প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরকারকে চিঠি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

যুগান্তর : অবশেষে সিলেটে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট’।

নবগঠিত এ রাজনৈতিক জোটকে ১৪ শর্তে আগামী ২৪ অক্টোবর সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)।

ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিকদল বিএনপির সিলেট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করে রোববার বলেন, ঐক্যফ্রন্টকে সিলেটে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষও বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ২৩ অক্টোবর সমাবেশের অনুমতি না দেয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই দিন যে স্থানে ঐক্যফ্রন্ট সমাবেশ করতে চেয়েছে, সেখানে আরেকটি সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়। যে কারণে তাদের একই তারিখে অনুমতি দেয়া হয়নি। ঐক্যফ্রন্টকে বেঁধে দেয়া ১৪ শর্তের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- রাষ্ট্রবিরোধী কোনো ধরনের বক্তব্য বা বিবৃতি দেয়া যাবে না, ধর্মীয় অনুভূতি বা মূল্যবোধের ওপর আঘাত হানে এ ধরনের কোনো বক্তব্য বা বিবৃতি প্রদান বা কোনো ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করা যাবে না এবং ২টা থেকে ৫টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করতে হবে।

এর আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশের অনুমতি চেয়ে দুই দফায় আবেদন করে সিলেট বিএনপি। গত ১৭ অক্টোবর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ২৩ অক্টোবর সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন এসএমপি কমিশনারের কাছে।

পরদিন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফোনে বিএনপি নেতাদের অনুমতি না দেয়ার বিষয়টি জানিয়ে দেন।

এরপর ফের একইস্থানে সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে ২০ অক্টোবর আবেদন করা হলেও কোনো সাড়া পায়নি বিএনপি। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার দুপুরে হাইকোর্টে রিট করেন বিএনপি নেতা আলী আহমদ।

আবেদনে সমাবেশের অনুমতি না দেয়া কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আর্জি জানানো হয়। এছাড়া সমাবেশ করতে দেয়ার আবেদনও করা হয়।

আজ এই রিটের শুনানির তারিখ ধার্য করেন আদালত। তবে তার আগেই পুলিশ সমাবেশের অনুমতি প্রদান করে।

এদিকে কেন্দ্রীয়ভাবে স্টিয়ারিং এবং সমন্বয় কমিটি গঠনের পর জেলায় জেলায়ও নিজেদের মধ্যে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলো।

রোববার বিকাল ৫টায় গণফোরামের আরামবাগের ইডেন কমপ্লেক্স কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে ২৪ অক্টৈাবর সিলেটে সমাবেশের কর্মসূচি পালন নিয়ে আলোচনা হয়। ড. কামাল হোসেন এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। প্রধান বক্তা থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এছাড়াও আগামী ২৬ অক্টোবর ঢাকার হোটেল পূর্বাণীতে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর বাইরে পূর্বঘোষিত চট্টগ্রাম, রাজশাহীতে কর্মসূচি পালন উপলক্ষে একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

বৈঠক থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় জামিন বাতিল করে রোববার তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা এ ঘটনার তীব্য নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, তফসিল ঘোষণার আগে সংলাপসহ ৭ দফা জানিয়ে শিগগিরই সরকারকে চিঠি দেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্টের বৈঠকের পর জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘সরকারকে আমরা দাবি জানাব যে, তফসিল ঘোষণার পূর্বে বৈঠক করার জন্য আমরা যারা অংশী, আমরা যারা শরিক, আমরা যারা নির্বাচন করতে চাই তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে যেন তফসিল ঘোষণা না করা হয়।

‌‘সেজন্য আমরা ৭ দফা দাবি সরকার ও সরকারি দলকে চিঠি দিয়ে জানাব। একইভাবে আমাদের দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনেও আমাদের একটি প্রতিনিধি দল যাবে।’

কবে সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে চিঠি দেবেন প্রশ্ন করা হলে রব বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্যাডে লিখিতভাবে ৭ দফা দাবি উপস্থাপন করে আমাদের প্রতিনিধির মাধ্যমে চিঠি যাবে। তবে কবে দেয়া হবে তা এখনও নির্ধারণ হয়নি। যতটুকু সিদ্ধান্ত হয়েছে তা আমি আপনাদেরকে বলেছি।’

তিনি বলেন, ‘আজকে সকালে চট্টগ্রামে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিলেটের জনসভার আগেই তার মুক্তি দাবি করছি।’

আ স ম রব জানান, আগামী ২৪ অক্টোবর সিলেটে রেজিস্ট্রি মাঠে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের উদ্যোগে জনসভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন ও প্রধান বক্তা থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এই জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি আমরা যেকোনো উপায়ে সিলেটে যাবই। আমাদের যাওয়ার ঘোষণাটায় সরকার বুঝেছে বাধা দিলে বাধবে লড়াই, এই লড়াইয়ে জিততে হবে। কোনো চাপের কাছে, কোনো স্বৈরাচারী আচরণের কাছে মাথানত করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এটা বুঝতে পেরে সরকার সিলেটের জনসভার এই অনুমতি দিয়েছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই তাদের এই শুভবুদ্ধির উদয় হওয়ার জন্য।’

আ স ম রব বলেন, ‘আমি আশা করি, আগামী ২৭ তারিখে চট্টগ্রামের জনসভারও তারা অনুমতি দেবে। রাজশাহীর জনসভার তারিখ ৩০ অক্টোবর থেকে পিছিয়ে ২ নভেম্বর করা হয়েছে।’

তিনি জানান, সুশীল সমাজ-বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় হবে ২৬ অক্টোবর বিকাল ৩টায় হোটেল পূর্বাণী। এছাড়া শিক্ষকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবে ফ্রন্ট। যার সময়সূচি নির্ধারণ হয়নি।

বৈঠকে গণস্বাস্থ্য সংস্থার ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপির পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মুনিরুল হক চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নেতা হাবীবুর রহমান হাবিব, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, কেন্দ্রীয় নেতা শহিদুদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম শফিকউল্লাহ, মোস্তাক হোসেন, রফিকুল ইসলাম পথিক, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম, ডা. জাহেদ উর রহমান, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার পক্ষে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ, আবম মোস্তফা আমিন প্রমুখ অংশ নেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু।

এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ধানমণ্ডিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিন একটি সমন্বয় কমিটি ও স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়।

এর মধ্যে সমন্বয় কমিটিতে বিএনপির পক্ষ থেকে রয়েছেন, বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, মনিরুল হক চৌধুরী ও হাবীবুর রহমান হাবিব।

নাগরিক ঐক্যের পক্ষ থেকে রাখা হয়েছে- শহীদুল্লাহ কায়সার, মমিনুল ইসলাম ও ডা. জাহেদ উর রহমানকে।

জেএসডির পক্ষ থেকে রয়েছেন- মিসেস তানিয়া রব, আব্দুল মালেক রতন ও শহিদুদ্দিন মাহমুদ স্বপন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে রয়েছেন, আ ও ম শফিকুল্লাহ, জগলুল হায়দার আফ্রিক ও মোস্তাক আহমেদ।

চট্টগ্রামে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছে ঐক্যফ্রন্ট : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে ঘোষিত সমাবেশের অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

আগামী ২৭ অক্টোবর নগরীর লালদীঘি ময়দানে এ সমাবেশ করতে চান ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। এ লক্ষ্যে অনুমতি চেয়ে রোববার দুপুরে সিএমপিতে আবেদন করেন ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।

এর আগে লালদীঘি ময়দান ব্যবহারের জন্য অনুমতি চেয়ে সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন করে বিএনপি। চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএস জিয়াউল হায়দার হেনরী বলেন, লালদীঘির ময়দানে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে সকালে আবেদন করা হয়। স্কুলের পক্ষ থেকে আমি লিখিতভাবে তাদের অনুমতি দিয়েছি।

তবে শর্ত রয়েছে- প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষেই কেবল সমাবেশ করা যাবে।

নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ-কমিশনার আবদুল ওয়ারিশ বলেন, লালদীঘির ময়দানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২৭ অক্টোবর সমাবেশ করতে চায় এ ধরনের একটি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনটি নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ