প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুই লাখ মানুষের এক চিকিৎসক

ডেইলি বাংলাদেশ : সোয়া ২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ সেখানে রয়েছেন মাত্র ১ জন চিকিৎসক।
এতে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার মানুষ। সেবা না পেয়ে যাচ্ছেন অন্যত্র। পড়ছেন দালালের ফাঁদেও।

২০১২ সালের ২৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৫০ শয্যা এ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এরপর ২০১৫ সালের ২৫ অক্টোবর সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও স্থানীয় এমপি ড. আব্দুর রাজ্জাক তৎকালীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. দ্বীন মোহাম্মদ নুরুল হককে সঙ্গে নিয়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ হাসপাতাল উদ্বোধন করেন।

হাসপাতাল ভবনের প্রধান ফটকে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদরে জটলা।

হাসপাতালে ঢোকার পর নিচ তলার বারান্দায় দেখা গেলো, চিকিৎসা নিতে আসা রোগিদের ভিড়। ২য় তলায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কক্ষে একজন চিকিৎসক, বর্হিবিভাগে আসা রোগিদের সেবা দিচ্ছেন।

আউটডোরের সরঞ্জাম দিয়েই চালানো হচ্ছে এখানকার চিকিৎসা কার্যক্রম। প্রতিদিন ২শ’ থেকে আড়াইশ’রোগির ব্যবস্থ্যাপত্র দেয়া হয় এখান থেকে। ইনডোর চালু না থাকায় গড়ে প্রতিদিন ৮-১০ জন রোগীকে রেফার্ড করা হচ্ছে অন্যত্র।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আমিনূর রসুল জাকি বলেন, ৫০ শয্যার এ হাসপাতালে আমি ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসক নেই। বেডসহ মালামাল আসলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় এ হাসপাতালের ইনডোর সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সীমিত পরিসরে প্যাথলজি, অ্যাম্বুলেন্স, আউটডোর ও জরুরি বিভাগে সেবা চালু আছে। হাসপাতাল পুরোপুরি চালু করতে শূন্যপদ পূরণ করতে হবে। এখানে জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১০ জনের যায়গায় মাত্র একজন, তাও আবার প্রেষণে কাজ করেন টাঙ্গাইলে। সহকারী সার্জন থাকার কথা ৫ জন আছে মাত্র ১ জন। সার্বিক স্বাস্থ্য চিত্রই এখানে একেবারেই নাজুক।

তিনি বলেন, ইতিমধ্যে শূন্যপদ পূরণসহ সকল প্রকার চাহিদাপত্র উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর পাঠিয়েছি।

২০১৮ সালের নিয়োগ বিধিমালায় পরিবর্তন আসায় ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির নিয়োগ এখন সরকারিভাবে বন্ধ। এ হাসপাতালের সকল শূন্যপদ পূরণ, অর্থ ছাড় এবং জিও (সরকারি আদেশ) হলে এ হাসপাতাল পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হবে।

এখানে চাহিদামত ঔষধ নেই। টাঙ্গাইল থেকে যা দেয়া হয় তা দিয়েই বিপুল সংখ্যক রোগির ব্যবস্থাপত্র দেয়া হয়। ইনডোর চালু না থাকায় জরুরি রোগিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অন্যত্র রেফার্ড করা হয়।

কথা হয় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী নিজবর্ণি গ্রামের আব্দুল মালেক, ধনবাড়ী কলেজপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম, নতুন বাজার গ্রামের আয়েশা বেগম, বানিয়াজান গ্রামের সালেহা বেগম, রোজিনা বেগম, আব্দুর রশিদসহ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে। তারা জানান, সব ঔষধ এখানে পাওয়া যায় না। বাইরে থেকে কিনতে হয়।

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. শরীফ হোসেন খান জানান, এটা প্রশাসনিক ব্যাপার। জনবল নিয়োগ, অর্থ বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আসলেই এ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ