেশাদার জেলেদের সাথে মৌসুমী জেলেরাও ইলিশ ধরায় যুক্ত হচ্ছে। জেলেদের কাছে লগ্নি করছে স্থানীয় বিত্তবান ও প্রভাবশালীরা। সবচেয়ে বড় কথা, ক্রেতার অভাব হচ্ছে না। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই লাভবান হওয়ায় থামাতে কষ্ট হচ্ছে ইলিশ ধরা। আমরা সবাই সচেতন না হলে ইলিশ ধরা থামানো যাবে না।

রাতে অভিযানের ব্যাপারে তিনি জানান, আমাদের লোকবলের সংকট ও নিরাপত্তার কারণে রাতে অভিযান পরিচালনা করতে পারি না। দুর্গম নদীতে রাতে আমাদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ