প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যানবাহন বাড়ছে, বাড়ছে দুর্ঘটনাও

বণিক বার্তা : দেশে প্রতিদিন বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। সে তুলনায় উন্নতি হচ্ছে না যোগাযোগ অবকাঠামোর। ফলে সড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতিদিন অন্তত ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। এমন পরিসংখ্যান মাথায় নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পালিত হচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আইন মেনে চলবো, নিরাপদ সড়ক গড়বো’।

জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) আজ রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করবে। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে হবে আলোচনা সভা। এর বাইরে সারা দেশে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।

গত তিন বছরে (২০১৫-১৭) সাড়ে ১১ লাখ যানবাহনের নিবন্ধন দিয়েছে বিআরটিএ। এ বিপুলসংখ্যক যানবাহন রাস্তায় নামলেও সেভাবে বাড়েনি সড়ক-মহাসড়কের দৈর্ঘ্য-পরিধি। বিদ্যমান সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোও রয়েছে ভঙ্গুর দশায়। ফলে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে দুর্ঘটনা। প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গুত্ব বরণ করছে মানুষ। সঙ্গে যোগ হচ্ছে বিরাট আর্থিক ক্ষতিও।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ৮৬০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ৩ হাজার ২৬ জন। এ সময়ে আহত হয়েছে ৮ হাজার ৫২০ জন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৪৯৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫১৪ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৩৯টি দুর্ঘটনায় ৪৫৯, মার্চে ৪৯১টি দুর্ঘটনায় ৪৮৩ ও এপ্রিলে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৪৬১ জন। বাকি ১ হাজার ১০৯ জন নিহত হয় মে ও জুনে।

সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৫৮১। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয় ৮ হাজার ৬৪২ জনের, আহত হয় ২১ হাজার ৮৫৫ জন। ২০১৬ সালে সড়কে মোট ৪ হাজার ৩১২টি দুর্ঘটনা হয়। সে বছর নিহত হয় ৬ হাজার ৫৫ জন, আহত হয় ১৫ হাজার ৯১৪ জন। আর ২০১৭ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হয় ৪ হাজার ৯৭৯টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৭ হাজার ৩৯৭ জন, আহত হয় ১৬ হাজার ১৯৩ জন।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহতের এক বড় অংশকে বরণ করতে হচ্ছে চিরপঙ্গুত্ব। গত তিন বছরে এ ধরনের দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়েছে প্রায় চার হাজার মানুষ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭২২ জন সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয় ২০১৭ সালে। এর আগে ২০১৫ সালে ১ হাজার ৩০৫ ও ২০১৬ সালে ৯২৩ জন পঙ্গু হয়।

প্রাণহানি ও অঙ্গহানির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২ শতাংশের বেশি।

দেশে সড়ক দুর্ঘটনার চালচিত্র যেদিকে যাচ্ছে, তার উল্টো দিকে হাঁটার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর বিরুদ্ধে। এ সম্পর্কে বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামছুল হক বলেন, পুরো পৃথিবীতেই সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য পুলিশকে সংরক্ষণ করতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনার যে তথ্য দেয়, তা সঠিক নয়। এখানে পুলিশ তথ্য-উপাত্ত রাখে না। সঠিক তথ্য দেয় না। আন্ডার রিপোর্টিং করে। এগুলোর জন্য পুলিশকে জবাবদিহিও করতে হয় না। সরকারও প্রশ্রয় দেয়। সরকার দেখায় দুর্ঘটনা কমে যাচ্ছে। এসব কারণে সিস্টেমটি আরো বেশি অকার্যকর হয়ে উঠেছে।

ড. শামছুল হকের কথার সত্যতা মেলে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের বিষয়ে বিআরটিএর পরিসংখ্যানে। বেসরকারি সংগঠনগুলো যেখানে বিগত বছরে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি সাত হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা বলছে, সেখানে বিআরটিএ জানাচ্ছে ২ হাজার ৫১৩ জন নিহত হয়েছে। একই অবস্থা ২০১৫ সালের হিসাবেও। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে সে বছর দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৮ হাজার ৬৪২ জন। আর বিআরটিএর হিসাব বলছে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৬।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে নিজেদের তথ্যই সঠিক বলে দাবি করেছেন বিআরটিএর কর্মকর্তারা। সংস্থাটির পরিচালক (রোড সেফটি) মাহবুব-ই-রব্বানি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ পুলিশের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করে থাকি। এখানে হয়তো কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থায় আমরা আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছি।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ