প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দুদক-এনবিআরে বিপাকে ব্যবসায়ীরা
ভোটের চাপে অর্থনীতি

ইনকিলাব : একাদশ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। ভোট এলেই সবকিছু হয়ে পড়ে নির্বাচনমুখী। নির্বাচনের কারণে অর্থনীতির নতুন সমীকরণে নানামুখী সংকট মোকাবিলা করতে হয়। তার ওপর নতুন করে রাজস্ব ফাঁকি ও দুর্নীতির নানা অভিযোগে এনে বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদেরকে নানান ঝামেলায় ফেলা হচ্ছে। এতে ব্যবসায়ি সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এমনিতেই দীর্ঘদিন থেকে দেশে বিনিয়োগ স্থবিরতা, শেয়ারবাজারে আস্থাহীনতা বিরাজ করছে। নতুন করে ব্যবসায়ীদের হয়রানি, যা দেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে ছেদ পড়তে পারে।

ভূক্তভোগী এক ব্যবসায়ী কাছে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। জানান, সম্প্রতি ঢাকার পাশ্ববর্তী একটি স্থানে কয়েক কাঠা জমি ক্রয় করেছি। জমি ক্রয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এক কর্মকর্তার ফোন, জানতে চাইলেন জমি ক্রয়ের অর্থের উৎস কি? অর্থের উৎস এবং নিয়ম অনুযায়ীই সবকিছু করা হয়েছে বললেও জানালেন ওই কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে বলা হয়। পরে ওই ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আইনজীবীকে পাঠিয়ে বিষয়টির সুরহা করেন। ঝামেলা এড়াতে ওই ব্যবসায়ীকে মোটা অঙ্কের টাকাও ব্যয় করতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ব্যবসায়ী জানান, গত প্রায় ৩০ বছর ধরে ব্যবসা করছি। দেশের হাজার হাজার লোকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছি। কখনও কোন অনিয়ম করিনি, সুনামের সাথে ব্যবসা করেছি। কিন্তু সম্প্রতি দুদক অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তলব করেছে। তথাকথিত দুর্নীতির অভিযোগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে তা সত্যিই মর্যাদাহানীকর। মর্যাদা নিয়ে ব্যবসা করা ক্রমান্বয়ে যেন দূরুহ হয়ে পড়েছে।

এভাবেই দীর্ঘদিন সুনামের সাথে ব্যবসা করা স্বনামধন্য বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, সম্পদের উৎস নানাভাবে হয়রানি করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং এনবিআর। অথচ বড় বড় ব্যাংকলুটেরা ও টাকা পাচারসহ নানা কেলেঙ্কারির হোতাদের আড়াল করা হচ্ছে। এমনকি হয়রানি এড়াতে সরকারের মেগা প্রকল্পসহ বড় বড় প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালকরা (পিডি) সতর্ক থাকতে গিয়ে টাকা ব্যয় করছেন না। আর এতে দেশের বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনবিআর, দুদকসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা থেকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, মুদ্রা পাচার এবং রাজস্ব ফাঁকিসহ নানা অভিযোগ উঠছে দেশের স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগ যাচাইয়ে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ, প্রাণ-আরএফএল, আবুল খায়ের, বসুন্ধরার মতো বেশ কিছু বৃহৎ শিল্প গ্রুপে বড় পরিসরে বিশেষ নিরীক্ষা শুরু করেছে এনবিআর। এসব গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে সর্বশেষ পাঁচ বছরের ব্যাংক লেনদেন ও বিক্রির তথ্যও চেয়েছে রাজস্ব আহরণকারী সংস্থাটি।

এদিকে হোটেল লা মেরিডিয়ানের স্বত্বাধিকারী আমিন আহম্মেদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হোটেল ব্যবসার আড়ালে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসা ও সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমিন আহম্মেদ ভূঁইয়াকে তলবও করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে বিএনএস গ্রুপের কর্ণধার এমএনএইচ বুলুর বিরুদ্ধে ১০৯ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও প্রায় ২৫ কোটি টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর মামলা করেছে দুদক। এর আগে এক দফা জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে তাকে। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও লতিফুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে বাদ যাননি হা-মীম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও। তার বিরুদ্ধে বেনামে পাঁচ তারকা হোটেল ব্যবসা, ব্যাংকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেনসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচার এবং নিজ, স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের নামে শেয়ার ক্রয়সহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ।

এদিকে দুদকে অভিযোগ না থাকলেও রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে এনবিআর বিশেষ নিরীক্ষা করছে আবুল খায়ের গ্রুপের লি.-এর ১০ প্রতিষ্ঠানকে। পাঁচ বছরের ব্যাংক হিসাব ও বিক্রির তথ্য চেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে এরই মধ্যে চিঠিও দিয়েছে এনবিআর। চিঠি দেয়া হয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশকেও। বিশেষ এ নিরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে নাসির গ্রুপের নাসির গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বাংলাদেশ মেলামাইন লিমিটেড, নাসির এনার্জি সেভিং ল্যাম্পসহ মোট ১০টি প্রতিষ্ঠানকে। কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে আবদুল মোনেম গ্রুপ, শেলটেক, ডম-ইনো, রূপায়ন রিয়েল এস্টেট, কনকর্ড, আফতাব রিয়েল এস্টেট, আমিন মোহাম্মদ ফাউন্ডেশন, জাপান গার্ডেন সিটি, এনা প্রোপার্টিজ, নাভানা এবং আনোয়ার গ্রুপকেও।

অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে আরএকে পেইন্টস ও আশালয় হাউজিংয়ের পরিচালক এসএকে একরামুজ্জামান, আরএকে পেইন্টস ও আরএকে কনজিউমার প্রডাক্টসের পরিচালক কামার উজ জামান, ঝুলপার বাংলাদেশ লিমিটেড ও রাকিন ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির পরিচালক সৈয়দ একে আনোয়ারুজ্জামান, আরএকে পাওয়ার লি. পরিচালক মাকসুদুল করিম, আরএকে সিরামিকসের স্বতন্ত্র পরিচালক ফাহিমুল হক, স্টার সিরামিকসের পরিচালক প্রতিমা সরকার, আরএকে কনজিউমার প্রডাক্টসের দুই পরিচালক মোহাম্মদ আমির হোসেন ও এমএ মালেক, রোজা প্রপার্টিজের পরিচালক আশফাক উদ্দিন আহমেদ এবং আরএকে পেইন্টস ও আরএকে ক্যাপিটাল লি. পরিচালক শায়লিন জামান আকবরের বিরুদ্ধেও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি অনেকাংশেই রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। আগামী নির্বাচন কেমন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নাকি অন্য কোনো সরকার ব্যবস্থায়? ভাঙা-গড়ার রাজনীতিতে দল-জোটগুলোর ভূমিকা কী হবে, বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে, নাকি কারাবন্দী খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলে আন্দোলন চাঙা করবে সে ভাবনা রাজনীতির অঙ্গন ছাপিয়ে ভাবিয়ে তুলেছে ব্যবসায়ী সমাজকে। তাদের মতে, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সরকার গঠন সম্পন্ন না হলে সেটি অর্থনীতির জন্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। কারণ এমনিতেই দেশে বিনিয়োগ মন্দা চলছে। এরপর আবার ব্যবসায়ীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। যা মোটাদাগে অর্থনীতিকে বিপাকে ফেলবে।

অনেকের মতে, বিনিয়োগে এখন বড় বাধা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা নয় দুদক এবং এনবিআর। এই দুই সংস্থার তৎপরতায় ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে আর্থিক খাতে। আতঙ্কে ঋণ বিতরণ এক প্রকার বন্ধই করে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। অপরদিকে ক্ষমতাশালীরা ক্ষমতার অপব্যহার করে বিদেশে অর্থপাচার করছে। আর এতে স্থিমিত হয়ে গেছে দেশের বিনিয়োগ কার্যক্রম। অর্থ চলে যাচ্ছে বিদেশে। হয়রানির ভয়ে বড় উদ্যোক্তারা ঋণ নিচ্ছেন বিদেশি উৎস থেকে। এই পরিস্থিতি চললে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের আশাবাদ ‘চলতি বছর ২০১৯ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশের ঘরে পৌঁছানো অসম্ভব, মত বিশেষজ্ঞদের। তাহলে কার স্বার্থে কাজ করছে দুদক বা এনবিআর?।
এদিকে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) এক গবেষণা প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে- রাজনৈতিক হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে দুদককে ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে মানুষের আস্থা খুবই কম।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেছেন, সরকার চলছে দুর্নীতি-লুটপাটের উপর। তাই যে যা পাড়ছে করছে। তিনি বলেন, অদ্ভুত দেশে অদ্ভুত আইন। এটা এক ধরণের তামাশার আইন। মন চাইলো তাকে তলব করলেন, সম্পদের বিবরণী চাইলেন। একজন সম্মানিত ব্যক্তিকে দুদকে গিয়ে সম্পদের হিসাব দিতে বললেন। অথচ আইনে আছে কোন ব্যক্তিকে এভিডেন্স দিতে বলতে পারবে না।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতায় মাত্র আড়াই মাসে দেশের উৎপাদন ঘাটতি হয়েছে চার হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খাতওয়ারি ঘাটতির পরিমাণ তৈরী পোশাক খাতে এক হাজার ৩১৮ কোটি টাকা, চিংড়ি ও হিমায়িত খাদ্যে ৭৪১ কোটি, কৃষিতে ৩৯৮ কোটি, পোল্টি খাতে ৬০৬ কোটি, প্লাস্টিক খাতে ২৪৪ কোটি, পর্যটনে ৮২৫ কোটি, ব্যাংক ও বীমা খাতে ১৫৬ কোটি, পরিবহন খাতে ৭৪৪ কোটি এবং পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় ৪৪৮ কোটি টাকা।
সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক কারণে উদ্যোক্তারা আতঙ্কে আছেন। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগে কোনো ধরনের তেজিভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তার মতে, এখন যে বিষয়টা বিনিয়োগের পরিবেশের জন্য অস্বস্তিকর তা হলো অনুদার রাজনৈতিক পরিবেশ।

ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পরিবহন ব্যবসায়ী, হকার ও শ্রমিকরা সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হন, যা থেকে বাদ পড়ে না সাধারণ ভোক্তারাও। তাই আসন্ন আন্দোলন এবং নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী মহলে ভীতি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারেও।

এদিকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলোয় বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি ও সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার বালির নুসাদুয়া কনভেনশন সেন্টারে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক বৈঠকের শেষদিন এ সংকটের আভাস দেয়া হয়। এজন্য ১৮৯ দেশের অর্থমন্ত্রী ও গভর্নরদের সর্তক করা হয়েছে। বৈঠকে বিশ্ব অর্থনীতি পর্যালোচনা করে নেতারা একমত হয়েছেন, দুইটি কারণে এশিয়ার দেশগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। মার্কিন ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতিতে একধরনের টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এই সংকট থেকে বাংলাদেশসহ এশিয়ার দেশগুলো বাদ পড়বে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ কমে গেছে। তবে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। সরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বেড়ে গেছে। রেমিট্যান্স ও রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে। আমদানি ব্যয় গত অর্থবছর পর্যন্ত বেড়ে এখন কমতে শুরু করেছে। বৈদেশিক বিনিয়োগেও চলছে মন্দাভাব। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ব্যয় বেড়ে গেছে। ফলে সরকারের চলতি হিসাবে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। টাকা ছাড়ের বিপরীতে সরকার অর্থ ছাড় করাতে পারছে না। অর্থ সংকটে ঋণের বোঝা বাড়ছে। আবার বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়লেও কমে যাচ্ছে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে মানুষের ক্রয়-ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ওদিকে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের তুলনায় কমে গেছে আয়ের পরিমাণ। সব মিলিয়ে নির্বাচনী অর্থনীতির নতুন এ সমীকরণে নানামুখী সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের বাড়তি খরচ মেটাতে বাজারে ব্যাংকবহির্ভূত টাকার প্রবাহ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই কালো টাকা। এই টাকার প্রভাবে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ