প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধামরাইয়ে কোন্দলে জর্জরিত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি

ভোরের কাগজ : বছরের শেষপ্রান্তে জাতীয় নির্বাচন। এরই মধ্যে সারা দেশে বইছে ভোটের হাওয়া। দলগুলোতে প্রস্তুতির তোড়জোড়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ তুঙ্গে। নির্বাচনী এলাকায় ঘন ঘন ছুটছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেমন তাদের প্রস্তুতি, মাঠের অবস্থাইবা কি? এ নিয়ে ধারাবাহিক প্র্রতিবেদন

কামরুজ্জামান খান, ঢাকা ও দীপক চন্দ্র পাল, ধামরাই : রাজধানীর অদূরে ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা পুরোদমে চললেও বড় দুই রাজনৈতিক দলের ভেতরে রয়েছে অন্তর্কলহ। এক সময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত এ আসনটি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের হাতছাড়া হয়। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট অংশগ্রহণ করেনি। আগামী নির্বাচনে বিএনপির বড় ভোটব্যাংক দখলে নিতে হলে আওয়ামী লীগের যে পরিমাণ সাংগঠনিক শক্তি প্রয়োজন তা ক্ষয় হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর কাদা ছোড়াছুড়িতে। বিএনপিও জর্জরিত অভ্যন্তরীণ কোন্দলে। তবে শেষ পর্যন্ত তা কাটিয়ে উঠতে না পারলেও ‘ভোটব্যাংক’ তাদের জয়ের শক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দ্বন্দের খবর দলের হাইকমান্ডও অবগত। সব কিছুকে ছাপিয়ে বিএনপি চায় দুর্গ পুনরুদ্ধার করতে, আর আওয়ামী লীগ চায় জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। এ অবস্থায় এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোট হলে এই আসনে সেই জোটের প্রার্থী হতে চান সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য খান মোহাম্মদ ইসরাফিল খোকন।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সাংসদ ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমানের নাম আলোচনায় শীর্ষে থাকলেও সাবেক সাংসদ কাজী সুলতানা রহমান ও উপজেলা চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন তাকে ছাড় দিতে নারাজ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগে বর্তমান ও সাবেক সাংসদ দুজনের নামই রয়েছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায়। তারা একে অপরের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মধ্যকার সাংগঠনিক প্রতিদ্ব›িদ্বতা অনেকটা ব্যক্তিগত শত্রুতায় রূপ নিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ২০ হাজার ১৪৫ জন। এর মধ্যে নারী-পুরুষ প্রায় সমান। নবম সংসদ নির্বাচনের তালিকা থেকে এবার ভোটার বাড়লেও স্থানীয় ‘রাজনীতির সৌন্দর্য’ বাড়েনি। মামলায় জর্জরিত স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এত কিছুর মধ্যেও ধামরাইয়ে বিএনপির কিছু রাজনৈতিক তৎপরতা রয়েছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনসহ ঘরোয়া রাজনীতিতে সরব বিএনপি। অনেকস্থানে রয়েছে তাদের ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুনও। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ছোট পরিসরে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, ধামরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ধামরাই থানা বিএনপির সভাপতি তমিজ উদ্দিন, সাবেক সাংসদ ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক কাজী সুলতানা রহমান, ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ, ঢাকা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান অভি মনোনয়ন প্রত্যাশী। তারা নানাভাবে নিজেদের অবস্থান জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই সাঁটিয়েছেন ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার। অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন কেন্দ্রে। অনেকের রয়েছে লন্ডন কানেকশন।

অন্যদিকে ধামরাই আওয়ামী লীগে বর্তমান সংসদ সদস্য এম এ মালেক ও সাবেক সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদের গ্রুপের কোন্দল প্রকাশ্য। পাল্টাপাল্টি সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করেন তারা। একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। বর্তমান ও সাবেক সাংসদের মধ্যে মুখ দেখাদেখি পর্যন্ত বন্ধ। তাদের কর্মকাণ্ড ও তৎপরতায় সাধারণ কর্মী-সমর্থক এবং ভোটাররা ত্যক্ত-বিরক্ত। সাবেক ও বর্তমান সাংসদের বিরোধ ফুটে ওঠে গত উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন এবং ফলাফলে। উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবির নেপথ্যে দলীয় কোন্দল মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এম এ মালেক, সাবেক সংসদ সদস্য, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বায়রা প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদ, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র গোলাম কবীর, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক মনোয়ার হোসেন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাইশাকান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, সাবেক সচিব দেওয়ান আফসার উদ্দিন জিন্নাহ একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের ঘিরে বিভক্ত নেতাকর্মীরা অনেকটা দিশেহারা অবস্থায় রয়েছেন। একজনকে মনোনয়ন নিশ্চিত করার পর অন্যদের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাবে! এই সংকট কাটিয়ে উঠতে হলে সরাসরি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ