প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোগান্তির শিকার ৩৬ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক

ডেইলি বাংলাদেশ : ভৌতিক বিল, বিল পরিশোধে বিড়ম্বনাসহ নানা জটিলতায় কুষ্টিয়ার খোকসায় পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ৩৬ হাজার গ্রাহক সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

গত সপ্তাহ থেকে সোনালী ব্যাংকের ২টি শাখা বিদ্যুৎ বিল নেওয়া বন্ধ করায় ২০ হাজার গ্রাহক নতুন করে সমস্যায় পড়েছে।

প্রায় দেড়যুগ আগে খোকসা উপজেলা সদরসহ ৯৯টি গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ সঞ্চালন শুরু হয়। প্রথম দিকে ১২ হাজার গ্রাহক নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমান তা ৩৬ হাজার। কিন্তু বাড়েনি সেবার মান।

ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর জন্য একটি সাব ষ্টেশন চালু করা হয়েছে। কিন্তু সমিতির জনবল সংকট ও অফিস কাঠামোগত সমস্যায় প্রতিমাসে গ্রাহকদের টানতে হচ্ছে ভৌতিক বিলের বোঝা।

সামান্য সমস্যা হলে ১০ কিলোমিটার দূরে পাশের কুমারখালী উপজেলায় জোনাল অফিসে ছুটতে হয় গ্রাহকদের। বিল পরিশোধের বিড়ম্বনা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রতিদিনই বিল পরিশোধের জন্য সোনালী ব্যাংক খোকসা ও শোসপুর শাখা এবং জনতা ব্যাংকে শাখার অতিরিক্ত কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইনে অপেক্ষা করতে হয় গ্রাহকদের।

গত সপ্তাহের শুরুর দিকে সোনালী ব্যাংকের শাখাগুলোতে বিদ্যুৎ বিল জমা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে পৌরসভার ৩ হাজার গ্রাহকসহ শোমসপুর, জয়ন্তী হাজরা, আমবাড়িয়া ও গোপগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে। অনেকে পাশের উপজেলার জোনাল অফিসে গিয়ে বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে।

গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় একটি জোনাল অফিসের দাবি করে আসছে। কিন্তু তদবিরের অভাবে তা বাস্তবায়িত হয়নি।

সোনালী ব্যাংক খোকসা শাখায় বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে সালেহা খাতুন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এক কারেন্ট (বিদ্যুৎ) নিয়ে কত খেলায় দ্যেখলাম (দেখলাম)। এক মাসের বিল বাকী হলিই (হলেই) ব্যাটারা নাইন (লাইন) কেটে দেয়। আবার ব্যাংকে আসলি (আসলে) টাহা (টাকা) নেয় না।

নিজেদের দুর্দশার কথা জানালেন খোকসা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অনার্স ২ য় বর্ষের ছাত্রী নিলুফা। তিনি জানান, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য প্রতিমাসে অন্তত একদিন কলেজ কামাই (উপস্থিতি) দিতে হয়। সামান্য ঝড়ে তাদের বাড়ির বিদ্যুতের সার্ভিস তার ছিঁড়ে যাওয়ায় তাকে তিন দিন কুমারখালীর জোনাল অফিসে যেতে হয়েছে। ভাইগুলো বাইরে চাকরি করায় তাকেই এ সব কাজ করতে হয়।

ছাত্রীটির অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেন জনতা ব্যাংক খোকসা শাখা ম্যানেজার বদিউজ্জামান বাবলু। তার এই শাখাতে বেতাড়িয়া, একতারপুর, শিমুলিয়া, ওসমানপুর ও খোকসা ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নেওয়া হয়। তাও আবার একজন পিয়ন দিয়ে। প্রতিদিন তাকে ৬শ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল জমা নিতে হয়।

এ বিষয়ে ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরে তিনি বলেছেন কিন্তু কাজ হয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকা পরিচালক কাজী হাফিজ বলেন, এ উপজেলায় প্রায় ৩৬ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের সামান্য সমস্যার জন্য ১০ কিলোমিটার দূরে কুমারখালী উপজেলা সদরে ছুটতে হয়। এর জন্য অতিরিক্ত ব্যয় ও শ্রম দিতে হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত জনবল সংকট ও জোনাল অফিস না থাকায় সরকারের শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, গ্রাহকের পরিসংখ্যানে এ উপজেলায় একটি জোনাল অফিস হওয়া উচিত। একটি সাবজোনাল অফিসের জন্য ইতোমধ্যে বোর্ডে প্রস্তাবও করা হয়েছে। কিন্তু তদবিরের অভাবে তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি।

সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম মোস্তফা কামরুল আহসানের সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনিও একই কথা বলেন। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মোবাইলে বিল নিচ্ছে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে পল্লী বিদ্যুতের কুমারখালীর ডিজিএম কামাল জিয়াউল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

তবে খোকসায় কর্মরত জুনিয়র ইঞ্জিনিয়র পার্থ প্রতীম দাস জানান, সোমবার থেকে খোকসা বাস স্ট্যান্ডে অস্থায়ী ক্যাম্প করে গ্রাহদের বিল নেওয়ার হবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকরা আপাতত সমস্যায় পড়বে বলেও তিনি স্বীকার করেন।