প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজস্ব আয় বাড়াতেই হবে

ভোরের কাগজ : চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস (জুলাই-আগস্ট) রাজস্ব আদায়ের গতি ছিল মন্থর। এমতাবস্থায় চলতি অর্থবছরের বিপর্যয় নেমে এসেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে। রাজস্ব আদায়ে গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.০৭ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নির্বাচনী বছর বিবেচনায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব নাও হতে পারে। এটা শঙ্কার বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার-আয়তন, বাণিজ্যসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত আমলে নিলে নির্দিষ্ট রাজস্ব আহরণ কঠিন কিছু নয়। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এটা সম্ভব।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। আর রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা। এর আগের বছরে এ সময়ে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছিল ২৭ হাজার ৮৭৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। খাত হিসেবে দুই মাসে কাস্টমসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৯ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ০.০৩ শতাংশ। মূসক আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১১ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মূসকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আর আয়কর খাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা, যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ। উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ করবর্ষে এনবিআরের রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য ছিল ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে আয় বাড়বে। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা এলে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

ব্যবসায়ীদের তোপের মুখে চলতি বছরের বাজেটে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। এতে ভ্যাট আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা আদায় কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে এনবিআরের জন্য। এমনি পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করের আওতা বাড়ানোসহ নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা খুবই শ্লথ গতির। এনবিআর বলছে, ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন না হওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ঘাটতির মুখে পড়ছে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়। বিদ্যমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাচন ঘিরে এ বছর রাজস্ব আদায় তুলনামূলকভাবে কমবে। ২০২১ সালে আমাদের লক্ষ্য মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে পৌঁছানো। এ জন্য অপরিহার্য শর্ত- জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ থেকে ৮ শতাংশ নিশ্চিত করা।

বিনিয়োগ বাড়াতে পারলেই কেবল এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। রাজস্ব আয় বাড়ানো এর শর্ত। এ ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে দরকার করবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি। সেখানে রাজস্ব প্রদানে সেবা নিশ্চিত, অনুক‚ল রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আইনকানুন সময়োপযোগী করা গুরুত্ব পাবে। পরিকল্পনাজনিত সমস্যা তো রয়েছেই, সঙ্গে রয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক নানা জটিলতা। আছে দুর্নীতির অভিযোগও। এসব বিষয়ে সরকারকে আরো জোরালো ভূমিকা নিতে হবে। লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ও স্বচ্ছতাও বাড়াতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ