প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলপিজি পাচ্ছে রোহিঙ্গারা লাকড়ি ব্যবহারেই আগ্রহ

ভোরের কাগজ : পাহাড়ের গাছ বাঁচাতে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ক্যাম্পের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে দেয়া হচ্ছে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার। তবে এলপি গ্যাস ব্যবহারে ক্যাম্পের নারীরা লাকড়ি ব্যবহারেই বেশি আগ্রহী এবং তারা লাকড়িই ব্যবহার করছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেকে গোপনে ওই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য যে লাকড়ি তাদের দেয়া হয় সেটিও তারা বিক্রি করে দেন স্থানীয়দের কাছে।

ময়নার ঘোনার ১১নং ক্যাম্পে স্ত্রী আয়েশা ও তিন মেয়ে নিয়ে থাকেন জামাল হোসেন (৪২)। আয়েশা জানান, লাকড়ি দিয়ে রান্না করতেই তিনি অভ্যস্ত। সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করতে তার ভয় লাগে। এক সিলিন্ডার এক মাস চলে বলে জানান তিনি। তবে তাদের রান্না ঘরে মাটির চুলাও দেখা গেছে। মাটির চুলা ব্যবহার করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্যাসের তাপে গরম বেশি লাগে। তাড়াতাড়ি শেষও হয়ে যায়। তাই মাটির চুলায় রান্না করি। একই ক্যাম্পের বাসিন্দা আছিয়া বেগমও (৩০) এলপি গ্যাস সিলিন্ডার পেলে জ্বালানি হিসেবে লাকড়ি ব্যবহার করেন। আছিয়া বলেন, গ্যাস কখন শেষ হয়ে যায় তা বোঝা যায় না। তখন মাটির চুলাতেই রান্না করতে হয়। ক্যাম্পের মাঝি নূর হোসেন জানান; রোহিঙ্গা নারীরা রান্নার কাজে বনের কাঠের ওপর অভ্যস্ত। তাই জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাস বা তুষ তাদের পছন্দ হচ্ছে না। এ ছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে তারা অনভ্যস্ত।

জানা যায়, পাইলট প্রকল্পের আওতায় আগস্ট থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জ্বালানি হিসেবে এলপি গ্যাস দেয়া হচ্ছে। বিভিন্ন এনজিও সংস্থার মাধ্যমে এসব এলপি গ্যাস ও চুলা দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে তা পাচ্ছে প্রায় ২৫ হাজার পরিবার। এই পাইলট প্রকল্প চলবে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।

পরিকল্পিত উখিয়া চাই আন্দোলনের আহ্বায়ক এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব নূর মোহাম্মদ শিকদার বলেন, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে পার্শ্ববর্তী বনভূমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলা হচ্ছিল। পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকাতে রোহিঙ্গাদের এলপি গ্যাস দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এর সুফল এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ রোহিঙ্গাদের অনেকে গ্যাস ব্যবহার করতে জানে না। এখনো রোহিঙ্গারা পাহাড়ের গাছ কাটছে এবং সেগুলো রান্নার কাজে ব্যবহার করছে।

এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী পরিবারের মাঝে এলপি গ্যাস ও চুলা দেয়া হয়েছে। তা ছাড়াও স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাংলাদেশি পরিবারকে এ গ্যাস দেয়া অব্যাহত রয়েছে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে সব রোহিঙ্গা পরিবারকে এ গ্যাসের সুবিধার আওতায় আনা হবে।

সিলিন্ডার ব্যবহারে রোহিঙ্গাদের কীভাবে সচেতন করা হচ্ছে এ সম্পর্কে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা পরিবারদের যখনই সিলিন্ডার দেয়া হয় তখনই একটি গ্রুপ করা হয়। গ্রুপে শেখানো হয় কীভাবে তারা এই সিলিন্ডার ব্যবহার করবেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তারা ব্যবহার করতে না শিখছেন ততক্ষণ তাদের সিলিন্ডার দেয়া হচ্ছে না। তবে কিছুটা সময় তো লাগবে। কারণ তারা জীবনে এটি দেখেনি।

বাইরে সিলিন্ডার বিক্রি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খালি সিলিন্ডার না পেলে সিলিন্ডার রিফিল করা হয় না। তাই সিলিন্ডার বিক্রি করে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এলপি গ্যাস ব্যবহারে বনের গাছ কাটা অনেকটা বন্ধ হয়েছে এবং আগামীতে বন উজাড় শূন্যের কোটায় নেমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে ১৮ অক্টোবর উখিয়ার থাইংখালী ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-১৩ ব্লুকে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে সৃষ্ট আগুন নেভাতে গিয়ে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছে। আগুনে ক্যাম্পের তিনটি বাড়ি পুড়ে গেছে। এ ঘটনার পর ক্যাম্পের বাসিন্দাদের মাঝে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারে কিছুটা অনীহা দেখা যাচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ